সরকারি আবাসন থেকে অননুমোদিত সাবলেট ও ভাড়াটেদের সরাতে এবার সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানে নামছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরও যেসব সরকারি চাকরিজীবী নিজেদের বরাদ্দ পাওয়া বাসায় ভাড়াটে রেখে দিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে বলে পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পরিদপ্তরের পাঁচটি বিশেষ তদন্ত দল ইতিমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। কোন কোন সরকারি ফ্ল্যাটে এখনো বাইরের লোক থাকছেন এবং কারা বাসা ছেড়েছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বাসা ছাড়ার জরুরি নোটিশ দেওয়ার পর অনেকে ভাড়াটে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এখনো ভাড়াটে থেকে যাওয়ার খবর মিলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অভিযুক্ত চাকরিজীবীদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর একটি কড়া গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসার সব সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজের বাসায় বসবাসের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের পর ভাড়াটে পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এই নোটিশের পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়াটার্সসহ বিভিন্ন সরকারি আবাসন এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ বেশ কিছু ভাড়াটেকে তাড়াহুড়ো করে তড়িঘড়ি করে বাসা ছাড়তে দেখা যায়।

হঠাৎ মাত্র এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ায় বিপাকে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ভাড়াটে। তাঁদের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা সেখানে থাকার সময় মৌখিক চুক্তি করেছিলেন, যেখানে বাসা ছাড়তে হলে অন্তত দুই মাস আগে জানানোর নিয়ম ছিল। চুক্তি না মেনে মাত্র এক দিনের নোটিশে সরে যেতে বলায় তাঁরা চরম সংকটে পড়েন এবং আবাসন ছাড়তে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। বছরের পর বছর ধরে চাকরিজীবীদের নিজে না থেকে অন্যকে সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়ার অনিয়ম চলে আসছিল।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীর ২৭টি এলাকায় সর্বমোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, আজিমপুর, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর এবং আগারগাঁও।

রাজধানীর আবাসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে আজিমপুরে, যার সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৪টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে মিরপুরের পাইকপাড়ায়। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে ১ হাজার ১১২টি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে।

রাজধানীর মোট সরকারি বাসাগুলোর শ্রেণিভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সচিবদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো। এ ছাড়া গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি, গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে। অন্যদিকে কেবল গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ৭৭৫টি ফ্ল্যাট। নিম্নতর গ্রেডের মধ্যে ১২ ও ১৩তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট।

সরকারি আবাসন থেকে অননুমোদিত সাবলেট ও ভাড়াটেদের সরাতে এবার সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানে নামছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হওয়ার পরও যেসব সরকারি চাকরিজীবী নিজেদের বরাদ্দ পাওয়া বাসায় ভাড়াটে রেখে দিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। যৌক্তিক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে বলে পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

পরিদপ্তরের পাঁচটি বিশেষ তদন্ত দল ইতিমধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। কোন কোন সরকারি ফ্ল্যাটে এখনো বাইরের লোক থাকছেন এবং কারা বাসা ছেড়েছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বাসা ছাড়ার জরুরি নোটিশ দেওয়ার পর অনেকে ভাড়াটে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এখনো ভাড়াটে থেকে যাওয়ার খবর মিলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অভিযুক্ত চাকরিজীবীদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর একটি কড়া গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসার সব সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজের বাসায় বসবাসের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের পর ভাড়াটে পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এই নোটিশের পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়াটার্সসহ বিভিন্ন সরকারি আবাসন এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ বেশ কিছু ভাড়াটেকে তাড়াহুড়ো করে তড়িঘড়ি করে বাসা ছাড়তে দেখা যায়।

হঠাৎ মাত্র এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার নির্দেশ পাওয়ায় বিপাকে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ভাড়াটে। তাঁদের মধ্যে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা সেখানে থাকার সময় মৌখিক চুক্তি করেছিলেন, যেখানে বাসা ছাড়তে হলে অন্তত দুই মাস আগে জানানোর নিয়ম ছিল। চুক্তি না মেনে মাত্র এক দিনের নোটিশে সরে যেতে বলায় তাঁরা চরম সংকটে পড়েন এবং আবাসন ছাড়তে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। বছরের পর বছর ধরে চাকরিজীবীদের নিজে না থেকে অন্যকে সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়ার অনিয়ম চলে আসছিল।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীর ২৭টি এলাকায় সর্বমোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, আজিমপুর, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর এবং আগারগাঁও।

রাজধানীর আবাসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে আজিমপুরে, যার সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৪টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে মিরপুরের পাইকপাড়ায়। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে ১ হাজার ১১২টি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে।

রাজধানীর মোট সরকারি বাসাগুলোর শ্রেণিভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সচিবদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো। এ ছাড়া গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি, গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে। অন্যদিকে কেবল গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ৭৭৫টি ফ্ল্যাট। নিম্নতর গ্রেডের মধ্যে ১২ ও ১৩তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট।