নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে চন্দনাইশ উপজেলায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস, চন্দনাইশ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।এতে সভাপতিত্ব করেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ রাজিব হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, ১২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির লেঃ কর্ণেল মোঃ মাহমুদুল হাসান ও আনসার ভিডিপি’র সহকারী পরিচালকপি ফরিদা পারভিন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “এই আয়োজনের লক্ষ্য নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে। বাংলাদেশ এখনো এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ন্যায্য দাবি আদায়ে মানুষকে রক্ত দিতে হয়-এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র মেরামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হলো এই নির্বাচন ও গণভোট।”
নিরাপত্তাব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ৫ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম পৌঁছাবে। এজন্য সকল বাহিনীর মধ্যে সর্বোচ্চ সমন্বয় থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো সংস্থা বা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের দায়ভার নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে না। বিশেষ করে গণভোটের বিষয়ে কোনো দায়িত্ব অবহেলার সুযোগ নেই। দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।”
জেলা প্রশাসক দৃপ্তকন্ঠে বলেন, “বাংলাদেশকে জেতাতে চাইলে, বাংলাদেশের স্বপ্নকে জেতাতে চাইলে নিরপেক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমি চাই না আমাদের সন্তানরা বড় হয়ে দেশের বাইরে চলে যাক। এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে আমাদের সন্তানদের কাউকে গোলামি করতে হবে না।”
এছাড়াও এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চন্দনাইশ উপজেলায় দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।এই প্রশিক্ষণে উপজেলার ৬৪টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩৭০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৭৪০ জন পোলিং অফিসারকে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান, দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




