একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি কোথায়? তা কি হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে, নাকি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অগণিত সাধারণ কর্মী-সমর্থকের মধ্যে? রাজনৈতিক ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, নেতৃত্ব দলের দিকনির্দেশনা দিলেও সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয় তৃণমূলে। বিএনপির ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দলটির শক্তি কেবল জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্থাশীল তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই দলটির সাংগঠনিক ভিত্তির প্রধান স্তম্ভ।

বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পথপরিক্রমায় জাতীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনী প্রচারণা কিংবা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তাদের শ্রম, সময় ও ব্যক্তিগত জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাসের বড় বড় অধ্যায়ে নেতাদের নাম থাকলেও, সেই ইতিহাসের ভিত নির্মাণ করেছেন অসংখ্য নাম না-জানা মানুষ। দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় এই ত্যাগের ইতিহাস আরও বেদনাবিধুর হয়ে উঠেছে। কত বাবা-মা সন্তান হারিয়েছেন, কত পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, কত মানুষ ব্যবসা, চাকরি ও পদোন্নতি হারিয়েছেন—তা এক একটি সংগ্রামের গল্প।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকালে দেখা যায়, যে বয়সে তাদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সে বয়সে তারা রাজপথে ছিলেন। মামলা-মোকদ্দমা, কারাবরণ কিংবা চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তারা আজ অনিশ্চয়তার মুখে। তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়; তারা চান তাদের বঞ্চনার স্বীকৃতি, ন্যায্য প্রতিকার এবং রাষ্ট্রের মানবিক বিবেচনা। যারা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আইনসম্মত ও বাস্তবসম্মত প্রতিকার খুঁজে বের করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য একটি স্বচ্ছ তথ্যভান্ডার তৈরি করা যেতে পারে। চাকরির বয়সসীমা হারানো, ব্যবসায়িক ক্ষতি, পেশাগত বঞ্চনা ও পারিবারিক সংকট আলাদাভাবে চিহ্নিত করে পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সহমর্মিতা মানে অন্যায় সুবিধা দেওয়া নয়, বরং যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ খুঁজে দেওয়া। নেতৃত্বের মর্যাদা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সাধারণ কর্মী নিজেকে সম্মানিত ও নিরাপদ মনে করেন। সামনে জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা দলের জন্য অপরিহার্য।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জেলা ও বিভাগভিত্তিক তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করা যেতে পারে। এসব সমাবেশে শুধু বক্তৃতা নয়, বরং কর্মীদের কথা শোনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের সরাসরি সংলাপ সাংগঠনিক দূরত্ব কমাবে এবং আস্থার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে। এমন আয়োজনকে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রবণব্যবস্থায় রূপ দেওয়া উচিত, যেখানে কর্মীদের অভিযোগ ও প্রস্তাব নথিবদ্ধ হবে।

তবে পরিবর্তনের কাজ কেবল কর্মীদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শুরু করতে হবে নেতৃত্বের আচরণ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বিনয়, সহনশীলতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্তই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানদণ্ড তৈরি করবে। রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মানুষের সঙ্গে আচরণের বিষয়। প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, বৈষম্যের পরিবর্তে সমান সুযোগ এবং ক্ষমতার দম্ভের পরিবর্তে সেবার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। দেশ বদলাতে হলে সমাজ ও মানুষের চিন্তা বদলাতে হবে, আর এই পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে ক্ষমতার সর্বোচ্চ কেন্দ্র থেকে।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি কোথায়? তা কি হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে, নাকি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা অগণিত সাধারণ কর্মী-সমর্থকের মধ্যে? রাজনৈতিক ইতিহাসের অভিজ্ঞতা বলে, নেতৃত্ব দলের দিকনির্দেশনা দিলেও সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয় তৃণমূলে। বিএনপির ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। দলটির শক্তি কেবল জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্থাশীল তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই দলটির সাংগঠনিক ভিত্তির প্রধান স্তম্ভ।

বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পথপরিক্রমায় জাতীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচনী প্রচারণা কিংবা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তাদের শ্রম, সময় ও ব্যক্তিগত জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাসের বড় বড় অধ্যায়ে নেতাদের নাম থাকলেও, সেই ইতিহাসের ভিত নির্মাণ করেছেন অসংখ্য নাম না-জানা মানুষ। দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় এই ত্যাগের ইতিহাস আরও বেদনাবিধুর হয়ে উঠেছে। কত বাবা-মা সন্তান হারিয়েছেন, কত পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, কত মানুষ ব্যবসা, চাকরি ও পদোন্নতি হারিয়েছেন—তা এক একটি সংগ্রামের গল্প।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকালে দেখা যায়, যে বয়সে তাদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সে বয়সে তারা রাজপথে ছিলেন। মামলা-মোকদ্দমা, কারাবরণ কিংবা চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তারা আজ অনিশ্চয়তার মুখে। তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়; তারা চান তাদের বঞ্চনার স্বীকৃতি, ন্যায্য প্রতিকার এবং রাষ্ট্রের মানবিক বিবেচনা। যারা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আইনসম্মত ও বাস্তবসম্মত প্রতিকার খুঁজে বের করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য একটি স্বচ্ছ তথ্যভান্ডার তৈরি করা যেতে পারে। চাকরির বয়সসীমা হারানো, ব্যবসায়িক ক্ষতি, পেশাগত বঞ্চনা ও পারিবারিক সংকট আলাদাভাবে চিহ্নিত করে পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সহমর্মিতা মানে অন্যায় সুবিধা দেওয়া নয়, বরং যারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ খুঁজে দেওয়া। নেতৃত্বের মর্যাদা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সাধারণ কর্মী নিজেকে সম্মানিত ও নিরাপদ মনে করেন। সামনে জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা দলের জন্য অপরিহার্য।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জেলা ও বিভাগভিত্তিক তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করা যেতে পারে। এসব সমাবেশে শুধু বক্তৃতা নয়, বরং কর্মীদের কথা শোনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের সরাসরি সংলাপ সাংগঠনিক দূরত্ব কমাবে এবং আস্থার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে। এমন আয়োজনকে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রবণব্যবস্থায় রূপ দেওয়া উচিত, যেখানে কর্মীদের অভিযোগ ও প্রস্তাব নথিবদ্ধ হবে।

তবে পরিবর্তনের কাজ কেবল কর্মীদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শুরু করতে হবে নেতৃত্বের আচরণ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বিনয়, সহনশীলতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্তই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানদণ্ড তৈরি করবে। রাষ্ট্র পরিচালনা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মানুষের সঙ্গে আচরণের বিষয়। প্রতিহিংসার পরিবর্তে ন্যায়বিচার, বৈষম্যের পরিবর্তে সমান সুযোগ এবং ক্ষমতার দম্ভের পরিবর্তে সেবার মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। দেশ বদলাতে হলে সমাজ ও মানুষের চিন্তা বদলাতে হবে, আর এই পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে ক্ষমতার সর্বোচ্চ কেন্দ্র থেকে।