ক্রীড়া প্রতিবেদক: টি-টোয়েন্টিতে ১৬৩ রান ম্যাচ জিততে যথেষ্ট না হলেও একেবারে খারাপ নয়। বোলাররা ভালো বল করতে পারলে এই পুঁজি নিয়েও ম্যাচ জেতা যায়। উইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গায়ানায় শুক্রবার সেই সম্ভাবনার জাগিয়ে তুলেও স্বাগতিক উইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরেছে টাইগাররা।
এই জয়ের ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। টেস্ট সিরিজ ও ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। ১০,১৩ এবং ১৬ জুলাই উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ অংশ নেবে টাইগাররা।
শুক্রবার শেষ টিটোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের ১৬৩ রানের জবাবে খেলতে নেমে ২২ রানের ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। এক পর্যায়ে ৪৩ রানের ৩ উইকেট হারিয়ে বসে নিকোলাস পুরান বাহিনী। টাইগারদের বিপক্ষে আজ তৃতীয় টু-টোয়েন্টি ম্যাচে উইন্ডিজ অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ৩৯ বলে ৭৪ রানের অপরাজিতা ইনিংস খেলে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তার এই সংক্ষিপ্ত ইনিংসে পাঁচটি চার এবং পাঁচটি ছক্কার মার রয়েছে। এই ম্যাচে কাইল মায়ারসের কথা না বললেই নয়। এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটার ৩৮ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে নাসুম আহমেদের বলে মেহেদী হাসানের তালবন্দী হন।
মূলত এই দুই ব্যাটারের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের ঝলকে ১৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টাইগার বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ দুটি, সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট লাভ করেন। উইন্ডিজ কাপ্তান নিকোলাস পুরান টাইগারদের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। সিবিজে ১০৪ রান করায় সিরিজ সেরা ও হয়েছেন।
গায়ানায় আজ শুক্রবার টস জিতে ব্যাটিং করা সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ওপেনিং জুটিতে লিটন দাস ও এনামুল হক বিজয় ৩৫ রান তুলে দুর্দান্ত সূচনার পূর্বাভাস দেন। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় এনামুল হক বিজয় ১১ বল মোকাবেলা করে ১০ রান করে সাজ ঘরে ফিরলে ব্যাটিংয়ে নামেন সাকিব আল হাসান। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো টাইগার অলরাউন্ডার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ৩ বল মোকাবেলা করে ৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। অপর প্রান্তে চমৎকার ব্যাটিং করা লিটন দাস হাফ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। এই টাইগার ওপেনার ৪১ বল মোকাবেলা করে ৩টি চার এবং দুটো ছক্কা সাহায্যে ৪৯ রান করেন।
লিটন যখন সাজঘরে ফিরেন তখন টাইগারদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৯৯ রান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসিফ হোসেনকে সঙ্গী করে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বড় পুঁজিসংগ্রহের পূর্বাভাস দেন। চতুর্থ উইকেট ছুটিতে ৪৯ রান যোগ করে ১৪৮ রানের মাথায় আউট হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সাজ ঘরে ফিরে যাওয়ার আগে ২০ বল থেকে ২২ রান সংগ্রহ করেন তিনি। তার ইনিংসে দুটো চার এবং একটি ছক্কার মার রয়েছে।
অধিনায়ক রিয়াদের বিদায়ের পর তরুণ ব্যাটার আফিফ হোসেন তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। ৩৮ বল থেকে তিনি এই রান সংগ্রহ করেন। তার ইনিংসে দুটো ছক্কা এবং দুটো চারের মার রয়েছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান সংগ্রহ করা টাইগাররা। এই ম্যাচ জিততে হলে উইন্ডিজকে ১৬৪ রানের টার্গেট দেয় টাইগাররা। নূরুল হাসান সোহান ২ রান এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।




