ঢাকা ব্যুরো: বিএনপির আন্দোলনকে বন্ধ করতে সরকার ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বিরোধী দলের ১৩শ পঞ্চাশটি মামলা নিয়ে মাঠে নেমেছে। আগামী নির্বাচনের আগে এই মামলা গুলো দ্রুত শেষ করে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠনোর ব্যবস্হা করা হবে। যাতে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ছাড়া খালি মাঠে খেলে সহজে জয়ী হতে পারে।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সরকার ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্র যন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সাথে লক্ষ্য করছি, পুরনো মামলায় আবারো শুনানি করে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেয়া হলো। এটা হচ্ছে সরকারের মৃত্যু ঘনিয়ে আসার আগে যখন আশা থাকে না তখন কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্মমহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে মামলায় বিএনপির দুই নেতাকে সাজা দেয়া হয়েছে তা হাইকোর্ট থেকে আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিলো। একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী জেবায়দা রহমানের ২০০৭ সালের মামলা গুলো অতিদ্রুত চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন সাক্ষী হাজির করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কথা বলতে চাইলে তাদের ওর সরকারী দলের আইনজীবীরা হামলা করে এবং পুলিশ দিয়ে নির্যাতন চালায়। প্রতিপক্ষের ঘায়েল করতে সরকার এমন নোংরা ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধানের কথা বলে মাঠশূন্য করে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার চেষ্টা চলছে। একইধরনের মামলায় বিচারক আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার মামলা খালাশ দেয়া হয়েছে, অথচ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রীকে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে সাত শতাধিক। গত ১২ দিনে নতুন মামলা হয়েছে ১৫২। আসামি সাড়ে পাঁচ হাজার। ভয় ত্রাস সৃষ্টি করে এক কায়দায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। কিন্তু মানুষ এবার তা সফল হতে দেবে না।




