ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাত মুক্ত করার এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর এক রাজনৈতিক নেতার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র সংশয় ও বিতর্ক—এটি কি সতাসত্যি দখলমুক্ত করার অভিযান ছিল, নাকি স্রেফ লোক দেখানো পরিচ্ছন্নতা অভিযান?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড় ও সংলগ্ন পার্ক এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ দোকানপাট। এতে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি পুরো এলাকায় নিত্যদিন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
শনিবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ। অভিযান চলাকালে ফুটপাতের সব অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়। দৃশ্যমান এই পদক্ষেপে স্থানীয়রা বেজায় খুশি হয়ে প্রশংসা প্রকাশ করেন।
তবে এই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। অভিযানের পরই বিতর্ক উসকে দেয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের এক অনুসারী মো. ফজলু মিয়ার একটি ফেসবুক পোস্ট। অভিযানের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে ফজলু মিয়া লেখেন, “২০ নং ওয়ার্ড আওতাধীন মহাখালী ওয়ারল্যাস গেট আজাদ পার্কের ময়লা ও আবর্জনা ডেঙ্গু প্রতিরোধ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান করেছেন ২০ নং ওয়ার্ড সাবেক কমিশনার জনাব আবুল কালাম আজাদ ভাই।”
এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে সকালে যা হলো, তা কি ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান, নাকি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের আয়োজন? যদি এটি নিছকই পরিচ্ছন্নতা অভিযান হয়ে থাকে, তবে উচ্ছেদ হওয়া অবৈধ দোকানপাটগুলো কি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার পরপরই আবার আগের স্থানে ফিরে আসবে?
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “দীর্ঘদিন পর ফুটপাত খালি হতে দেখে ভেবেছিলাম অন্তত এবার শান্তিতে হাঁটাচলা করা যাবে। কিন্তু পরে শুনছি এটা নাকি ডেঙ্গু প্রতিরোধের আবর্জনা পরিষ্কারের কর্মসূচি! আমাদের সন্দেহ, কয়েক দিন পরই হয়তো আবার সব অবৈধ দোকান উঠে যাবে। যদি তাই হয়, তবে এটি কেবলই লোকদেখানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।”
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, “মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের দাবির মুখেই সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ময়লা-আবর্জনা ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কাজ করা হয়েছে। এলাকাটি যাতে ডেঙ্গুমুক্ত ও দখলমুক্ত থাকে, সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” ফেসবুক পোস্টের বিভ্রান্তি নিয়ে তিনি বলেন, “উৎসাহী কোনো সমর্থক ভুল ক্যাপশন দিয়ে থাকতে পারে, এটি বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা উচ্ছেদ এবং পরিচ্ছন্নতা—দুটো বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়েছি।”
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের মতে, রাজধানী জুড়ে প্রায়শই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও রাজনৈতিক তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে কিছুদিনের মধ্যেই ফুটপাত পুনরায় হাতছাড়া হয়ে যায়। মহাখালীর এই ঘটনা সেই শঙ্কাকেই আরও ঘনীভূত করল। এখন দেখার বিষয়, মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট কি সত্যিই স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত থাকবে, নাকি আগের সেই বিশৃঙ্খল রূপেই ফিরে যাবে।




