নুরুল ইসলাম : দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর এলাকায় ১শ মিটারের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে অন্তত ৯টি করাতকল। অভিজ্ঞ মহলের মতে সরকারী নিয়ম-নীতি ও আদেশ নির্দেশ উপেক্ষা করে স্থাপন করা হয়েছে এসব করাতকল। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বনাঞ্চলের অদূরেও অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে শ’খানেক করাতকল। অভিজ্ঞ মহলের মতে দীর্ঘদিন থেকে এসব করাতকল চালু থাকলেুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এসব অবৈধ করাতকলের কারণে একদিকে যেমন ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মহাসড়ক ও বনের পাশে এভাবে লাইসেন্স ও ছাড়পত্রবিহীন অবৈধ করাতকল গড়ে উঠেছে। আর বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ‘শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চলের পাশে দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল অবাধে চললেও নেই কোন কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
এতে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। জানা যায়, উপজেলার আধুনগর বাজারের ১শ মিটারের মধ্যে অবৈধভাবে স্থাপিত করাতকলে বনজ সম্পদ লুটেরারা চুনতি রেঞ্জের বনাঞ্চলের সেগুন ও আকাশমনিসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে করাতকলগুলোতে জমা করে রাখে।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ফার্নিচার মার্কেট এলাকায় প্রায় ৫শ ফার্নিচার তৈরীর দোকান রয়েছে। ফার্নিচার তৈরি করার জন্য সে এলাকার অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে করাতকলগুলো। তাছাড়া চুনতি, বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, পদুয়া, চরম্বা, কলাউজান, পুটিবিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও চুনতি অভয়ারণ্যে এলাকার পাশে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ করাতকল পরিচালনা করে যাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। অন্যদিকে অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।
করাতকলের মালিক পক্ষ বলছেন, করাতকল পরিচালনা করার জন্য কিছু কিছু দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এরমধ্যে এক দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলেও অন্য দপ্তর থেকে অনুমোদন দেয় না। তাই এভাবেই চলছে করাতকলগুলো।




