গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার ইউরেনিয়ামের চালান পৌঁছেছে। শুক্রবার সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে পারমাণবিক জ্বালানির এই চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
এবার ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছায়। পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এই রুটটি এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটল জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থেই বিকল্প এই রুট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাত। এই চালানটিসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গো বিমানে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৯টি চালানে এই পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে।




