যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন যে একক কোনো মতাদর্শে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মিলছে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে দেশটির কয়েকজন রাজনীতিকের দৃঢ় অবস্থানে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাজায় যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন। যদিও তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক পথ ভিন্ন, তবুও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির পরিবর্তনের দাবিতে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতায় এক গভীর মিল লক্ষ্য করা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ ৮৪ বছর বয়সি বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার। ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে কাজ করা এই স্বতন্ত্র রাজনীতিক ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বলে অভিহিত করেন। স্যান্ডার্স শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের মার্কিন বোমা বিক্রির প্রস্তাব ঠেকাতে সিনেটে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার দাবি, ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে।

নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচয় ও ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান আড়াল করেননি। উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সি এই নেতা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি বিডিএস আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তবে তার অবস্থান ঘিরে বিতর্কও রয়েছে; ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে দেওয়া বিবৃতিতে ইহুদিদের শোকের প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) তার সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনপন্থি কিছু কর্মীও তার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান ৪২ বছর বয়সি চিকিৎসক আবদুল আল-সাইয়েদ ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মিশিগান থেকে নির্বাচিত এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে ইসরাইলে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে বর্ণবৈষম্যমূলক ও গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেড ক্রুজের মতো রিপাবলিকান নেতাদের আক্রমণের শিকার হলেও তিনি অনড় থেকেছেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। জয়ের পর তিনি স্পষ্ট করেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের ভূমিতে বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে কথা বলা কোনো ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসার প্রকাশ।

এই তিন রাজনীতিকের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল ও প্রেক্ষাপট আমেরিকান সমাজের বহুমাত্রিক চরিত্রের প্রতিফলন। ক্ষমতার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং মানবাধিকারের পক্ষে নিজ বিশ্বাস প্রকাশ করার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সমাজের ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগেরই দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন যে একক কোনো মতাদর্শে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মিলছে ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে দেশটির কয়েকজন রাজনীতিকের দৃঢ় অবস্থানে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগান থেকে নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাজায় যুদ্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইসরাইলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরব রয়েছেন। যদিও তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক পথ ভিন্ন, তবুও ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির পরিবর্তনের দাবিতে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতায় এক গভীর মিল লক্ষ্য করা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ ৮৪ বছর বয়সি বার্নি স্যান্ডার্স ইসরায়েলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার। ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে কাজ করা এই স্বতন্ত্র রাজনীতিক ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বলে অভিহিত করেন। স্যান্ডার্স শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ তিনি ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৬৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের মার্কিন বোমা বিক্রির প্রস্তাব ঠেকাতে সিনেটে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার দাবি, ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে।

নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র জোহরান মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচয় ও ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান আড়াল করেননি। উগান্ডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সি এই নেতা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র। তিনি বিডিএস আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তবে তার অবস্থান ঘিরে বিতর্কও রয়েছে; ৭ অক্টোবরের হামলার বার্ষিকীতে দেওয়া বিবৃতিতে ইহুদিদের শোকের প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) তার সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনপন্থি কিছু কর্মীও তার দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান ৪২ বছর বয়সি চিকিৎসক আবদুল আল-সাইয়েদ ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মিশিগান থেকে নির্বাচিত এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে ইসরাইলে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে বর্ণবৈষম্যমূলক ও গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেড ক্রুজের মতো রিপাবলিকান নেতাদের আক্রমণের শিকার হলেও তিনি অনড় থেকেছেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। জয়ের পর তিনি স্পষ্ট করেন, ফিলিস্তিনি শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের ভূমিতে বেঁচে থাকার অধিকারের পক্ষে কথা বলা কোনো ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসার প্রকাশ।

এই তিন রাজনীতিকের ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল ও প্রেক্ষাপট আমেরিকান সমাজের বহুমাত্রিক চরিত্রের প্রতিফলন। ক্ষমতার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং মানবাধিকারের পক্ষে নিজ বিশ্বাস প্রকাশ করার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সমাজের ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগেরই দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।