*রাজনীতির প্রভাব, কাগজে-কলমে ক্রীড়া আয়োজন ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন?

ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)—নামেই যার মূল পরিচয় ক্রীড়া। উদ্দেশ্য খেলাধুলার বিকাশ, নতুন খেলোয়াড় তৈরি, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? সরকারি অর্থ, ক্রীড়া অবকাঠামো ও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ খেলোয়াড়দের কতটা উপকার হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন সামনে আসা জরুরি। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের পর থেকে মূলত খেলোয়ারদের নিয়মিত প্রশিক্ষন নেই। সাবেক দায়িত্ববানরা চলে যাওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি না থাকায় ঢিমেতালে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনৈক ক্রীড়াবিদ এ প্রতিবেদকে জানান, ইতোমধ্যে ক্রীড়বিদ বা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ঠ নয় এমন ব্যক্তিও এ সংগঠনের পদ পদবীর জন্য চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিট তখমা সংবলিত ব্যানার পোস্টার দৃশ্যমান হচ্ছে। যা নগরবাসী এ ধরনের খেলা নিয়ে নোংরা রাজনীতি আশা করেনি।

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ডে ক্রীড়ার চেয়ে বিভিন্ন মহলের প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কতজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ, কতজন নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ক্রীড়া উন্নয়নে তাঁদের বাস্তব অবদান কতটুকু—এসব বিষয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেখা যায়, যাঁদের সরাসরি খেলোয়াড় বা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে খেলোয়াড় তৈরির বদলে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণই কখনো কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কাগজে অনেক আয়োজন, মাঠে কতটা?

জেলা ক্রীড়া সংস্থার আওতায় বিভিন্ন খেলায় আয়োজন ও প্রতিযোগিতার কথা থাকলেও এসব কর্মসূচির কতটি নিয়মিত মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, কতজন খেলোয়াড় অংশ নেন এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি রয়েছে।

কোনো একটি প্রতিযোগিতার নাম ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে থাকলেই কি সেটি বাস্তবে আয়োজন করা হয়েছে? প্রতিযোগিতা হলে সেখানে কতজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন? তাদের প্রশিক্ষণ, মাঠ, সরঞ্জাম, কোচিং ও পুরস্কারের পেছনে কত টাকা ব্যয় হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি।

কারণ ক্রীড়া উন্নয়নের নামে অর্থ বরাদ্দ হলে তার সুফল শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছানোই হওয়ার কথা। কাগজে অনুষ্ঠান, সভা কিংবা প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়লেও যদি নতুন খেলোয়াড় তৈরি না হয়, তাহলে সেই আয়োজনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রাষ্ট্রের অর্থ—জবাবদিহি কার কাছে?

ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারি অর্থ বা সহায়তা ব্যবহৃত হলে তার যথাযথ হিসাব ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে অনুদান দেওয়া এবং তাদের নিরীক্ষিত হিসাব তলব, পরীক্ষা ও যাচাই করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম, নির্বাচন এবং আয়-ব্যয়ের বিষয়েও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভাগীয় পর্যায়ের তদারকির দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কি নিয়মিতভাবে নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে? কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে? কতগুলো প্রতিযোগিতা বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়েছে? কতজন খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন? কতজন নতুন খেলোয়াড় জেলা থেকে উঠে এসেছেন?

এসব তথ্য প্রকাশ্যে এলে ক্রীড়া সংস্থার প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া সম্ভব।

রাজনীতির প্রভাবমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন কি সম্ভব?

ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয়। তবে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ক্রীড়ার প্রতি অবদানের ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের একটি অংশের প্রত্যাশা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হোক, যাঁদের ক্রীড়াঙ্গনে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যাঁরা মাঠের সমস্যা বোঝেন।

কারণ একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ভালো কোচ, মানসম্মত সরঞ্জাম, খেলার মাঠ, চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা এবং জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কোথায়?

এখানেই সামনে আসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষিত দায়িত্বের মধ্যে দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া সংস্থাকে স্বীকৃতি ও অনুদান এবং স্থানীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সহায়তার বিষয় রয়েছে।

তাই চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়েও নিয়মিত তদারকি, বাস্তব কার্যক্রম যাচাই এবং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।

এখন সময় মাঠের হিসাব নেওয়ার

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হলে বড় কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই—প্রথমে প্রকাশ করা যেতে পারে গত কয়েক বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া ক্যালেন্ডার, অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার তালিকা, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সরকারি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এবং খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব। সঙ্গে প্রয়োজন প্রতিটি খেলার মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই।

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর কতজন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে—এই সংখ্যাই হতে পারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাফল্যের অন্যতম বড় মাপকাঠি।সিজেকেএস কি সত্যিই খেলোয়াড় তৈরির কারখানা হয়ে উঠছে, নাকি এর কার্যক্রমের বড় একটি অংশ সীমাবদ্ধ থাকছে সভা, কমিটি, আয়োজন আর কাগজপত্রে—এই প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া উন্নয়ন। সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে আসা সময়ের দাবি।

*রাজনীতির প্রভাব, কাগজে-কলমে ক্রীড়া আয়োজন ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন?

ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)—নামেই যার মূল পরিচয় ক্রীড়া। উদ্দেশ্য খেলাধুলার বিকাশ, নতুন খেলোয়াড় তৈরি, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? সরকারি অর্থ, ক্রীড়া অবকাঠামো ও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ খেলোয়াড়দের কতটা উপকার হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন সামনে আসা জরুরি। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের পর থেকে মূলত খেলোয়ারদের নিয়মিত প্রশিক্ষন নেই। সাবেক দায়িত্ববানরা চলে যাওয়ার পর এ প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি না থাকায় ঢিমেতালে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনৈক ক্রীড়াবিদ এ প্রতিবেদকে জানান, ইতোমধ্যে ক্রীড়বিদ বা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ঠ নয় এমন ব্যক্তিও এ সংগঠনের পদ পদবীর জন্য চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিট তখমা সংবলিত ব্যানার পোস্টার দৃশ্যমান হচ্ছে। যা নগরবাসী এ ধরনের খেলা নিয়ে নোংরা রাজনীতি আশা করেনি।

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ডে ক্রীড়ার চেয়ে বিভিন্ন মহলের প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কতজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ, কতজন নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ক্রীড়া উন্নয়নে তাঁদের বাস্তব অবদান কতটুকু—এসব বিষয় নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেখা যায়, যাঁদের সরাসরি খেলোয়াড় বা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে খেলোয়াড় তৈরির বদলে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণই কখনো কখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কাগজে অনেক আয়োজন, মাঠে কতটা?

জেলা ক্রীড়া সংস্থার আওতায় বিভিন্ন খেলায় আয়োজন ও প্রতিযোগিতার কথা থাকলেও এসব কর্মসূচির কতটি নিয়মিত মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, কতজন খেলোয়াড় অংশ নেন এবং প্রতিটি আয়োজনের জন্য বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি রয়েছে।

কোনো একটি প্রতিযোগিতার নাম ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে থাকলেই কি সেটি বাস্তবে আয়োজন করা হয়েছে? প্রতিযোগিতা হলে সেখানে কতজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন? তাদের প্রশিক্ষণ, মাঠ, সরঞ্জাম, কোচিং ও পুরস্কারের পেছনে কত টাকা ব্যয় হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি।

কারণ ক্রীড়া উন্নয়নের নামে অর্থ বরাদ্দ হলে তার সুফল শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছানোই হওয়ার কথা। কাগজে অনুষ্ঠান, সভা কিংবা প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়লেও যদি নতুন খেলোয়াড় তৈরি না হয়, তাহলে সেই আয়োজনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রাষ্ট্রের অর্থ—জবাবদিহি কার কাছে?

ক্রীড়া উন্নয়নে সরকারি অর্থ বা সহায়তা ব্যবহৃত হলে তার যথাযথ হিসাব ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে অনুদান দেওয়া এবং তাদের নিরীক্ষিত হিসাব তলব, পরীক্ষা ও যাচাই করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম, নির্বাচন এবং আয়-ব্যয়ের বিষয়েও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিভাগীয় পর্যায়ের তদারকির দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কি নিয়মিতভাবে নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে? কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে? কতগুলো প্রতিযোগিতা বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়েছে? কতজন খেলোয়াড় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন? কতজন নতুন খেলোয়াড় জেলা থেকে উঠে এসেছেন?

এসব তথ্য প্রকাশ্যে এলে ক্রীড়া সংস্থার প্রকৃত কার্যক্রম সম্পর্কে একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া সম্ভব।

রাজনীতির প্রভাবমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন কি সম্ভব?

ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয়। তবে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রেখে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও ক্রীড়ার প্রতি অবদানের ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের একটি অংশের প্রত্যাশা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হোক, যাঁদের ক্রীড়াঙ্গনে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যাঁরা মাঠের সমস্যা বোঝেন।

কারণ একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ভালো কোচ, মানসম্মত সরঞ্জাম, খেলার মাঠ, চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা এবং জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কোথায়?

এখানেই সামনে আসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষিত দায়িত্বের মধ্যে দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া সংস্থাকে স্বীকৃতি ও অনুদান এবং স্থানীয় পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে সহায়তার বিষয় রয়েছে।

তাই চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়েও নিয়মিত তদারকি, বাস্তব কার্যক্রম যাচাই এবং অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত।

এখন সময় মাঠের হিসাব নেওয়ার

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হলে বড় কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই—প্রথমে প্রকাশ করা যেতে পারে গত কয়েক বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া ক্যালেন্ডার, অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার তালিকা, অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সরকারি ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এবং খাতভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব। সঙ্গে প্রয়োজন প্রতিটি খেলার মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই।

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর কতজন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে—এই সংখ্যাই হতে পারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাফল্যের অন্যতম বড় মাপকাঠি।সিজেকেএস কি সত্যিই খেলোয়াড় তৈরির কারখানা হয়ে উঠছে, নাকি এর কার্যক্রমের বড় একটি অংশ সীমাবদ্ধ থাকছে সভা, কমিটি, আয়োজন আর কাগজপত্রে—এই প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।

রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া উন্নয়ন। সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে আসা সময়ের দাবি।