সাম্প্রতিক সামাজিক ও গণমাধ্যম সংস্কৃতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে চিত্রনায়িকা পরীমনির গালাগালি এবং সংবাদমাধ্যমের ‘স্যরি’ বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতার মধ্যে এক গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট নিয়ন মতিয়ূল। তাঁর মতে, গালাগালি যেমন একজন মানুষের আত্মরক্ষার হাতিয়ার, ঠিক তেমনি মহত্বের অজুহাতে ক্ষমা চাওয়াটাও গণমাধ্যমের এক ধরনের আত্মরক্ষা বা প্রটেকশন সিকিং।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দৈনন্দিন জীবনে স্ল্যাং বা গালাগালির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে স্ল্যাং প্রমোট করায় তিনি এক সহকর্মীকে ব্লক করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে টিনেজারদের মুখে যত্রতত্র অশালীন শব্দ শুনে অনুধাবন করেন যে, ক্ষোভের আবেগীয় নির্গমন হিসেবেই অনেকে গালাগালিকে ব্যবহার করে থাকে। ডিবিসির রাজীব ঘোষ আটক হওয়ার পর প্রবাস থেকে এক উপস্থাপিকার পোস্ট এবং দেশ থেকে অন্য এক নারী উপস্থাপকের পাল্টা জবাবের ঘটনা টেনে তিনি মিডিয়া অঙ্গনের ভেতরের শালীনতার চর্চা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আদালতে পরীমনির জামিন বাতিল, পরোয়ানা জারি বা ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিনের মতো আইনি খবরের চেয়ে ক্যামেরার নজর ছিল তার শারীরিক আবেদন ও ফেস এক্সপ্রেশনের দিকে। নিয়ন মতিয়ূল উল্লেখ করেন, ফেসবুক ফলোয়ারের দিক থেকে প্রথম আলোর ২ কোটি ৩০ লাখ, যুগান্তরের ১ কোটি ৩০ লাখ এবং সমকালের ৭৭ লাখ অনুসরণের বিপরীতে পরীমনির একারই ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ফলে ভিউবাণিজ্যের এই প্রতিযোগিতায় মোবাইল জার্নালিস্ট বা মোজোরা পরীমনির খবরের পেছনে তেড়ে যান।

প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের নামে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং বেড-পার্টনারের পরিসংখ্যান হাজির করাকে সাংবাদিকতার পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেন এই বিশ্লেষক। তাঁর মতে, নৈতিক সাংবাদিকতার এই ব্যর্থতায় মূল ধারার সাংবাদিকতা নীরব থাকে, অথচ অভিযুক্তকে ঘিরে তীব্র যৌন উত্তেজনাকর খবরের জোয়ার তৈরি করা হয়। মোজো সাংবাদিকতা এখন ক্লিকবেইট ও ভিউ-চালিত অ্যাক্টিভিজমে পরিণত হয়েছে এবং প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে তারুণ্যভিত্তিক উদ্যোগে বেশি মনোযোগী।

দেশের বিনোদন বিট ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন না করে শুধু তারকাদের নিয়ে ব্যবসা করছে এবং বিগত সাড়ে পাঁচ দশকেও রাজনীতি বিট অপরাজনীতি প্রতিরোধ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন বা সাংবাদিক ফোরামগুলো দালালবাজির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভেতরের ব্যবস্থাপনা সমালোচনা করে নিয়ন মতিয়ূল বলেন, বড় বড় মিডিয়ার সম্পাদকদের মধ্যে ব্রিটিশ শাসকদের মতো কানকথা শোনা, জাজমেন্টাল হওয়া এবং তোষামোদের সংস্কৃতি বিদ্যমান। সেকেলে নিউজ ম্যানেজমেন্টে অভ্যস্ত এসব সম্পাদক আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে অক্ষম। ফলে নিজেদের ব্যর্থতা ও চটুলতা ঢাকতে গণমাধ্যম যেভাবে ‘স্যরি’ বলে, তার সঙ্গে পরীমনির গালি দেওয়ার মনস্তত্ত্বের অদ্ভুত সমান্তরালতা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সামাজিক ও গণমাধ্যম সংস্কৃতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে চিত্রনায়িকা পরীমনির গালাগালি এবং সংবাদমাধ্যমের ‘স্যরি’ বা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতার মধ্যে এক গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট নিয়ন মতিয়ূল। তাঁর মতে, গালাগালি যেমন একজন মানুষের আত্মরক্ষার হাতিয়ার, ঠিক তেমনি মহত্বের অজুহাতে ক্ষমা চাওয়াটাও গণমাধ্যমের এক ধরনের আত্মরক্ষা বা প্রটেকশন সিকিং।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দৈনন্দিন জীবনে স্ল্যাং বা গালাগালির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে স্ল্যাং প্রমোট করায় তিনি এক সহকর্মীকে ব্লক করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে টিনেজারদের মুখে যত্রতত্র অশালীন শব্দ শুনে অনুধাবন করেন যে, ক্ষোভের আবেগীয় নির্গমন হিসেবেই অনেকে গালাগালিকে ব্যবহার করে থাকে। ডিবিসির রাজীব ঘোষ আটক হওয়ার পর প্রবাস থেকে এক উপস্থাপিকার পোস্ট এবং দেশ থেকে অন্য এক নারী উপস্থাপকের পাল্টা জবাবের ঘটনা টেনে তিনি মিডিয়া অঙ্গনের ভেতরের শালীনতার চর্চা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

আদালতে পরীমনির জামিন বাতিল, পরোয়ানা জারি বা ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিনের মতো আইনি খবরের চেয়ে ক্যামেরার নজর ছিল তার শারীরিক আবেদন ও ফেস এক্সপ্রেশনের দিকে। নিয়ন মতিয়ূল উল্লেখ করেন, ফেসবুক ফলোয়ারের দিক থেকে প্রথম আলোর ২ কোটি ৩০ লাখ, যুগান্তরের ১ কোটি ৩০ লাখ এবং সমকালের ৭৭ লাখ অনুসরণের বিপরীতে পরীমনির একারই ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ফলে ভিউবাণিজ্যের এই প্রতিযোগিতায় মোবাইল জার্নালিস্ট বা মোজোরা পরীমনির খবরের পেছনে তেড়ে যান।

প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের নামে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং বেড-পার্টনারের পরিসংখ্যান হাজির করাকে সাংবাদিকতার পরাজয় হিসেবে বর্ণনা করেন এই বিশ্লেষক। তাঁর মতে, নৈতিক সাংবাদিকতার এই ব্যর্থতায় মূল ধারার সাংবাদিকতা নীরব থাকে, অথচ অভিযুক্তকে ঘিরে তীব্র যৌন উত্তেজনাকর খবরের জোয়ার তৈরি করা হয়। মোজো সাংবাদিকতা এখন ক্লিকবেইট ও ভিউ-চালিত অ্যাক্টিভিজমে পরিণত হয়েছে এবং প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠতার চেয়ে তারুণ্যভিত্তিক উদ্যোগে বেশি মনোযোগী।

দেশের বিনোদন বিট ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন না করে শুধু তারকাদের নিয়ে ব্যবসা করছে এবং বিগত সাড়ে পাঁচ দশকেও রাজনীতি বিট অপরাজনীতি প্রতিরোধ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন বা সাংবাদিক ফোরামগুলো দালালবাজির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ভেতরের ব্যবস্থাপনা সমালোচনা করে নিয়ন মতিয়ূল বলেন, বড় বড় মিডিয়ার সম্পাদকদের মধ্যে ব্রিটিশ শাসকদের মতো কানকথা শোনা, জাজমেন্টাল হওয়া এবং তোষামোদের সংস্কৃতি বিদ্যমান। সেকেলে নিউজ ম্যানেজমেন্টে অভ্যস্ত এসব সম্পাদক আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে অক্ষম। ফলে নিজেদের ব্যর্থতা ও চটুলতা ঢাকতে গণমাধ্যম যেভাবে ‘স্যরি’ বলে, তার সঙ্গে পরীমনির গালি দেওয়ার মনস্তত্ত্বের অদ্ভুত সমান্তরালতা রয়েছে।