আমেনা বেগম (এমএসএস):
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনে সবচেয়ে মমতাময়, নির্ভরতার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম ‘মা’। সন্তানের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রথম শিক্ষক তিনি। মায়ের ভালোবাসা এমন এক আশ্রয়, যেখানে নেই কোনো শর্ত, নেই কোনো স্বার্থ। তাই পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয় গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন করেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মা সম্মাননা প্রদান, বৃদ্ধাশ্রমে বিশেষ আয়োজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। বিশ্ব মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মায়ের অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিকতার দৌড়ে পরিবারে সম্পর্কের বন্ধন কিছুটা শিথিল হলেও মায়ের ভূমিকা আজও অপরিবর্তিত। বরং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে সন্তানদের মানসিক বিকাশে মায়ের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
মা: সন্তানের জীবনের প্রথম বিদ্যালয়
একটি শিশুর জন্মের পর তার প্রথম পৃথিবী হলো মা। শিশুর ভাষা শেখা, হাঁটা, ভালো-মন্দ বোঝা, সামাজিক আচরণ, মানবিকতা—সবকিছুর সূচনা হয় মায়ের হাত ধরেই। তাই বহু দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী মাকে সন্তানের ‘প্রথম বিদ্যালয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, একজন মায়ের স্নেহ ও নিরাপদ পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব শিশু পারিবারিক ভালোবাসা ও যত্ন পায়, তারা আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুরা অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক মূল্যবোধ গঠনে মায়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। একজন মা শুধু সন্তানকে বড় করেন না, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণেও নীরবে অবদান রাখেন।
ইতিহাসের পথ ধরে মা দিবস
মা দিবস পালনের ইতিহাস দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। প্রাচীন গ্রিসে দেবতাদের জননী ‘রিয়া’-কে সম্মান জানিয়ে উৎসব পালনের রীতি ছিল। পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাকে ঘিরে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান চালু হয়। তবে আধুনিক মা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী আনা জারভিস তার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ১৯০৮ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে মা দিবস উদযাপিত হয়। কোথাও এটি পারিবারিক উৎসব, কোথাও সামাজিক সচেতনতার দিন, আবার কোথাও নারীর অধিকার ও মাতৃত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মা দিবস
বাংলাদেশে মা দিবসের জনপ্রিয়তা গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের ফলে দিবসটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেগঘন এক উপলক্ষে পরিণত হয়েছে। অনেকে মাকে ফুল, শাড়ি, বই কিংবা পছন্দের উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। আবার কেউ কেউ দূরে থাকা মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে সময় কাটাচ্ছেন। রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে। কোথাও থাকছে মাকে নিয়ে ফটো কনটেস্ট, কোথাও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, আবার কোথাও আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ সারা বছর ধরে পালন করা জরুরি। কারণ অনেক মা এখনও অবহেলা, নিঃসঙ্গতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে মায়ের দীর্ঘশ্বাস
বিশ্ব মা দিবসের আনন্দের মাঝেও একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো—দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে। পারিবারিক ভাঙন, কর্মব্যস্ততা, বিদেশমুখী জীবনধারা এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের কারণে অনেক মা-বাবা সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। রাজধানীর কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রম ঘুরে দেখা গেছে, মা দিবসে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপহার ও খাবার নিয়ে এলেও অধিকাংশ মায়ের চোখে ছিল সন্তানদের জন্য অপেক্ষার ব্যথা। কেউ কেউ বছরের পর বছর সন্তানদের দেখা পান না। ৭২ বছর বয়সী রহিমা বেগম বলেন, “ছোটবেলায় সন্তানদের জন্য কত কষ্ট করেছি। এখন ওরা ব্যস্ত। মাঝে মাঝে ফোন দেয়, কিন্তু কাছে আসে না। মা দিবসে সবাই মায়ের কথা বলে, কিন্তু মায়ের পাশে কয়জন থাকে?” মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স্ক মায়েদের সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো সন্তানের সান্নিধ্য ও সম্মান। অর্থ বা উপহার নয়, বরং সময় ও আন্তরিক আচরণই তাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
কর্মজীবী মায়ের সংগ্রাম
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বেড়েছে। বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে অসংখ্য নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু কর্মজীবী মায়েদের প্রতিদিনই সামলাতে হয় দ্বৈত দায়িত্ব—একদিকে চাকরি, অন্যদিকে সংসার ও সন্তান লালন-পালন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মজীবী মায়েরা পরিবার ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তা পান না। মাতৃত্বকালীন সুবিধা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিশু যত্নকেন্দ্র এবং মানসিক সহায়তা এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে সীমিত। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাজমা আক্তার বলেন, “সকালে অফিস, রাতে বাসার কাজ—সব মিলিয়ে সময় খুব কম পাই। তারপরও সন্তানের হাসি দেখলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।” অর্থনীতিবিদদের মতে, নারীর শ্রম ও মাতৃত্বের মূল্যায়ন না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে মায়ের প্রতি সহায়ক নীতি গ্রহণ জরুরি।
প্রযুক্তির যুগে মা-সন্তানের সম্পর্ক
ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু পারিবারিক সম্পর্কেও এনেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এখন অনেক পরিবারে দেখা যায়, একই ঘরে থেকেও সদস্যরা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত। ফলে পারস্পরিক কথোপকথন ও মানসিক সংযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানদের মানসিক বিকাশে মায়ের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অনলাইন যোগাযোগ নয়, বাস্তব জীবনের সান্নিধ্য শিশুর আবেগ ও আত্মবিশ্বাস গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পারফেক্ট মা’ হওয়ার চাপও অনেক নারীর মধ্যে মানসিক উদ্বেগ তৈরি করছে। বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো আড়ালে রেখে কৃত্রিম সুখের প্রদর্শন অনেক সময় হতাশা বাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরিবারে আন্তরিকতা, খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহমর্মিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গ্রামীণ জনপদে মায়ের অদৃশ্য শ্রম
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে অসংখ্য মা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত সংসার, কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন ও সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। অথচ তাদের এই শ্রমের অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। গ্রামের নারীরা শুধু ঘরের কাজই করেন না, বরং কৃষি উৎপাদন ও পারিবারিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারপরও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, গ্রামীণ মায়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারণ একজন শিক্ষিত ও সচেতন মা পুরো পরিবারকে এগিয়ে নিতে পারেন।
মা ও সন্তানের আবেগঘন সম্পর্ক
মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর মানবিক সম্পর্কগুলোর একটি। একজন মা সন্তানের কষ্ট নিজের কষ্টের চেয়েও বেশি অনুভব করেন। সন্তানের সাফল্যে তিনি গর্বিত হন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়ান, আর বিপদে হয়ে ওঠেন সাহসের আশ্রয়।সাহিত্য, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় যুগে যুগে মাকে নিয়ে অসংখ্য সৃষ্টি হয়েছে। কবিরা মাকে তুলনা করেছেন ছায়াঘেরা বৃক্ষের সঙ্গে, আবার কেউ বলেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। বাংলাদেশের লোকসংগীত, আধুনিক গান ও কবিতায়ও মায়ের প্রতি ভালোবাসা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অনেক প্রবাসী সন্তান মা দিবসে দেশে থাকা মায়ের সঙ্গে কথা বলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ ভিডিও কলে রান্না শেখেন, কেউ শোনেন শৈশবের গল্প। দূরত্ব যতই বাড়ুক, মায়ের প্রতি টান কখনও কমে না।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, মা দিবসকে কেবল উপহার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবারে মায়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া, বয়স্ক মায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, গৃহিণীদের শ্রমের মূল্যায়ন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও সমান জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেক মা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও একাকীত্বে ভুগছেন। পরিবারে সহযোগিতা ও সম্মানজনক পরিবেশ না থাকলে মাতৃত্বের আনন্দও অনেক সময় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পরিবারে দায়িত্ব ভাগাভাগি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি সম্মান, বয়োজ্যেষ্ঠদের যত্ন এবং পারিবারিক মূল্যবোধ শেখানো প্রয়োজন। কারণ পরিবার থেকেই একটি মানবিক সমাজের ভিত্তি তৈরি হয়।
রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়েদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় নীতিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা, নিরাপদ গণপরিবহন, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া গৃহিণীদের অবৈতনিক শ্রমের সামাজিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গৃহস্থালির কাজ অর্থনৈতিক পরিমাপে অন্তর্ভুক্ত না হলেও জাতীয় উন্নয়নে এর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, মায়ের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। সন্তানদের কাছে মা শুধু দায়িত্ব পালনকারী একজন মানুষ নন, বরং একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, সংগ্রামী ও অনুভূতিসম্পন্ন ব্যক্তি—এই উপলব্ধি গড়ে তোলা জরুরি।
মা দিবসে কিছু বাস্তব উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মা দিবসকে অর্থবহ করতে কিছু বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেমন— মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো ও তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা; বয়স্ক মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা; সংসারের কাজে মাকে সহায়তা করা; কর্মজীবী মায়েদের মানসিক চাপ কমাতে পরিবারের সহযোগিতা বাড়ানো; বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মায়েদের পাশে দাঁড়ানো; গৃহিণীদের শ্রমের মূল্য স্বীকার করা; শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি সম্মান শেখানো; সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ছোট ছোট উদ্যোগই পরিবারে ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
মায়ের হাসিই পরিবারের শান্তি
অনেকেই বলেন, একটি পরিবারের প্রকৃত সুখ নির্ভর করে মায়ের হাসির ওপর। একজন মা ভালো থাকলে পুরো পরিবার ভালো থাকে। তাই শুধু মা দিবসে নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই মায়ের প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশ করা প্রয়োজন। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক সন্তান হয়তো মায়ের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন না। কিন্তু একটি ফোন কল, কিছু আন্তরিক কথা কিংবা সামান্য সময়ও একজন মায়ের জন্য অনেক বড় আনন্দ হতে পারে। বিশ্ব মা দিবস আমাদের সেই চিরন্তন সত্যটিই আবার স্মরণ করিয়ে দেয়—মায়ের ঋণ কখনও শোধ করা যায় না। তার ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের তুলনা নেই। তাই মাকে ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্ব, সম্মান ও মানবিকতারও অংশ।
শেষ কথা
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আজ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ তাদের মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ আলিঙ্গনে, কেউ স্মৃতিচারণায়, আবার কেউ নীরবে মায়ের পাশে বসে। কিন্তু এই ভালোবাসা যেন কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে—এটাই প্রত্যাশা। মা শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়; তিনি সাহস, ত্যাগ, মমতা ও আশ্রয়ের প্রতীক। জীবনের প্রতিটি সংকটে তিনি সন্তানের পাশে থাকেন অবিচলভাবে। তাই মা দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে—মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, যত্ন ও দায়িত্ববোধকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে তোলা। আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, অশেষ ভালোবাসা এবং সুস্থ-সুন্দর জীবনের শুভকামনা।




