দি ক্রাইম নিউজ ডেস্ক: আজ মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত পবিত্র রজনী লাইলাতুল বারাআত বা শবেবরাত। মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসা এই রজনীতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বিগত জীবনের গুনাহ থেকে মুক্তি ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করেন।
শাবান মাসের এই ১৫তম রজনীকে ইসলামি দর্শনে ভাগ্যরজনী হিসেবেও অভিহিত করা হয়, কারণ এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের জীবন-মৃত্যু ও রিজিকের ফয়সালা ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার(০৩ ফেব্রুয়ারী) মাগরিবের নামাজের পর থেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শবেবরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা করবেন মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় এই রজনীর শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে সারা রাত জাতীয় মসজিদ মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামীকাল ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে, যা পরিচালনা করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
শুধু রাজধানী নয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ হলো মুক্তি বা নিষ্কৃতি। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরককারী ও হিংসা পোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। এই রজনীর মৌলিক আমল হলো দীর্ঘ ইবাদত ও একাগ্রচিত্তে মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এছাড়া শবেবরাতের পরের দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে, এই পবিত্র রাতের ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখতে অনৈসলামিক ও বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জনের জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং উচ্চশব্দে আনন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড ইবাদতের নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে শবেবরাত কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের রাত নয়, বরং এটি আত্মজিজ্ঞাসা এবং অন্তরের আমূল পরিবর্তনের রজনী।




