বিজন কুমার বিশ্বাস,কক্সবাজার: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আগামীকাল (১৩ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনসভা ও সফরসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সুসজ্জিত মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী আজ সকাল পৌনে ১০টায় তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
সফরের শুরুতে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে মাছুয়াখালী খাল খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর সোয়া ১২টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দেশব্যাপী ২৫ কোটি রকমারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন।
দুপুর ১টায় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্রনেতা ওয়াসিম আকরামের পেকুয়ার মেহেরনামাস্থ কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরবর্তীতে বিকেল দেড়টায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকেল সোয়া ২টায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকেল ৪টায় চকরিয়া বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তিনি। জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি।
সভায় সভাপতিত্ব করবেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম। এছাড়াও জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন জানান, নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসভা ও সফরস্থলগুলোতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদ জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পেকুয়াস্থ নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে চকরিয়া, পেকুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে।




