১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর গভীর অনিশ্চয়তা ও চক্রান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা। সেদিন ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পাঁচ দশক পর আজ এ দিবসের মূল তাৎপর্য দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামের বিশ্লেষণে, ৭ নভেম্বর কেবল একটি স্মারক ঘটনা নয়; এটি মূলত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং উৎপাদনমুখী স্বনির্ভর রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এক পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তার সূচনাবিন্দু।

একটি রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা টিকে থাকে তার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার ওপর। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের সূচনালগ্নে ভেঙে পড়া সেই প্রশাসনিক ও সামরিক শৃঙ্খলাকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রকে একটি দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছিল সিপাহি-জনতার সম্মিলিত উত্থান। শহীদ জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে ক্ষুধা ও বেকারত্ব জিইয়ে রেখে স্থায়ী স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। তাই শৃঙ্খলার পাশাপাশি তিনি দ্রুত কৃষি, উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। আজকের বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও জনপ্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করাই এই সংহতির চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রধান উপায়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রপরিচালনায় এই চেতনার ধারাবাহিক প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ (3R) কৌশলে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি, যার লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার সাধন। এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের বাস্তব রূপরেখা হলো ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’। একই সঙ্গে আইনের শাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে নীতিনির্ভর শাসন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা জোরদার করা সম্ভব।

একদলীয় শাসনের বদ্ধ পরিমণ্ডল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাও ৭ নভেম্বরের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। রাজনৈতিক দলের মুক্ত চর্চা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভিন্নমতের সহাবস্থানে বিশ্বাসী শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও প্রতিপক্ষের জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত রেখেছিলেন এবং গ্রাম সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষকে সং সং যুক্ত করেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী, স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিকভাবে সক্ষম স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা, জাতীয় সংসদকে রাজনীতির প্রকৃত কেন্দ্রে পরিণত করা এবং তরুণ সমাজকে যুক্ত করাই গণতন্ত্র টেকসই করার মূল ভিত্তি।

জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি প্রস্তুত করেছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা ধর্ম, ভাষা ও নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল নাগরিককে একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করে। এই ঐক্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল ১৯ দফা কর্মসূচি, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন এবং ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’-এর ডাক। এর ধারাবাহিকতায় বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও তৈরি পোশাকশিল্পের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তা আজও দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য চলতি মেয়াদেই সব নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত না হওয়ার পর চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয় এবং সাধারণ ছুটি পুনর্বহাল করা হয়। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি এই ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রনীতির মূলধারায় যুক্ত করেন। এর অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে স্বৈরশাসন টিকতে পারে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনে করেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য, স্থিতিশীলতায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্র—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যার বার্তা নতুন প্রজন্মের পাঠক্রম ও মুক্ত আলোচনায় পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর গভীর অনিশ্চয়তা ও চক্রান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা। সেদিন ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পাঁচ দশক পর আজ এ দিবসের মূল তাৎপর্য দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্রের বিকাশ ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামের বিশ্লেষণে, ৭ নভেম্বর কেবল একটি স্মারক ঘটনা নয়; এটি মূলত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং উৎপাদনমুখী স্বনির্ভর রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এক পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রচিন্তার সূচনাবিন্দু।

একটি রাষ্ট্রের সার্বিক স্থিতিশীলতা টিকে থাকে তার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার ওপর। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের সূচনালগ্নে ভেঙে পড়া সেই প্রশাসনিক ও সামরিক শৃঙ্খলাকে পুনরায় ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রকে একটি দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়েছিল সিপাহি-জনতার সম্মিলিত উত্থান। শহীদ জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে ক্ষুধা ও বেকারত্ব জিইয়ে রেখে স্থায়ী স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। তাই শৃঙ্খলার পাশাপাশি তিনি দ্রুত কৃষি, উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। আজকের বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও জনপ্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করাই এই সংহতির চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রধান উপায়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রপরিচালনায় এই চেতনার ধারাবাহিক প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের ‘থ্রি-আর’ (3R) কৌশলে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি, যার লক্ষ্য স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার সাধন। এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের বাস্তব রূপরেখা হলো ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’। একই সঙ্গে আইনের শাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে নীতিনির্ভর শাসন এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা জোরদার করা সম্ভব।

একদলীয় শাসনের বদ্ধ পরিমণ্ডল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রাও ৭ নভেম্বরের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। রাজনৈতিক দলের মুক্ত চর্চা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভিন্নমতের সহাবস্থানে বিশ্বাসী শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও প্রতিপক্ষের জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত রেখেছিলেন এবং গ্রাম সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষকে সং সং যুক্ত করেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী, স্বায়ত্তশাসিত ও আর্থিকভাবে সক্ষম স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা, জাতীয় সংসদকে রাজনীতির প্রকৃত কেন্দ্রে পরিণত করা এবং তরুণ সমাজকে যুক্ত করাই গণতন্ত্র টেকসই করার মূল ভিত্তি।

জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি প্রস্তুত করেছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা ধর্ম, ভাষা ও নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল নাগরিককে একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করে। এই ঐক্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল ১৯ দফা কর্মসূচি, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন এবং ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’-এর ডাক। এর ধারাবাহিকতায় বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও তৈরি পোশাকশিল্পের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তা আজও দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য চলতি মেয়াদেই সব নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত না হওয়ার পর চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করা হয় এবং সাধারণ ছুটি পুনর্বহাল করা হয়। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি এই ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রনীতির মূলধারায় যুক্ত করেন। এর অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে স্বৈরশাসন টিকতে পারে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনে করেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য, স্থিতিশীলতায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং অগ্রগতির জন্য গণতন্ত্র—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যার বার্তা নতুন প্রজন্মের পাঠক্রম ও মুক্ত আলোচনায় পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।