একটি দেশে মানুষের সম্মান ও মূল্য যদি তাঁর পেশা, বংশ পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তবে সেখানে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জেন-জি প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খোকন হাঁসদা। সামাজিক বৈষম্য দূর করে প্রতিটি মানুষকে স্রেফ ‘মানুষ’ হিসেবে সম্মান জানানোর পরিবেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে খোকন হাঁসদা রাজশাহীর তানোর উপজেলার দরগাডাঙ্গা এলাকার একটি চায়ের দোকানের ঘটনা উল্লেখ করেন। সেখানে দোকানের এক কর্মচারী তাঁকে ভালো একটি কাপে চা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই চুমুক দেওয়ার পরই হোটেলের মালিক এসে হাত থেকে কাপটি কেড়ে নেন এবং একটি পুরোনো, আলাদা কাপে চা পরিবেশন করেন। ঘটনাটি তাঁকে গভীরভাবে অপমানিত করে। চা পানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি নিজের পরিচয়ের কারণে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার এই মানসিক কষ্ট আজও তাঁকে ভাবায়।

করোনাকালেও তানোরের কাসার দিঘি এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে আরেক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন খোকন হাঁসদা। গ্রামের কয়েকজন মিলে সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পর বিকেলে নাশতা হিসেবে দেওয়া মুড়ি, পেঁয়াজ ও মরিচের মিশ্রণ তাঁদের গামছার ওপর পরিবেশন করা হয়। অথচ খাবার পরিবেশনকারীরা নিজেরা গামলা বা প্লেটে করে খাবার এনেছিলেন। পরদিন যখন জানা যায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন থেকে তাঁদের প্লেট ও গামলায় নাশতা দেওয়া শুরু হয়। এই ঘটনাটি তাঁর মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়—সম্মানজনকভাবে খাবার পাওয়ার জন্য কেন শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে? একজন দিনমজুর বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের কি মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নেই?

খোকন হাঁসদার মতে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের অর্থ কেবল আইনের চোখে সমান অধিকার নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে সেই সমতার বাস্তব প্রয়োগ। এখনো অনেক জায়গায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে খাবার দিতে অনাগ্রহ, আলাদা কাপ-গ্লাস ব্যবহারে বাধ্য করা, অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা কিংবা তাঁদের ভাষা ও পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করার ঘটনা ঘটে। এই বৈষম্য দূর করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অপরিহার্য।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন এই শিক্ষার্থী। বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস রয়েছে। সংবিধানে তাঁদের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হলেও, তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের আরও সুস্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব এবং নিজস্ব পরিচয় বজায় রেখে সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মুখস্থবিদ্যা, পরীক্ষার নম্বর আর সনদ অর্জনের মধ্যে শিক্ষাকে আটকে রাখলে চলবে না। শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, বাস্তবমুখী দক্ষতা, গবেষণার আগ্রহ এবং যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। শিক্ষা মানুষকে শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী করবে না, বরং শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক তৈরি করবে।

একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন খোকন হাঁসদা। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও নিজ ঘরে নারীর সুরক্ষাকে কোনো বিশেষ সুযোগ না ভেবে মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখতে হবে। এর জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।

জেন-জি প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা জরুরি। সরকারের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া দেশপ্রেমের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না; বরং ভুলের সমালোচনা করা ও প্রশ্ন তোলাও দেশকে ভালোবাসার অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করছে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেতু, সড়ক বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে দেশ উন্নত হলেও, মানুষের আচরণ, ন্যায়বিচার ও মানবিকতায় সমতা না এলে সত্যিকারের অগ্রগতি আসে না। দিনমজুর, কৃষক, শিক্ষার্থী কিংবা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ যেন কোনো পরিচয় প্রমাণ করা ছাড়াই মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারেন—এমনই বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন খোকন হাঁসদার।

একটি দেশে মানুষের সম্মান ও মূল্য যদি তাঁর পেশা, বংশ পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তবে সেখানে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জেন-জি প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খোকন হাঁসদা। সামাজিক বৈষম্য দূর করে প্রতিটি মানুষকে স্রেফ ‘মানুষ’ হিসেবে সম্মান জানানোর পরিবেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে খোকন হাঁসদা রাজশাহীর তানোর উপজেলার দরগাডাঙ্গা এলাকার একটি চায়ের দোকানের ঘটনা উল্লেখ করেন। সেখানে দোকানের এক কর্মচারী তাঁকে ভালো একটি কাপে চা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই চুমুক দেওয়ার পরই হোটেলের মালিক এসে হাত থেকে কাপটি কেড়ে নেন এবং একটি পুরোনো, আলাদা কাপে চা পরিবেশন করেন। ঘটনাটি তাঁকে গভীরভাবে অপমানিত করে। চা পানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি নিজের পরিচয়ের কারণে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার এই মানসিক কষ্ট আজও তাঁকে ভাবায়।

করোনাকালেও তানোরের কাসার দিঘি এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে আরেক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন খোকন হাঁসদা। গ্রামের কয়েকজন মিলে সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের পর বিকেলে নাশতা হিসেবে দেওয়া মুড়ি, পেঁয়াজ ও মরিচের মিশ্রণ তাঁদের গামছার ওপর পরিবেশন করা হয়। অথচ খাবার পরিবেশনকারীরা নিজেরা গামলা বা প্লেটে করে খাবার এনেছিলেন। পরদিন যখন জানা যায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন থেকে তাঁদের প্লেট ও গামলায় নাশতা দেওয়া শুরু হয়। এই ঘটনাটি তাঁর মনে বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়—সম্মানজনকভাবে খাবার পাওয়ার জন্য কেন শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে? একজন দিনমজুর বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের কি মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার নেই?

খোকন হাঁসদার মতে, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের অর্থ কেবল আইনের চোখে সমান অধিকার নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে সেই সমতার বাস্তব প্রয়োগ। এখনো অনেক জায়গায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে খাবার দিতে অনাগ্রহ, আলাদা কাপ-গ্লাস ব্যবহারে বাধ্য করা, অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলা কিংবা তাঁদের ভাষা ও পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করার ঘটনা ঘটে। এই বৈষম্য দূর করতে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অপরিহার্য।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন এই শিক্ষার্থী। বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাস রয়েছে। সংবিধানে তাঁদের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হলেও, তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের আরও সুস্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব এবং নিজস্ব পরিচয় বজায় রেখে সমান সুযোগ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল মুখস্থবিদ্যা, পরীক্ষার নম্বর আর সনদ অর্জনের মধ্যে শিক্ষাকে আটকে রাখলে চলবে না। শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, বাস্তবমুখী দক্ষতা, গবেষণার আগ্রহ এবং যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। শিক্ষা মানুষকে শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী করবে না, বরং শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক তৈরি করবে।

একই সঙ্গে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন খোকন হাঁসদা। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও নিজ ঘরে নারীর সুরক্ষাকে কোনো বিশেষ সুযোগ না ভেবে মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখতে হবে। এর জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।

জেন-জি প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা জরুরি। সরকারের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হওয়া দেশপ্রেমের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না; বরং ভুলের সমালোচনা করা ও প্রশ্ন তোলাও দেশকে ভালোবাসার অংশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপন্ন করছে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেতু, সড়ক বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে দেশ উন্নত হলেও, মানুষের আচরণ, ন্যায়বিচার ও মানবিকতায় সমতা না এলে সত্যিকারের অগ্রগতি আসে না। দিনমজুর, কৃষক, শিক্ষার্থী কিংবা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ যেন কোনো পরিচয় প্রমাণ করা ছাড়াই মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারেন—এমনই বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন খোকন হাঁসদার।