অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—-

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ)তে ১৭ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে।ইতোমধ্যে অনেকে মারা গেছে এবং কয়েকজন চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছে।তাদের এসব মামলাগুলো উচ্চ আদালত ও নিম্মাদালতে বিচারাধীন আছে এবং প্রত্যেকের মামলাগুলো মহামান্য হাইকোর্টে বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তারা সিডিএতে বড় বড় পদে আসীন রয়েছে। এই মামলাগুলো নিয়ে কথিত সৎ ও অবৈধ পদধারী এজিএম সেলিম কর্তৃপক্ষকে “জুজুবুড়ির” ভয় দেখিয়ে তাদেরকে(দুদকের মামলায় অভিযুক্ত) প্রমোশন থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তিনি সর্বকনিষ্ট প্রকৌশলী হওয়া সত্বেও নিজের প্রমোশনের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে “মেন্টাললি চাপ” প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

এ প্রতিবেদক দুদকে’র দায়ের করা মামলার বিষয়ে বিজ্ঞ আইনজীবিদের সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান,ফৌজধারী বিধান মতে যেহেতু মামলাগুলো “মহামান্য হাইকোর্টে স্থগিত” ও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগতভাবে কনভিক্টেট বা দন্ডিত হয়নি সে কারণে তারা কর্তৃপক্ষীয় “প্রমোশন” পাওয়ার যোগ্য। কারণ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যখন দুদক অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেছিল তখনই অভিযুক্তদেরকে সাময়িক চাকুরী থেকে “বরখাস্ত” করতে পারতেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ যখন জনবল সংকটের কারণে ওই সময়ে ব্যবস্থা না নিয়ে চাকুরীতে “চলমান” রেখেছে, তাই এখন তাদেরকে প্রমোশন দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য।

সুত্রে জানা গেছে, সুদীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মোতাবেক কোন পদোন্নতি হয়নি। সাবেক চেয়ারম্যান পাউরুটী সালামকে চউক সিবিএ সংগঠনগুলো অফিসে লাঘাতার আন্দোলনের কারণে তড়িগড়ি করে বেশ কিছু পদে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান দেয়। বর্তমান প্রজ্ঞাবানও সুচতুর সচিব রবীন্দ্র চাকমা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের নির্দ্দেশনায় পদোন্নতি যোগ্যদের ডিপিসি করার উদ্যোগ নিলে “গুটিবাজ” দু’প্রকৌশলী সিডিএ প্রশাসনকে অন্যায় আবদারের জন্য চাপ প্রয়োগসহ উল্টা-পাল্টা বয়ান দিয়ে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য কর্মকর্তাদের অযোগ্য হিসাবে তুলে ধরছে।

এ বিষয়ে চউক সচিব রবীন্দ্র চাকমার সাথে এ প্রতিবেদক আলাপকালে তিনি জানান,কারো কথামতো বা সুপারিশে পদোন্নতি দিবনা। গ্রেডেশন তালিকা বা কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের যোগ্যতানুযায়ী ডিপিসির মাধ্যমে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী বোর্ড মিটিংএ নিয়োগ চুড়ান্তসহ পদোন্নতি তালিকা প্রনয়ন করা হবে। প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আনিসুল হক পাটোয়ারীর পদোন্নতি কেন হচ্ছেনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,কে বলেছে তাঁর পদোন্নতি হবেনা? নিয়মানুযায়ী তাঁরও পদোন্নতি হবে।

সুত্রটি আরো জানান, এদিকে এ জি এম সেলিম দীর্ঘ চাকরি জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল দায়িত্ব পালন না করলেও সিডিএ’র বিভিন্ন প্রভাবশালী পদে নিজেকে জড়িত রাখতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে এখন তার সুফল ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে সিডিএ’র বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ভয় ভীতি প্রদর্শন ও অবৈধ দাবী আদায়ের অভিযোগ রয়েছে যা সিডিএ’র আভ্যান্তরীণ পরিবেশকে অসুস্থ করে তুলেছে।

সম্প্রতি বর্তমান সৎ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করীম ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মবন্টন করে দেয়। মূলতঃ চউকের জনবল কাঠামোতে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ২টি মাত্র পদ রয়েছে। বাকী ৩টি পদ জনবল কাঠামোতে না থাকা সত্বেও সিডিএ’র প্রবিধান মালা উপেক্ষা করে তাদেরকে এ “চলতি পদে” পদায়ন করেন যা আইনসিদ্ধ নয়। মূলতঃ চলতি দায়িত্বের মেয়াদ থাকে ৬মাস কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত এ জি এম সেলিম ও অন্যরা এ অবৈধ পদে বহাল রয়েছে। জুলাই অভ্যুথানের পর এজিএম সেলিম তার আওয়ামীলীগ ট্যাগ পরিবর্তন করে একটি বিশেষ দলের তকমা লাগিয়ে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নিয়ে ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্গন করে এবং নিজের খেয়াল খুশীমতো আইন তৈরী করে জনভোগান্তি সহ সরকারী রাজস্ব আহরণে প্রতিষ্টানের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।

সুত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী এজিএম সেলিম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ১৯৯৮ সালে যোগদান করার পর থেকে তার ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণের কারণে তাকে কর্তৃপক্ষের এক তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভালো চোখে দেখেনা। তারা তাকে সিডিএ’র “ভাগার” হিসাবে জানে। সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ মুহাম্মদ আকতার উদ্দীন তাকে দীর্ঘদিন ওএসডি করে রেখেছিল। প্রকৃতপক্ষে সে নামে প্রকৌশলী কিন্তু চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে বসে বসে শুধু বেতন নিয়েছেন কোন প্রকল্প কিংবা কাজ করেনি বরং বিভিন্ন দপ্তরে সিডিএ’র প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে পিটিশন লিখেছে। এই প্রকৌশলী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সকল শ্রেনীর কর্মকর্তাদের সাথে অহেতুক বাকবিতন্ডায় লিপ্ত থাকে। সে কারণে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুছ সালাম তাকে “শাস্তিমূলক” রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বদলী করেন। সেখানে ৪ বছর থাকার পর পুনরায় চউকে এসে সালামের সাথে মারমুখী আচরণ করলে তাকে সাসপেন্ড করার জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে এজিএম সেলিম তার নিকট আত্মীয় মোর্শেদ কাদেরীর মাধ্যমে চেয়াম্যান সালামের মোহরস্থ বাসায় গিয়ে ক্ষমা প্রাথর্না করলে তিনি তা বাতিল করেন যা তার ব্যক্তিগত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও এ কর্মকর্তা পিটিশনবাজ ও ২০১০ সালে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোর নেপথ্য কারিগরও তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রকৌশলী এ প্রতিবেদকে জানান, ২০০৮ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইন হিসাবে প্রচারিত হয়। সে আইনে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে পদাধিকার বলে থাকতো প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ। যেহেতু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের খালীস্থান চউকের মেম্বার ইন্জিনিয়ার জামিলুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেহেতু পদাধিকার বলে ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মোতাবেক ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব তাঁকেই দেয়া সমুচিত।

সুত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুচ প্রকাশ “দোয়া ইউনুচ” আত্মগোপনে চলে গেলে বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তরের সচিব নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান পদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নেতাদের কাছে সুপারিশের জন্য তদবির করেন। তা উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বিষয়টি জেনে যাওয়ায় সততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও অভিজ্ঞতায় সুপ্রতিষ্ঠিত পিডিবির প্রকৌশলী মোঃ নুরুল করিমের নাম চেয়ারম্যান হিসাবে সুপারিশ করেন, তখন নাজিম উদ্দিন এ সুপারিশকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটান। চেয়ারম্যান হ’তে না পারার হতশা নাজিম উদ্দিনের মধ্যে এখনও কাজ করছে, এবং নাজিম- সেলিম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিডিএতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বর্তমান সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ চেয়ারম্যানকে সরিয়ে চেয়ারম্যান পদে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে এখনো চেষ্টারত। যদিও তিনি নিজে পতিত সরকারের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসাবে পরিচিত, তবুও তিনি চট্টগ্রামের সন্তান পরিচয়ে নিজের জন্য পথ সুগম করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেেছেন।

(আগামী রোববার ধারাবাহিক দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন)

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—-

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (সিডিএ)তে ১৭ জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে।ইতোমধ্যে অনেকে মারা গেছে এবং কয়েকজন চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছে।তাদের এসব মামলাগুলো উচ্চ আদালত ও নিম্মাদালতে বিচারাধীন আছে এবং প্রত্যেকের মামলাগুলো মহামান্য হাইকোর্টে বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তারা সিডিএতে বড় বড় পদে আসীন রয়েছে। এই মামলাগুলো নিয়ে কথিত সৎ ও অবৈধ পদধারী এজিএম সেলিম কর্তৃপক্ষকে “জুজুবুড়ির” ভয় দেখিয়ে তাদেরকে(দুদকের মামলায় অভিযুক্ত) প্রমোশন থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তিনি সর্বকনিষ্ট প্রকৌশলী হওয়া সত্বেও নিজের প্রমোশনের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে “মেন্টাললি চাপ” প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

এ প্রতিবেদক দুদকে’র দায়ের করা মামলার বিষয়ে বিজ্ঞ আইনজীবিদের সাথে আলাপকালে তাঁরা জানান,ফৌজধারী বিধান মতে যেহেতু মামলাগুলো “মহামান্য হাইকোর্টে স্থগিত” ও তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগতভাবে কনভিক্টেট বা দন্ডিত হয়নি সে কারণে তারা কর্তৃপক্ষীয় “প্রমোশন” পাওয়ার যোগ্য। কারণ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যখন দুদক অভিযোগ পত্র আদালতে দাখিল করেছিল তখনই অভিযুক্তদেরকে সাময়িক চাকুরী থেকে “বরখাস্ত” করতে পারতেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ যখন জনবল সংকটের কারণে ওই সময়ে ব্যবস্থা না নিয়ে চাকুরীতে “চলমান” রেখেছে, তাই এখন তাদেরকে প্রমোশন দিতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য।

সুত্রে জানা গেছে, সুদীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মোতাবেক কোন পদোন্নতি হয়নি। সাবেক চেয়ারম্যান পাউরুটী সালামকে চউক সিবিএ সংগঠনগুলো অফিসে লাঘাতার আন্দোলনের কারণে তড়িগড়ি করে বেশ কিছু পদে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতি প্রদান দেয়। বর্তমান প্রজ্ঞাবানও সুচতুর সচিব রবীন্দ্র চাকমা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের নির্দ্দেশনায় পদোন্নতি যোগ্যদের ডিপিসি করার উদ্যোগ নিলে “গুটিবাজ” দু’প্রকৌশলী সিডিএ প্রশাসনকে অন্যায় আবদারের জন্য চাপ প্রয়োগসহ উল্টা-পাল্টা বয়ান দিয়ে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য কর্মকর্তাদের অযোগ্য হিসাবে তুলে ধরছে।

এ বিষয়ে চউক সচিব রবীন্দ্র চাকমার সাথে এ প্রতিবেদক আলাপকালে তিনি জানান,কারো কথামতো বা সুপারিশে পদোন্নতি দিবনা। গ্রেডেশন তালিকা বা কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের যোগ্যতানুযায়ী ডিপিসির মাধ্যমে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী বোর্ড মিটিংএ নিয়োগ চুড়ান্তসহ পদোন্নতি তালিকা প্রনয়ন করা হবে। প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আনিসুল হক পাটোয়ারীর পদোন্নতি কেন হচ্ছেনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,কে বলেছে তাঁর পদোন্নতি হবেনা? নিয়মানুযায়ী তাঁরও পদোন্নতি হবে।

সুত্রটি আরো জানান, এদিকে এ জি এম সেলিম দীর্ঘ চাকরি জীবনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল দায়িত্ব পালন না করলেও সিডিএ’র বিভিন্ন প্রভাবশালী পদে নিজেকে জড়িত রাখতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে এখন তার সুফল ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে সিডিএ’র বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ভয় ভীতি প্রদর্শন ও অবৈধ দাবী আদায়ের অভিযোগ রয়েছে যা সিডিএ’র আভ্যান্তরীণ পরিবেশকে অসুস্থ করে তুলেছে।

সম্প্রতি বর্তমান সৎ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করীম ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মবন্টন করে দেয়। মূলতঃ চউকের জনবল কাঠামোতে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ২টি মাত্র পদ রয়েছে। বাকী ৩টি পদ জনবল কাঠামোতে না থাকা সত্বেও সিডিএ’র প্রবিধান মালা উপেক্ষা করে তাদেরকে এ “চলতি পদে” পদায়ন করেন যা আইনসিদ্ধ নয়। মূলতঃ চলতি দায়িত্বের মেয়াদ থাকে ৬মাস কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত এ জি এম সেলিম ও অন্যরা এ অবৈধ পদে বহাল রয়েছে। জুলাই অভ্যুথানের পর এজিএম সেলিম তার আওয়ামীলীগ ট্যাগ পরিবর্তন করে একটি বিশেষ দলের তকমা লাগিয়ে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নিয়ে ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্গন করে এবং নিজের খেয়াল খুশীমতো আইন তৈরী করে জনভোগান্তি সহ সরকারী রাজস্ব আহরণে প্রতিষ্টানের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।

সুত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী এজিএম সেলিম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ১৯৯৮ সালে যোগদান করার পর থেকে তার ঔদ্ধতপূর্ণ আচরণের কারণে তাকে কর্তৃপক্ষের এক তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভালো চোখে দেখেনা। তারা তাকে সিডিএ’র “ভাগার” হিসাবে জানে। সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ মুহাম্মদ আকতার উদ্দীন তাকে দীর্ঘদিন ওএসডি করে রেখেছিল। প্রকৃতপক্ষে সে নামে প্রকৌশলী কিন্তু চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে বসে বসে শুধু বেতন নিয়েছেন কোন প্রকল্প কিংবা কাজ করেনি বরং বিভিন্ন দপ্তরে সিডিএ’র প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে পিটিশন লিখেছে। এই প্রকৌশলী চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সকল শ্রেনীর কর্মকর্তাদের সাথে অহেতুক বাকবিতন্ডায় লিপ্ত থাকে। সে কারণে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুছ সালাম তাকে “শাস্তিমূলক” রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বদলী করেন। সেখানে ৪ বছর থাকার পর পুনরায় চউকে এসে সালামের সাথে মারমুখী আচরণ করলে তাকে সাসপেন্ড করার জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে এজিএম সেলিম তার নিকট আত্মীয় মোর্শেদ কাদেরীর মাধ্যমে চেয়াম্যান সালামের মোহরস্থ বাসায় গিয়ে ক্ষমা প্রাথর্না করলে তিনি তা বাতিল করেন যা তার ব্যক্তিগত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও এ কর্মকর্তা পিটিশনবাজ ও ২০১০ সালে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলাগুলোর নেপথ্য কারিগরও তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক প্রকৌশলী এ প্রতিবেদকে জানান, ২০০৮ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইন হিসাবে প্রচারিত হয়। সে আইনে ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে পদাধিকার বলে থাকতো প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ। যেহেতু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের খালীস্থান চউকের মেম্বার ইন্জিনিয়ার জামিলুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেহেতু পদাধিকার বলে ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মোতাবেক ইমারত নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব তাঁকেই দেয়া সমুচিত।

সুত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুচ প্রকাশ “দোয়া ইউনুচ” আত্মগোপনে চলে গেলে বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তরের সচিব নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যান পদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নেতাদের কাছে সুপারিশের জন্য তদবির করেন। তা উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বিষয়টি জেনে যাওয়ায় সততা, কর্তব্যপরায়ণতা ও অভিজ্ঞতায় সুপ্রতিষ্ঠিত পিডিবির প্রকৌশলী মোঃ নুরুল করিমের নাম চেয়ারম্যান হিসাবে সুপারিশ করেন, তখন নাজিম উদ্দিন এ সুপারিশকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটান। চেয়ারম্যান হ’তে না পারার হতশা নাজিম উদ্দিনের মধ্যে এখনও কাজ করছে, এবং নাজিম- সেলিম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিডিএতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে বর্তমান সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ চেয়ারম্যানকে সরিয়ে চেয়ারম্যান পদে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে এখনো চেষ্টারত। যদিও তিনি নিজে পতিত সরকারের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসাবে পরিচিত, তবুও তিনি চট্টগ্রামের সন্তান পরিচয়ে নিজের জন্য পথ সুগম করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেেছেন।

(আগামী রোববার ধারাবাহিক দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন)