ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব। একসময় এই বটতলায় দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত করলে বা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে কোনো আয়োজন করলে শোকজ নোটিশ দেওয়া হতো, এমনকি মসজিদের ইমাম বা কারিদের চাকরি পর্যন্ত চলে যেত। সেই ঐতিহাসিক স্থানেই এখন ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার মুক্ত পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ। তিনি বলেন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় এসএম ফরহাদ বিগত দেড় দশকের দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে শিবিরের কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হতো এবং তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হতো। ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পাওয়ার অজুহাতে শিক্ষার্থীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে মেস থেকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে তাদের সামনে সাজিয়ে রাখা হতো শিবিরের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিনকে জঙ্গি উপাদান হিসেবে।
শিবির নেতা বলেন, এই বটতলায় দাঁড়িয়ে আজ তারা সেই সব প্রকাশনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের এই প্রকাশনাগুলো যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান। তার দাবি, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম গড়ার প্রচেষ্টাকে ভয় পেত বলেই ইসলামের কথা বলায় বাধা দিত।
এসএম ফরহাদ আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এখন আর কাউকে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার জন্য শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। হাফেজদের তিলাওয়াত করলে চাকরি হারানোর ভয় বা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার হওয়ার আতঙ্ক আর নেই। শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম কখনোই বন্ধ ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার এই লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




