নিজস্ব প্রতিবেদক: শহীদ আব্দুর রহিম ও শহীদ নুরে আলমকে হত্যার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। জনগণের দাবি আদায় সারাদেশে নজিরবিহীন লোডশেডিং ও জ্বালানীর অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ভোলা জেলা বিএনপির সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দু রহিম ও আইসিইউতে থাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলমও একদিন পর নিহত হয়। এই ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নিরহ জনগণের উপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। ইতোমধ্যে স্বৈরাচার সরকারের পতনের ঘণ্টা বেজে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট দুপুরে গায়েবী মামলার জামিন শুনানি শেষে কোর্ট হিল চত্বরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের নিপীড়নের সব অস্ত্র এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। হত্যা, গুম থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলায় দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মতো কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকার। এদেশের মানুষ কখনো ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতিকে মেনে নেবে না। দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ জনদুর্ভোগের বিষয়ে ভোলায় একটা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর পুলিশ গুলি করে দুইজন নেতাকে হত্যা করেছে। এটা একটা বড় ধরনের জঘন্য ঘটনা। এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। জনসাধারণকে এরকম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানাচ্ছি।

উল্লেখ, প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ৪৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে এবং আরো অজ্ঞাত ২৬ জনকে আসামি করে মোট ৭৫ জনের মামলা দায়ের করলে উচ্চ আদালত থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাসান বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এস এম সাইফুল আলম, নাজিবুর রহমান, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াসিন চৌধুরীর লিটন, মোহাম্মদ শাহ আলম, আব্দুল মান্নান, সদস্য আহমদুল আলম চৌধুরী রাসেল, গাজী মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহ, কামরুল ইসলাম, নগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, নগর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান সহ ২৩ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হয়।
মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এডভোকেট এস এম বদরুল আনোয়ার, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, এডভোকেট মফিজুল ভুইয়া, এডভোকেট এনামুল হক, এডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এডভোকেট কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ, এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী, এডভোকেট ইফতিকার মহসিন, এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী, এডভোকেট নেজাম উদ্দিন, এডভোকেট মাহমুদুল আলম চৌধুরী মারুফ, এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, এডভোকেট জায়েদ বিন রশিদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।




