অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—-

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম থেকে মহাসড়ক ধরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সাতকানিয়ার কেওচিয়া অংশে সড়কের একপাশে সবুজ ক্ষেত ও ধূসর বর্ণ জমি। অন্যপাশে অর্ধশত ইটভাটা। যে গুলোর বেশিরভাগই অবৈধ। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এসব সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। অবৈধ জেনেও শুধু জরিমানা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সচিব কিংবা বিভাগীয় কমিশনার সরকারি কাজে কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। আবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকও নিজের দাপ্তরিক কাজে উপজেলাগুলো পরিদর্শনে যান। তাদের যেতে হয় মহাসড়কের পাশের এসব অবৈধ ইটভাটাগুলো পাশ কাটিয়েই। সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি কর্তাদের চোখের সামনে কীভাবে এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলমান।

শুধু সাতকানিয়ার কেওচিয়া নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের হাশিমপুর, কাঞ্চনগর, লট এলাহাবাদ, কর্ণফুলী উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন, রাউজানের মদের মহাল, রাঙ্গুনিয়ার রানিরহাট এলাকার পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কিংবা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ভূজপুর ও ফটিকছড়ি এলাকায় সড়ক মহাসড়কের পাশে কার্যক্রম চলছে অসংখ্য ইটভাটার। আবার দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে গুপ্তছড়া ঘাট পেরুলেই রাস্তার দুই পাশে ২০টির মতো ইটভাটা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে।

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক রশি টানাটানি রয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় জরিমানা করে দায় সারছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

অভিযোগ আছে, শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কিংবা পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই এসব ইটভাটায় ইট তৈরি করা হয়। কয়লা ব্যবহারের কথা বলা হলেও তা নামকাওয়াস্তে। ইটভাটাগুলোতে কাঠ দিয়েই পোড়ানো হয় ইট।

চট্টগ্রাম থেকে মহাসড়ক ধরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সাতকানিয়ার কেওচিয়া অংশে সড়কের একপাশে সবুজ ক্ষেত ও ধূসর বর্ণ জমি। অন্যপাশে অর্ধশত ইটভাটা। যেগুলোর বেশিরভাগই অবৈধ। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এসব সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। অবৈধ জেনেও শুধু জরিমানা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

অভিযোগ আছে, শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কিংবা পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই এসব ইটভাটায় ইট তৈরি করা হয়। কয়লা ব্যবহারের কথা বলা হলেও তা নামকাওয়াস্তে। ইটভাটাগুলোতে কাঠ দিয়েই পোড়ানো হয় ইট।

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আগে ইটভাটা মালিকরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২১ সালে ওই আপিল শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গেছে। এখন সবই অবৈধ ইটভাটা বলে জানান রিটকারী আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

চার শতাধিক ভাটার মধ্যে তিন শতাধিকই অবৈধ

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে চার শতাধিক ইটভাটা সচল। যেগুলোর মধ্যে তিন শতাধিক সরাসরি অবৈধ। ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি বলছে, গত চার বছর ধরে কোনো ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ নিয়ে চলছে কিছু ইটভাটা।

সরেজমিনে যা পাওয়া গেলো

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়া কেরাণিহাট রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকাজুড়ে অসংখ্য ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। মৌলভীর দোকান এলাকার মহাসড়ক থেকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেখা যায় এসব ইটভাটা। কিছু ইটভাটা থেকে বের হওয়া উৎকট গন্ধে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

মহাসড়ক দিয়ে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের চালক আবদুল আলিম ও সিএনজি চালক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি কক্সবাজার রুটে ২৫ বছর ধরে গাড়ি চালাই। সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় এক জায়গায় ৫০টির মতো ইটভাটা রয়েছে। কয়েকটি ইটভাটা থেকে সাদা ধোঁয়া বের হয়ে পুরো এলাকা ভরে যায়। এসব ধোঁয়ায় ঝাঁঝালো গন্ধ রয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযানে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে। আমরা সহযোগিতা দিই মাত্র। তাছাড়া হাইকোর্ট থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শুধু কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিই। জেলা প্রশাসন চাইলেই অবৈধ সব ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন।

সাতকানিয়া এলাকার বাসিন্দা কায়সার আলী ও নজীব চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক একটি ব্যস্ত সড়ক। এখানে দিনে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরকারের দপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তাও সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সবাই দেখেও না দেখার ভান করেন। শুনেছি শুষ্ক মৌসুমে কার্যক্রম শুরুর আগেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যে কারণে পুরো মৌসুমে তাদের বেগ পেতে হয় না।’

যা বলছে পরিবেশ অধিদপ্তর

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে চার শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। যেগুলোর কোনো কাগজপত্র নেই। এর মধ্যে তিন শতাধিক একেবারে অবৈধ। কিছু আদালতের আদেশে চলমান। আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।’

জরিমানায় সীমাবদ্ধ কার্যক্রম

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইট তৈরির মৌসুম শুরুর পর থেকেই জেলাজুড়ে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কেএমআর, কেবিএম ও এসএবি নামে তিনটি ইটভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে ইটভাটা তিনটির চিমনিসহ কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত ২ ডিসেম্বর হাটহাজারীর ধলই এলাকার কর্ণফুলী ব্রিকসকে এক লাখ টাকা, চারিয়া এলাকার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, কাদেরিয়া ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, কাজী ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, শাহেন শাহ ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, চট্টলা ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, সেঞ্চুরি ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি এসব ইটভাটার চিমনিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একইদিন উপজেলার চারিয়া এলাকার হিমালয় ব্রিকসকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাউজানের রশিদার পাড়ার মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস-সিবিএমকে তিন লাখ টাকা, মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস-এসবিএম ইটভাটাকে তিন লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ইটভাটা দুটির চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবেশের অভিযানে উত্তর চট্টগ্রামের চেয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র ভিন্ন। উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারীতে জরিমানার পাশাপাশি চিমনি গুঁড়িয়ে দিলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় চালানো অভিযানে কোনো ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বেতাগী ইউনিয়নে মো : জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যানের ইটভাটা গুড়িয়ে দিলেও পূনরায় তা আবারও চালু করেছে।

জরিমানা করেই দায় সেরেছে আভিযানিক দল। এর মধ্যে গত ১৪ ডিসেম্বর লোহাগড়ায় তিন ইটভাটাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার আমিরাবাদ সুখছড়ি এলাকার বিকেবি ব্রিকসকে একলাখ টাকা, মেসার্স শাহ আবদুল মান্নান ব্রিকসকে একলাখ টাকা এবং শাহপীর ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সাতকানিয়ার চার ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে কেরাণিহাট এলাকার মেসার্স নুর হোসেন ফোরক ব্রিকসকে একলাখ টাকা, সেভেন স্টার ব্রিকসকে (ইউনিট-১) ৫০ হাজার টাকা, ইউনিট-২কে ৫০ হাজার টাকা, পায়েল ব্রিকসকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সবশেষ ৬ জানুয়ারি বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকার মদিনা ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার বিষয়ে যা বলছেন ইউএনও 

উচ্ছেদ না করে শুধু জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে হয়। তারা উচ্ছেদ করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা দিই। পরিবেশ অধিদপ্তর উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিয়ে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে জরিমানা করতে হয়।’

এদিকে সারাদেশে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে ২০২২ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। শুনানি শেষে আদালত ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর থেকে নতুন করে ইটভাটায় লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

রিটকারী আইনজীবী যা বলছেন 

রিটকারী আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আগে ইটভাটা মালিকরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২১ সালে ওই আপিল শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গেছে। এখন সবই অবৈধ ইটভাটা।’

সাতকানিয়া- বাঁশখালীতে জরিমানার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি নিজ নিজ জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের দিকে না তাকিয়ে জেলা প্রশাসকদের উচিত অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা। এখানে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের দায় রয়েছে।’

ইটভাটা আইন নিয়ে প্রশ্ন সমিতি

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি আবিদ হোসেন মানু বলেন, ‘যারা ইটভাটা আইন বানিয়েছেন, তাদের ইটভাটা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে আইনের শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেভাবে দেশের কোথাও ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। অথচ এ ইট ছাড়া দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি থমকে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা আইনটি বড় বড় শিল্প গ্রুপকে সুবিধা দেওয়ার জন্য বানানো। বড় শিল্প গ্রুপ হলো ব্লক, হলো ব্রিক তৈরির জন্য শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ইটভাটা শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ইটভাটা এলাকায় পরিবেশের কী পরিমাণ ক্ষতি করে তার কোনো বিশ্লেষণ কিংবা গবেষণা তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই। এখন অভিযানের নামে ইটভাটাগুলোকে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ‘ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারীতে বেশ কয়েকটি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামেও অভিযান চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযানে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে। আমরা সহযোগিতা দিই মাত্র। তাছাড়া হাইকোর্ট থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শুধু কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিই। জেলা প্রশাসন চাইলেই অবৈধ সব ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব।’

এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি, স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরো চট্টগ্রাম আজ হুমকির মুখে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও চন্দনাইশ উপজেলা অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ, জলবায়ু ও কৃষি চরম হুমকির মুখে। দিনদিন কৃষি জমির টপসয়েল কাটার ফলে কৃষিখ্যাত নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে হারাচ্ছে কৃষির উজ্জ্বল সম্ভাবনা। তারা প্রশাসনের খামখেয়ালিপনার সুযোগ নিয়ে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও সাতকানিয়া উপজেলার ইটভাটা চক্র রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা ও নেতার নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর ফলে দিনদিন আরও অবৈধ ইটভাটার বিস্তার লাভ করছে, এর লাগাম না টানলে পরিবেশ ও জলবায়ুর বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—-

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম থেকে মহাসড়ক ধরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সাতকানিয়ার কেওচিয়া অংশে সড়কের একপাশে সবুজ ক্ষেত ও ধূসর বর্ণ জমি। অন্যপাশে অর্ধশত ইটভাটা। যে গুলোর বেশিরভাগই অবৈধ। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এসব সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। অবৈধ জেনেও শুধু জরিমানা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সচিব কিংবা বিভাগীয় কমিশনার সরকারি কাজে কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। আবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকও নিজের দাপ্তরিক কাজে উপজেলাগুলো পরিদর্শনে যান। তাদের যেতে হয় মহাসড়কের পাশের এসব অবৈধ ইটভাটাগুলো পাশ কাটিয়েই। সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি কর্তাদের চোখের সামনে কীভাবে এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলমান।

শুধু সাতকানিয়ার কেওচিয়া নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের হাশিমপুর, কাঞ্চনগর, লট এলাহাবাদ, কর্ণফুলী উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন, রাউজানের মদের মহাল, রাঙ্গুনিয়ার রানিরহাট এলাকার পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কিংবা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ভূজপুর ও ফটিকছড়ি এলাকায় সড়ক মহাসড়কের পাশে কার্যক্রম চলছে অসংখ্য ইটভাটার। আবার দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে গুপ্তছড়া ঘাট পেরুলেই রাস্তার দুই পাশে ২০টির মতো ইটভাটা ঠাঁয় দাঁড়িয়ে।

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক রশি টানাটানি রয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় জরিমানা করে দায় সারছে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

অভিযোগ আছে, শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কিংবা পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই এসব ইটভাটায় ইট তৈরি করা হয়। কয়লা ব্যবহারের কথা বলা হলেও তা নামকাওয়াস্তে। ইটভাটাগুলোতে কাঠ দিয়েই পোড়ানো হয় ইট।

চট্টগ্রাম থেকে মহাসড়ক ধরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সাতকানিয়ার কেওচিয়া অংশে সড়কের একপাশে সবুজ ক্ষেত ও ধূসর বর্ণ জমি। অন্যপাশে অর্ধশত ইটভাটা। যেগুলোর বেশিরভাগই অবৈধ। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা এসব সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন। অবৈধ জেনেও শুধু জরিমানা ছাড়া দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

অভিযোগ আছে, শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমির মাটি (টপ সয়েল) কিংবা পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই এসব ইটভাটায় ইট তৈরি করা হয়। কয়লা ব্যবহারের কথা বলা হলেও তা নামকাওয়াস্তে। ইটভাটাগুলোতে কাঠ দিয়েই পোড়ানো হয় ইট।

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আগে ইটভাটা মালিকরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২১ সালে ওই আপিল শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গেছে। এখন সবই অবৈধ ইটভাটা বলে জানান রিটকারী আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

চার শতাধিক ভাটার মধ্যে তিন শতাধিকই অবৈধ

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে চার শতাধিক ইটভাটা সচল। যেগুলোর মধ্যে তিন শতাধিক সরাসরি অবৈধ। ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি বলছে, গত চার বছর ধরে কোনো ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ নিয়ে চলছে কিছু ইটভাটা।

সরেজমিনে যা পাওয়া গেলো

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতকানিয়া কেরাণিহাট রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকাজুড়ে অসংখ্য ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। মৌলভীর দোকান এলাকার মহাসড়ক থেকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দেখা যায় এসব ইটভাটা। কিছু ইটভাটা থেকে বের হওয়া উৎকট গন্ধে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

মহাসড়ক দিয়ে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের চালক আবদুল আলিম ও সিএনজি চালক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি কক্সবাজার রুটে ২৫ বছর ধরে গাড়ি চালাই। সাতকানিয়া রাস্তার মাথায় এক জায়গায় ৫০টির মতো ইটভাটা রয়েছে। কয়েকটি ইটভাটা থেকে সাদা ধোঁয়া বের হয়ে পুরো এলাকা ভরে যায়। এসব ধোঁয়ায় ঝাঁঝালো গন্ধ রয়েছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযানে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে। আমরা সহযোগিতা দিই মাত্র। তাছাড়া হাইকোর্ট থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শুধু কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিই। জেলা প্রশাসন চাইলেই অবৈধ সব ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন।

সাতকানিয়া এলাকার বাসিন্দা কায়সার আলী ও নজীব চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক একটি ব্যস্ত সড়ক। এখানে দিনে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। সরকারের দপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তাও সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সবাই দেখেও না দেখার ভান করেন। শুনেছি শুষ্ক মৌসুমে কার্যক্রম শুরুর আগেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যে কারণে পুরো মৌসুমে তাদের বেগ পেতে হয় না।’

যা বলছে পরিবেশ অধিদপ্তর

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে চার শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। যেগুলোর কোনো কাগজপত্র নেই। এর মধ্যে তিন শতাধিক একেবারে অবৈধ। কিছু আদালতের আদেশে চলমান। আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।’

জরিমানায় সীমাবদ্ধ কার্যক্রম

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইট তৈরির মৌসুম শুরুর পর থেকেই জেলাজুড়ে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কেএমআর, কেবিএম ও এসএবি নামে তিনটি ইটভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে ইটভাটা তিনটির চিমনিসহ কিলন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

গত ২ ডিসেম্বর হাটহাজারীর ধলই এলাকার কর্ণফুলী ব্রিকসকে এক লাখ টাকা, চারিয়া এলাকার মেসার্স চারিয়া মেঘনা ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, কাদেরিয়া ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, কাজী ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, শাহেন শাহ ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, চট্টলা ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা, সেঞ্চুরি ব্রিকসকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি এসব ইটভাটার চিমনিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একইদিন উপজেলার চারিয়া এলাকার হিমালয় ব্রিকসকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাউজানের রশিদার পাড়ার মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস-সিবিএমকে তিন লাখ টাকা, মেসার্স শাহসুন্দর ব্রিকস-এসবিএম ইটভাটাকে তিন লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ইটভাটা দুটির চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিবেশের অভিযানে উত্তর চট্টগ্রামের চেয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র ভিন্ন। উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারীতে জরিমানার পাশাপাশি চিমনি গুঁড়িয়ে দিলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় চালানো অভিযানে কোনো ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বেতাগী ইউনিয়নে মো : জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যানের ইটভাটা গুড়িয়ে দিলেও পূনরায় তা আবারও চালু করেছে।

জরিমানা করেই দায় সেরেছে আভিযানিক দল। এর মধ্যে গত ১৪ ডিসেম্বর লোহাগড়ায় তিন ইটভাটাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার আমিরাবাদ সুখছড়ি এলাকার বিকেবি ব্রিকসকে একলাখ টাকা, মেসার্স শাহ আবদুল মান্নান ব্রিকসকে একলাখ টাকা এবং শাহপীর ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সাতকানিয়ার চার ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে কেরাণিহাট এলাকার মেসার্স নুর হোসেন ফোরক ব্রিকসকে একলাখ টাকা, সেভেন স্টার ব্রিকসকে (ইউনিট-১) ৫০ হাজার টাকা, ইউনিট-২কে ৫০ হাজার টাকা, পায়েল ব্রিকসকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সবশেষ ৬ জানুয়ারি বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকার মদিনা ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানার বিষয়ে যা বলছেন ইউএনও 

উচ্ছেদ না করে শুধু জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নিতে হয়। তারা উচ্ছেদ করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা দিই। পরিবেশ অধিদপ্তর উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিয়ে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে জরিমানা করতে হয়।’

এদিকে সারাদেশে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে ২০২২ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। শুনানি শেষে আদালত ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর থেকে নতুন করে ইটভাটায় লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

রিটকারী আইনজীবী যা বলছেন 

রিটকারী আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আগে ইটভাটা মালিকরা হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২১ সালে ওই আপিল শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গেছে। এখন সবই অবৈধ ইটভাটা।’

সাতকানিয়া- বাঁশখালীতে জরিমানার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি নিজ নিজ জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরের দিকে না তাকিয়ে জেলা প্রশাসকদের উচিত অবৈধ ইটভাটাগুলো উচ্ছেদ করা। এখানে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের দায় রয়েছে।’

ইটভাটা আইন নিয়ে প্রশ্ন সমিতি

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি আবিদ হোসেন মানু বলেন, ‘যারা ইটভাটা আইন বানিয়েছেন, তাদের ইটভাটা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে আইনের শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেভাবে দেশের কোথাও ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। অথচ এ ইট ছাড়া দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি থমকে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ইটভাটা আইনটি বড় বড় শিল্প গ্রুপকে সুবিধা দেওয়ার জন্য বানানো। বড় শিল্প গ্রুপ হলো ব্লক, হলো ব্রিক তৈরির জন্য শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ইটভাটা শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ইটভাটা এলাকায় পরিবেশের কী পরিমাণ ক্ষতি করে তার কোনো বিশ্লেষণ কিংবা গবেষণা তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই। এখন অভিযানের নামে ইটভাটাগুলোকে হয়রানিতে পড়তে হচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ‘ইটভাটা উচ্ছেদে পরিবেশ অধিদপ্তর আন্তরিক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারীতে বেশ কয়েকটি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামেও অভিযান চালানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযানে গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে। আমরা সহযোগিতা দিই মাত্র। তাছাড়া হাইকোর্ট থেকে ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা শুধু কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দিই। জেলা প্রশাসন চাইলেই অবৈধ সব ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব।’

এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি, স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, পুরো চট্টগ্রাম আজ হুমকির মুখে। বিশেষ করে সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও চন্দনাইশ উপজেলা অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ, জলবায়ু ও কৃষি চরম হুমকির মুখে। দিনদিন কৃষি জমির টপসয়েল কাটার ফলে কৃষিখ্যাত নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে হারাচ্ছে কৃষির উজ্জ্বল সম্ভাবনা। তারা প্রশাসনের খামখেয়ালিপনার সুযোগ নিয়ে এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও সাতকানিয়া উপজেলার ইটভাটা চক্র রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা ও নেতার নাম ভাঙিয়ে দাপট দেখানোর ফলে দিনদিন আরও অবৈধ ইটভাটার বিস্তার লাভ করছে, এর লাগাম না টানলে পরিবেশ ও জলবায়ুর বিপর্যয় ঘটতে পারে।