বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে আগামী ডিসেম্বর মাসে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংস্থাটি বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা পরিচালনা করছে, যা আগামী ৯ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নতুন নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের রূপরেখা তৈরি করছে এনটিআরসিএ।
প্রচলিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় এবার বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে কেবল প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পুরনো ব্যবস্থার বদলে এবার সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা না হয়ে এটি ‘নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা’ নামে পরিচিত হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, যার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের মার্চে। সেই দীর্ঘ বিরতির পর নতুন শিক্ষক নিয়োগের এ প্রস্তুতি চলছে।
প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা মোট তিন ধাপে আয়োজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার সঙ্গে নতুন করে লিখিত পরীক্ষাও যুক্ত করার কথা রয়েছে। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে, যার সময়সীমা এক ঘণ্টা। এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই চার বিষয়ে ২৫ নম্বর করে বণ্টন করা হতে পারে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। প্রিলিমিনারিতে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বরকে পাস নম্বর হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দ্বিতীয় ধাপে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যার জন্য ৩ ঘণ্টা সময় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর লিখিত পরীক্ষায় সফল হওয়াদের শেষ ধাপে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় বসতে হবে। তবে এই সামগ্রিক নম্বর বণ্টন, পরীক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিধিমালা সংশোধন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পর এনটিআরসিএ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।




