*আছে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা

*তারপরও সস্তি বসবাসকারীদের

আহমদ কবির: জঙ্গল সলিমপুরে নতুনভাবে দীঘ ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মান করছে সেনাবাহিনী। এসড়ক নির্মান হলে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ আইন
শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী সহজে চলাচল করতে পারবে। সড়কে সেনাবাহিনীর আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবহার করা হচ্ছে। শুরু হয়েছে পুরোদমে কাজ। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কামরুল আল মাসুদ সড়ক নেটওয়াক তৈরীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বড় ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার সেনাবাহিনীকে দিয়ে সড়কসহ নানা অবকাঠামো তৈরীর সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রথমে এই সড়ক নেটওয়াক তৈরী করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র থেকে জানা গেছে।

সেনাবাহিনীকে বিগত সরকার আমলেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি নিষ্কাশন ফ্লাইওভার, খাল খনন ও কালভাট ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানা অবকাঠামো তৈরীতে কাজে লাগানো হয়েছিল। একাজ এখনও চলমান আছে। শুধু সড়ক নয়, সেখানে কালভাটসহ তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে সেনাবাহিনীর। জঙ্গল সলিমপুর ও আলী নগরের ৩ হাজার ১শ’ একর পাহাড়ি জমি ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর আয়াত্তে নেয়া হয়েছে। পালিয়ে গেছে দখলকার সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ অন্যান্য বাহিনী। জঙ্গল সলিমপুর তিন থানার আওতায় পড়েছে। কিছু অংশ নগরীর বায়েজিদে অপর দুই অংশ পড়েছে জেলার সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী থানা এলাকায়।

সুত্রটি জানায়, ‘৯০দশক থেকে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি জমির হাত বদল, দখল বেদখল হতে শুরু করে। প্রথমে আলী আক্কাস পরে গফুর মেম্বার নুরুল হক ভান্ডারী, কাজী মশিউর গাজী ছাদেকসহ একদল জবর দখলকারীর হাতে চলে যায় এই পাহাড়ি অঞ্চল । আবার কাজী মশিউরকে হটিয়ে দখলে নেয় রোকন উদ্দীন গাজী ছাদেকসহ নুরুল হক ভান্ডারীরা। এর মধ্যে আবার দখল বেদখলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বন্দুক যুদ্ধ। মারা যান বেশ কয়েকজন। কিছুদিন শাসনে চলে আসেন রোকন উদ্দীন গাজী ছাদেকসহ অন্যন্য জনের হাতে। তবে বার বার জঙ্গল সলিমপুর হাত বদল হতে থাকলেও আলী নগরের একক নিয়ন্ত্রনে থাকে মোঃ ইয়াছিনের হাতে। পাহাড় কাটা, প্লট বিক্রি ও চাঁদাবাজির ভান্ডারকে কেন্দ্র করে যতসব হানাহানি গন্ডগোল খুন খারাবির মুল কারণ হচ্ছে দখলতন্ত্র কায়েম করা।

এদিকে ২০২৪সালের পট পরিবতন হলে আলী নগরে ইয়াছিন বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে রোকন বাহিনী দখল ভাগ করে নেয়। তবে রোকন উদ্দীন বেশি দিন দখলে রাখতে পারেনি পরে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রনে চলে যায় ইয়াছিন বাহিনীর হাতে। এর উপর ঘটে যায় সন্ত্রাসীদের নারকীয় তান্ডব। হামলায় নিহত হন র‌্যাবের সুবেদার নায়েব মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত হন বেশ কয়েকজন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। টনক নড়ে প্রশাসনের। এঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পাহাড়ি এলাকার চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। পাহাড়ের আইনশৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য বসানো হয় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প। চালানো হয় অন্তত চার হাজার আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্য নিয়ে যৌথ অভিযান। পালিয়ে যায় ইয়াছিনসহ তার বাহিনী। তবে গত মাসের ২৪ তারিখে আবার হামলা চালায় ইয়াছিন বাহিনী। র‌্যাব ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ পুলিশের আইজিপিসহ সরকারের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ওই পাহাড়ি অঞ্চলে ছুটে যান। এর আগে সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযানে নামেন আইনশৃংখলাবাহিনী।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ত্রাসীদের শিকড় এখনো নির্মুল হয়নি। চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়নি। ভেতরে ভেতরে চলছে এখনও দখলদারিত্ব। আওয়ামী লীগের পতন হলেও অধিকাংশ সন্ত্রাসী জঙ্গল সলিমপুরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বস্তি এলাকায় স্থান করে নেয়। এমনকি বান্দরবানের কুকি চিন নামক বিদ্রোহীরাও নাকি আলী নগরে আশ্রয় নেয়।

সুত্র আরো জানান, এই জঙ্গল সলিমপুরকে নিয়ে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যে ভরপুর এই পাহাড়ি অঞ্চলকে ঘিরে সরকার চাচ্ছে নানা অবকাঠামো গড়ে তুলে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। ইতোমধ্যে সরকার পরিবতন আনা শুরু করে দিয়েছেন। প্রথমে সেনাবাহিনীকে দিয়ে সড়ক নির্মাণ পরে অন্যান্য পরিকল্পনাগুলো সামনে নিয়ে আসা হবে। এর আগে গত ২ জুন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সামশুল আলম এলাকার সড়কগুলো পরিদশনে আসেন। একাজ শেষ হতে ৬মাস লাগবে।

তিনি বলেছেন,কালভাটসহ তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। নিরাপত্তায় র‌্যাব পুলিশ বিজিবির নিরাপত্তাবলয় রয়েছে। আলী নগর থেকে একটি সড়ক ভাটিয়ারীর বড়দিঘী লিংক রোডে এবং অপর সড়কটি জলিল টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হবে। এ কাজ শুরু করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বদলে যাবে পুরো জঙ্গল সলিমপুরের চিত্র। জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ আর আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী সহজে এপথে চলাচল করতে পারবে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাসে অন্তত তিনবার চাঁদা দিতো হতো। থাকতো নানা নির্যাতনও। দিন শেষ সন্ত্রাসীদের সময় শেষ চাঁদাবাজ দখলকারদের, এই শ্লোগান উঠেছে আলী নগর ও জঙ্গল সলিমপুরে।

*আছে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা

*তারপরও সস্তি বসবাসকারীদের

আহমদ কবির: জঙ্গল সলিমপুরে নতুনভাবে দীঘ ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মান করছে সেনাবাহিনী। এসড়ক নির্মান হলে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ আইন
শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী সহজে চলাচল করতে পারবে। সড়কে সেনাবাহিনীর আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জনবল ব্যবহার করা হচ্ছে। শুরু হয়েছে পুরোদমে কাজ। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল কামরুল আল মাসুদ সড়ক নেটওয়াক তৈরীর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বড় ধরনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার সেনাবাহিনীকে দিয়ে সড়কসহ নানা অবকাঠামো তৈরীর সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রথমে এই সড়ক নেটওয়াক তৈরী করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র থেকে জানা গেছে।

সেনাবাহিনীকে বিগত সরকার আমলেও চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি নিষ্কাশন ফ্লাইওভার, খাল খনন ও কালভাট ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানা অবকাঠামো তৈরীতে কাজে লাগানো হয়েছিল। একাজ এখনও চলমান আছে। শুধু সড়ক নয়, সেখানে কালভাটসহ তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে সেনাবাহিনীর। জঙ্গল সলিমপুর ও আলী নগরের ৩ হাজার ১শ’ একর পাহাড়ি জমি ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর আয়াত্তে নেয়া হয়েছে। পালিয়ে গেছে দখলকার সন্ত্রাসী ইয়াছিনসহ অন্যান্য বাহিনী। জঙ্গল সলিমপুর তিন থানার আওতায় পড়েছে। কিছু অংশ নগরীর বায়েজিদে অপর দুই অংশ পড়েছে জেলার সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী থানা এলাকায়।

সুত্রটি জানায়, ‘৯০দশক থেকে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি জমির হাত বদল, দখল বেদখল হতে শুরু করে। প্রথমে আলী আক্কাস পরে গফুর মেম্বার নুরুল হক ভান্ডারী, কাজী মশিউর গাজী ছাদেকসহ একদল জবর দখলকারীর হাতে চলে যায় এই পাহাড়ি অঞ্চল । আবার কাজী মশিউরকে হটিয়ে দখলে নেয় রোকন উদ্দীন গাজী ছাদেকসহ নুরুল হক ভান্ডারীরা। এর মধ্যে আবার দখল বেদখলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বন্দুক যুদ্ধ। মারা যান বেশ কয়েকজন। কিছুদিন শাসনে চলে আসেন রোকন উদ্দীন গাজী ছাদেকসহ অন্যন্য জনের হাতে। তবে বার বার জঙ্গল সলিমপুর হাত বদল হতে থাকলেও আলী নগরের একক নিয়ন্ত্রনে থাকে মোঃ ইয়াছিনের হাতে। পাহাড় কাটা, প্লট বিক্রি ও চাঁদাবাজির ভান্ডারকে কেন্দ্র করে যতসব হানাহানি গন্ডগোল খুন খারাবির মুল কারণ হচ্ছে দখলতন্ত্র কায়েম করা।

এদিকে ২০২৪সালের পট পরিবতন হলে আলী নগরে ইয়াছিন বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে রোকন বাহিনী দখল ভাগ করে নেয়। তবে রোকন উদ্দীন বেশি দিন দখলে রাখতে পারেনি পরে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রনে চলে যায় ইয়াছিন বাহিনীর হাতে। এর উপর ঘটে যায় সন্ত্রাসীদের নারকীয় তান্ডব। হামলায় নিহত হন র‌্যাবের সুবেদার নায়েব মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত হন বেশ কয়েকজন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। টনক নড়ে প্রশাসনের। এঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পাহাড়ি এলাকার চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। পাহাড়ের আইনশৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য বসানো হয় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প। চালানো হয় অন্তত চার হাজার আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্য নিয়ে যৌথ অভিযান। পালিয়ে যায় ইয়াছিনসহ তার বাহিনী। তবে গত মাসের ২৪ তারিখে আবার হামলা চালায় ইয়াছিন বাহিনী। র‌্যাব ক্যাম্প গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ পুলিশের আইজিপিসহ সরকারের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ ওই পাহাড়ি অঞ্চলে ছুটে যান। এর আগে সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযানে নামেন আইনশৃংখলাবাহিনী।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ত্রাসীদের শিকড় এখনো নির্মুল হয়নি। চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়নি। ভেতরে ভেতরে চলছে এখনও দখলদারিত্ব। আওয়ামী লীগের পতন হলেও অধিকাংশ সন্ত্রাসী জঙ্গল সলিমপুরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বস্তি এলাকায় স্থান করে নেয়। এমনকি বান্দরবানের কুকি চিন নামক বিদ্রোহীরাও নাকি আলী নগরে আশ্রয় নেয়।

সুত্র আরো জানান, এই জঙ্গল সলিমপুরকে নিয়ে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দের্য্যে ভরপুর এই পাহাড়ি অঞ্চলকে ঘিরে সরকার চাচ্ছে নানা অবকাঠামো গড়ে তুলে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। ইতোমধ্যে সরকার পরিবতন আনা শুরু করে দিয়েছেন। প্রথমে সেনাবাহিনীকে দিয়ে সড়ক নির্মাণ পরে অন্যান্য পরিকল্পনাগুলো সামনে নিয়ে আসা হবে। এর আগে গত ২ জুন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সামশুল আলম এলাকার সড়কগুলো পরিদশনে আসেন। একাজ শেষ হতে ৬মাস লাগবে।

তিনি বলেছেন,কালভাটসহ তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। নিরাপত্তায় র‌্যাব পুলিশ বিজিবির নিরাপত্তাবলয় রয়েছে। আলী নগর থেকে একটি সড়ক ভাটিয়ারীর বড়দিঘী লিংক রোডে এবং অপর সড়কটি জলিল টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হবে। এ কাজ শুরু করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। বদলে যাবে পুরো জঙ্গল সলিমপুরের চিত্র। জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ আর আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনী সহজে এপথে চলাচল করতে পারবে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাসে অন্তত তিনবার চাঁদা দিতো হতো। থাকতো নানা নির্যাতনও। দিন শেষ সন্ত্রাসীদের সময় শেষ চাঁদাবাজ দখলকারদের, এই শ্লোগান উঠেছে আলী নগর ও জঙ্গল সলিমপুরে।