জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার বিংশতিতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম।
মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে কারাগারে থাকা এই তিন আসামিকে শুনানির আগে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মামুন রাসেল, জহির হোসেন খান ও এম রাশেদুজ্জামান তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। বিপরীতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই ছাত্রীর বাসার নিচতলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে বংশাল থানার উপপরিদর্শক আশরাফ হোসেন গত ৩০ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য গত ১২ আগস্ট মামলাটি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। এরপর তিন দফা শুনানি পেছানোর পর গত ২৮ অক্টোবর আদালত আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দিয়েছিলেন।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, জোবায়েদ পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বংশালের নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ওই ছাত্রী জোবায়েদের ছোট ভাই সৈকতের মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জোবায়েদকে কেউ খুন করেছে বলে জানায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে বিষয়টি জোবায়েদের পরিবারকে অবহিত করেন। পরে সৈকত ও তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান এবং ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের উপুড় হয়ে পড়ে থাকা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন।




