নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু এবং ডেঙ্গুতে দুজন মারা যায়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতাল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একজন হলেন- নাজমা শারমিন (৪৯)। তিনি সোমবার বিকেলে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া মঙ্গলবার ভোরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোরবান আলী রিফাত (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। নিহত কোরবান আলী রিফাত উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলীপাড়া গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে। সোমবার তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ৯৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩ হাজার ৬৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৯ জন। এর মধ্যে চমেকে মারা যাওয়া রিফাতের নাম এখনো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তালিকায় যোগ হয়নি। হাসপাতালের রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনের পর তা যুক্ত করা হবে।এ ছাড়া শনিবার সাজিনাস হাসপাতালের আইসিইউ থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথে মৃত্যু হওয়া অন্তসত্ত্বা নারী মণি আকতারের নামও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু প্রতিবেদনে আসেনি।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে দুজন উপজেলা পর্যায়ে এবং একজন মহানগরের হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়। এ নিয়ে সরকারিভাবে হাম বা উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়াল ২৫ জনে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২৫ জন হামের চিকিৎসা নিয়েছে।

জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন নাজমা শিরিণ আঁখি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুল। নয়াবাজারের সিলভার গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নাজমার শিক্ষা বিস্তারের সেই স্বপ্ন থেমে গেল ডেঙ্গুতে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর স্বজনেরা তাকে নিয়ে চারটি হাসপাতালে ছুটেছেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় গত সোমবার সকালে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাজমা শিরিণ।

গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন কার্যালয় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।নাজমা শিরিণ আঁখি নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন। তার স্বামী আহসান হাবিব সরকারি চাকরিজীবী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সিলভার গ্রামার স্কুলের অপর পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বাসায় জ্বরে আক্রান্ত হন নাজমা। দুই দিন পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। গত শনিবার তাকে প্রথমে মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শয্যা খালি না থাকায় তাকে হালিশহর সাউথ পয়েন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ওই হাসপাতালেও তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার দুপুরে নাজমাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রবিবার বিকেলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন সোমবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন শাহজাহান। মৃত্যুর পর সোমবার নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় নাজমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে মরদেহ কুমিল্লায় তার শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।নাজমার মেয়ে নিঝু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ছেলে স্বর্গ কলেজে পড়াশোনা করেন বলে জানা গেছে।

নাজমা শিরিণ আঁখি দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পরে মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ২০১২ সালে নয়াবাজার এলাকায় সিলভার গ্রামার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু এবং ডেঙ্গুতে দুজন মারা যায়। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাঠানো ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতাল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একজন হলেন- নাজমা শারমিন (৪৯)। তিনি সোমবার বিকেলে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া মঙ্গলবার ভোরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোরবান আলী রিফাত (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। নিহত কোরবান আলী রিফাত উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলীপাড়া গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে। সোমবার তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ৯৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩ হাজার ৬৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৯ জন। এর মধ্যে চমেকে মারা যাওয়া রিফাতের নাম এখনো সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তালিকায় যোগ হয়নি। হাসপাতালের রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনের পর তা যুক্ত করা হবে।এ ছাড়া শনিবার সাজিনাস হাসপাতালের আইসিইউ থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সময় পথে মৃত্যু হওয়া অন্তসত্ত্বা নারী মণি আকতারের নামও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু প্রতিবেদনে আসেনি।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে দুজন উপজেলা পর্যায়ে এবং একজন মহানগরের হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়। এ নিয়ে সরকারিভাবে হাম বা উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়াল ২৫ জনে। এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪২৫ জন হামের চিকিৎসা নিয়েছে।

জানা গেছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন নাজমা শিরিণ আঁখি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুল। নয়াবাজারের সিলভার গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নাজমার শিক্ষা বিস্তারের সেই স্বপ্ন থেমে গেল ডেঙ্গুতে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর স্বজনেরা তাকে নিয়ে চারটি হাসপাতালে ছুটেছেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় গত সোমবার সকালে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাজমা শিরিণ।

গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন কার্যালয় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।নাজমা শিরিণ আঁখি নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন। তার স্বামী আহসান হাবিব সরকারি চাকরিজীবী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সিলভার গ্রামার স্কুলের অপর পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বাসায় জ্বরে আক্রান্ত হন নাজমা। দুই দিন পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। গত শনিবার তাকে প্রথমে মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শয্যা খালি না থাকায় তাকে হালিশহর সাউথ পয়েন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ওই হাসপাতালেও তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার দুপুরে নাজমাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রবিবার বিকেলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন সোমবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন শাহজাহান। মৃত্যুর পর সোমবার নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় নাজমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাতে মরদেহ কুমিল্লায় তার শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।নাজমার মেয়ে নিঝু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ছেলে স্বর্গ কলেজে পড়াশোনা করেন বলে জানা গেছে।

নাজমা শিরিণ আঁখি দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পরে মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ২০১২ সালে নয়াবাজার এলাকায় সিলভার গ্রামার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।