দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে এই কার্যক্রম শুরুর পর শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে তিনটি জাহাজ মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।
এদিন এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ জাহাজ দুটি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া যাত্রা করেছিল এবং দিনশেষে নিরাপদে কক্সবাজারে ফিরে আসে।
সেন্টমার্টিনের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রথম দিন জাহাজটি দ্বীপে পৌঁছালে স্থানীয়রা পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পর্যটন মৌসুমে অর্জিত আয় দিয়েই দ্বীপের মানুষ সারা বছরের সংসার খরচ জোগাড় করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যটকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটে কেবিনের সুবিধা রয়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, এবার শুধু কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকেই জাহাজ চলাচল করবে; টেকনাফ বা অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি নেই। এছাড়া পর্যটকদের দ্বীপে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, ৫ নভেম্বর মৌসুমের প্রথম জাহাজটি নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছানোর পর ৬ নভেম্বর তিনটি জাহাজ রওয়ানা দিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।




