ফরিদপুরের নগরকান্দায় ১০ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অপরাধে আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে এক মক্তব শিক্ষককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুলকে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আজ রোববার বেলা দেড়টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল এলাকার পুরুরা গ্রামের মো. খবির মোল্যার ছেলে। তিনি নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি সকালে শিশুদের মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। আদালত রায় ঘোষণার পরপরই তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর ভোরে বৃষ্টি হওয়ায় মাইকে ডেকে শিশুদের মক্তবে ডাকা হয়নি। তবুও ভুক্তভোগী শিশুটি একাই মসজিদে চলে যায়। সে সময় আর কোনো শিশু উপস্থিত না থাকায় শিশুটিকে একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন করেন আরিফুল। পরবর্তীতে শিশুটি কৌশলে মসজিদের দরজা খুলে দৌড়ে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদে গিয়ে আরিফুল ইসলামকে আটক করেন এবং নগরকান্দা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
ঘটনার দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরিফুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, ঘোষিত রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। এই সাজার মধ্য দিয়ে সমাজে এ জাতীয় অপকর্ম ও অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।




