জাতীয় নির্বাচনে একই সঙ্গে পথ চললেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ও সংসদীয় রাজনীতির অবস্থান নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দুই শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জোটগত সমঝোতার বদলে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তের পর এই জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নতুন জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সমঝোতার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে এনসিপির অসন্তোষই সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচন পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে সংসদে মূল বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জোটটি। পরবর্তীতে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৯টি, এনসিপির ২টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার ১টি করে মোট ১৩টি আসন যুক্ত হয়। বর্তমানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে সম্প্রতি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জোটে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটিতে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এনসিপিসহ কয়েকটি শরিক দল পারস্পরিক সমঝোতা বা জোটবদ্ধ প্রার্থিতার প্রস্তাব দেয়। এনসিপি নেতাদের একাংশের মতে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সাংগঠনিক সহায়তায় তাদের প্রার্থীরা ভালো ফল করেছিলেন, তাই স্থানীয় নির্বাচনেও যৌথ অবস্থান থাকলে সাফল্য আসবে। তবে জামায়াত হাইকমান্ড সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকা অবস্থাতেও জামায়াত স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়েছিল—এমন যুক্তি দিয়ে এবারও এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। জামায়াত নেতাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে আসন ছাড় দিতে গিয়ে তৃণমূলে ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তাই স্থানীয় নির্বাচনে নিজ দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

জামায়াতের এমন অনড় অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে এনসিপি নিজস্ব নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করে। গত ২৯ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। পরে গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় প্রার্থী রদবদল করে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেন। অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষে গত ৪ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তবে কেন্দ্র থেকে একক লড়াইয়ের কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে কৌশলগত সমঝোতার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও এনসিপির ভেতরে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এনসিপির একাংশের অভিযোগ, সরকারি দল বিএনপির প্রতি জামায়াত নমনীয় অবস্থান প্রদর্শন করছে এবং জনবিরোধী ইস্যুতে জোরালো প্রতিবাদ না জানিয়ে আপসকামী বা কুসুম কুসুম বিরোধিতা করছে। সম্প্রতি যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে জয়ী বিএনপি প্রার্থীর সৌজন্য বিনিময়ের কঠোর সমালোচনা করেন। যদিও ওই নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে এবং রোববার ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াত।

রাজনৈতিক এই দূরত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় সম্প্রতি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে পরিচালিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা ছিলেন না। তবে বহর ও পরবর্তী পথসভাগুলোতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মুস্তাফিজ ও ফরিদুল হক এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

জোটের মধ্যে এ ধরনের দূরত্ব ও টানাপোড়েন দেখা দিলেও উভয় পক্ষই জোটে ভাঙনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ঐতিহাসিকভাবে জোটের দলগুলো স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই করে আসছে। এটি ১১ দলীয় ঐক্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এই ঐক্য অটুট থাকবে। লংমার্চের উদ্বোধনীতে এনসিপির অনুপস্থিতি নিয়ে আগাম বার্তা না থাকলেও পরবর্তী কর্মসূচিতে তারা যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও নিশ্চিত করেন যে, গত ২৭ অক্টোবরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলাদা নির্বাচন করার অর্থ জোটে ভাঙন নয়।

অন্যদিকে এনসিপি নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোটে কোনো প্রকার ফাটল ধরেনি বরং সরকারি কিছু মহল থেকেই ঐক্য বিনষ্টের নানা চক্রান্ত চলছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, জোট ছাড়ার গুঞ্জন পুরোপুরি ভিত্তিহীন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য সম্পূর্ণ একতাবদ্ধ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সম্প্রসারিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এনসিপি তার নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার বা বিরোধী পক্ষ—যে কারও ভুলের জবাবদিহি চাইতে এনসিপি পিছপা হবে না।

জাতীয় নির্বাচনে একই সঙ্গে পথ চললেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ও সংসদীয় রাজনীতির অবস্থান নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দুই শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জোটগত সমঝোতার বদলে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তের পর এই জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নতুন জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সমঝোতার প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া এবং রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে এনসিপির অসন্তোষই সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচন পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে সংসদে মূল বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জোটটি। পরবর্তীতে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের ৯টি, এনসিপির ২টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাগপার ১টি করে মোট ১৩টি আসন যুক্ত হয়। বর্তমানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে সম্প্রতি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জোটে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটিতে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এনসিপিসহ কয়েকটি শরিক দল পারস্পরিক সমঝোতা বা জোটবদ্ধ প্রার্থিতার প্রস্তাব দেয়। এনসিপি নেতাদের একাংশের মতে, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সাংগঠনিক সহায়তায় তাদের প্রার্থীরা ভালো ফল করেছিলেন, তাই স্থানীয় নির্বাচনেও যৌথ অবস্থান থাকলে সাফল্য আসবে। তবে জামায়াত হাইকমান্ড সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকা অবস্থাতেও জামায়াত স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়েছিল—এমন যুক্তি দিয়ে এবারও এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। জামায়াত নেতাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে আসন ছাড় দিতে গিয়ে তৃণমূলে ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তাই স্থানীয় নির্বাচনে নিজ দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

জামায়াতের এমন অনড় অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে এনসিপি নিজস্ব নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করে। গত ২৯ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে দলটি। পরে গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় প্রার্থী রদবদল করে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেন। অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষে গত ৪ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তবে কেন্দ্র থেকে একক লড়াইয়ের কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে কৌশলগত সমঝোতার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনি হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও এনসিপির ভেতরে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এনসিপির একাংশের অভিযোগ, সরকারি দল বিএনপির প্রতি জামায়াত নমনীয় অবস্থান প্রদর্শন করছে এবং জনবিরোধী ইস্যুতে জোরালো প্রতিবাদ না জানিয়ে আপসকামী বা কুসুম কুসুম বিরোধিতা করছে। সম্প্রতি যশোরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাবেশে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও পরাজিত জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে জয়ী বিএনপি প্রার্থীর সৌজন্য বিনিময়ের কঠোর সমালোচনা করেন। যদিও ওই নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে এবং রোববার ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াত।

রাজনৈতিক এই দূরত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায় সম্প্রতি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে পরিচালিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে। এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা ছিলেন না। তবে বহর ও পরবর্তী পথসভাগুলোতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মুস্তাফিজ ও ফরিদুল হক এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

জোটের মধ্যে এ ধরনের দূরত্ব ও টানাপোড়েন দেখা দিলেও উভয় পক্ষই জোটে ভাঙনের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ঐতিহাসিকভাবে জোটের দলগুলো স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই করে আসছে। এটি ১১ দলীয় ঐক্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এই ঐক্য অটুট থাকবে। লংমার্চের উদ্বোধনীতে এনসিপির অনুপস্থিতি নিয়ে আগাম বার্তা না থাকলেও পরবর্তী কর্মসূচিতে তারা যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও নিশ্চিত করেন যে, গত ২৭ অক্টোবরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলাদা নির্বাচন করার অর্থ জোটে ভাঙন নয়।

অন্যদিকে এনসিপি নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোটে কোনো প্রকার ফাটল ধরেনি বরং সরকারি কিছু মহল থেকেই ঐক্য বিনষ্টের নানা চক্রান্ত চলছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, জোট ছাড়ার গুঞ্জন পুরোপুরি ভিত্তিহীন। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণহত্যার বিচার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য সম্পূর্ণ একতাবদ্ধ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সম্প্রসারিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এনসিপি তার নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রাখবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার বা বিরোধী পক্ষ—যে কারও ভুলের জবাবদিহি চাইতে এনসিপি পিছপা হবে না।