আগামীকাল সোমবার বিকেলে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে দেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনজীবনের সংকট নিয়ে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ ও ১৪৭ ধারাসহ বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়। এছাড়া পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়েও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা মূলত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, পোশাকশিল্পের অস্থিরতা, জ্বালানিসংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে চান। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সই হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে চলায়, চুক্তিটি নবায়ন হবে নাকি নতুন করে করা হবে—তা নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইবেন বিরোধী দলের সদস্যরা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত ২ নভেম্বর জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকার চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়েও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায় জামায়াত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) জানিয়েছেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং বন্দর কারা ব্যবহার করবে—এসব বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা স্পষ্ট করতে তাঁরা সংসদে আলোচনা তুলবেন। এর আগে ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, কানেকটিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না এবং মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, তা জাতিকে পরিষ্কার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর এবং জাইকার সঙ্গে বৈঠকের পর এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিরোধী দল বাড়তি নজর দিচ্ছে।
পোশাকশিল্পের অস্থিরতা নিরসনেও সংসদে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি এবং কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের মতো ঘটনাগুলো সংসদে তুলে ধরে শিল্পের স্থিতিশীলতা ফেরানোর উপায় জানতে চাইবেন তাঁরা। এছাড়া জ্বালানিসংকট, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও সরকারের কাছে জবাব চাওয়া হবে। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও, যতটুকু সুযোগ পাওয়া যায় তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান (মুমেন)।




