যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কে নেবে—সেই সিদ্ধান্তের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখবে, নাকি ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে, তা এ ভোটেই নির্ধারিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একই দিনে দুটি বিপরীতমুখী বার্তা পেল ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের ভাগ্য নির্ধারণী আসনগুলোর সর্বশেষ জরিপ দলকে বড় স্বস্তি দিলেও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দলীয় কোন্দল ও এক নেত্রীর আকস্মিক দলছুট অবস্থানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিড়ম্বনা।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের রয়েছে ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের অধীনে ৫৩টি আসন রয়েছে; আর ডেমোক্র্যাটদের হাতে আছে ৪৫টি আসন, যেখানে দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর তাঁদের সমর্থন জোগাচ্ছেন। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮টি এবং সিনেটে ৫১টি আসনের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসাব মতে, মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে রোববার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জনমত জরিপ ডেমোক্রেটিক পার্টির শিবিরে আশার সঞ্চার করেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ৫৩ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ শতাংশ। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে সামনে রয়েছেন। অর্থাৎ এই দুই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা যথাক্রমে ১১ ও ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের চেয়ে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ওহাইও এবং কানসাস—উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেছেন। তবে আলাস্কায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট এবং আইওয়ায় ১ পয়েন্ট। শেষোক্ত দুটি অঙ্গরাজ্যের এই ব্যবধান জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটিসীমার (মার্জিন অব এরর) ভেতরে থাকায় সেখানে মূল লড়াই কার্যত সমানে সমান। ফলে সাতটি অঙ্গরাজ্যের সব কটিতেই জয় সুনিশ্চিত—এমন কথা এখনই বলা না গেলেও ডেমোক্র্যাটরা কোনো রাজ্যেই পিছিয়ে নেই, যা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

জরিপের এই ইতিবাচক তথ্যের মাঝেই মিশিগান থেকে এসেছে ডেমোক্র্যাটদের জন্য চরম অস্বস্তিকর এক রাজনৈতিক নাটক। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বাছাইপর্বে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়া কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স রোববার প্রকাশ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে দেখা করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে দেওয়া এই রাজনৈতিক উপহার লুফে নিতে দেরি করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান পার্টিতে স্বাগত জানানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

এই রাজনৈতিক বিভাজনের পেছনে প্রধান কারণ ইসরায়েল ও গাজা সংঘাত নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের দীর্ঘদিনের নীতিগত মতপার্থক্য। স্টিভেন্স ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে আল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচক। বাছাইপর্বে তাঁদের দুজনের লড়াইয়েও এই বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। সম্প্রতি বাইরে থেকে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিতর্কিত বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে চড়াও হয়, যেখানে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সম্পর্ক দাবি করা হয়েছিল। স্টিভেন্স সেই বিজ্ঞাপনকে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আখ্যা দিয়ে আল-সাইয়েদকে তার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। আল-সাইয়েদের প্রচার শিবির অবশ্য বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে এবং আল-সাইয়েদ বিজ্ঞাপনের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও সরাসরি কোনো নিন্দা জানাতে রাজি হননি।

পরিকল্পনা ছিল, রোববার ডেট্রয়েটের গির্জায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে স্টিভেন্স ও আল-সাইয়েদ যৌথভাবে উপস্থিত হয়ে দলীয় ঐক্যের বার্তা দেবেন। কিন্তু সেই আয়োজন শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায়। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ডেবি ডিঙ্গেল জানান, অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল প্রচারের মূল বিষয়গুলো থেকে ভোটারদের নজর সরিয়ে দিচ্ছিল বলেই তিনি স্টিভেন্সকে অনুষ্ঠানে না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ফলে কেবল একটি অনুষ্ঠান বাতিলের খবর দিয়ে স্টিভেন্সের দলছুট সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করা কঠিন, কারণ এর পেছনে রয়েছে গভীর ও দীর্ঘদিনের নীতিগত দ্বন্দ্বে যুক্ত থাকা বিভিন্ন উপাদান।

স্টিভেন্সের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা। মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কার্টিস হার্টেল অভিযোগ করে বলেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমে স্টিভেন্স মূলত নিজের নৈতিক মূল্যবোধকেই বিসর্জন দিয়েছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার আল-সাইয়েদের প্রতি দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এমনকি স্টিভেন্সের দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফসহ তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মীরাও দলের মনোনীত প্রার্থী আল-সাইয়েদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে স্টিভেন্সের দলবিরোধী অবস্থানের কারণে উল্টো ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভেন্সের সমর্থনের খবর প্রকাশের পর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে আল-সাইয়েদের প্রচার তহবিল ১২ লাখ ডলার নতুন চাঁদা সংগ্রহ করেছে। এই অর্থসংগ্রহ ভোটের চূড়ান্ত ফলের কোনো নিশ্চয়তা না দিলেও এটি নির্দেশ করে যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

মিশিগানের এই নাটকীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে আসনটি শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাছাইপর্বে স্টিভেন্সকে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একাংশ তাঁর এই আহ্বানে প্রভাবিত হতে পারেন, বিশেষ করে যারা ইসরায়েল নীতি নিয়ে আল-সাইয়েদের অবস্থান নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ভোটের শেষ মুহূর্তে যখন ডেমোক্র্যাটদের মনোযোগ দেওয়ার কথা ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়ভার ও ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতার ওপর, তখন তাদের বাধ্য হয়ে দলের ভেতরের কোন্দলের ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। জরিপের ফল আশার আলো দেখালেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাই এখন ডেমোক্র্যাটদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কে নেবে—সেই সিদ্ধান্তের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখবে, নাকি ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাবে, তা এ ভোটেই নির্ধারিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একই দিনে দুটি বিপরীতমুখী বার্তা পেল ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের ভাগ্য নির্ধারণী আসনগুলোর সর্বশেষ জরিপ দলকে বড় স্বস্তি দিলেও মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দলীয় কোন্দল ও এক নেত্রীর আকস্মিক দলছুট অবস্থানে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিড়ম্বনা।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং ১০০ আসনবিশিষ্ট সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের রয়েছে ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের অধীনে ৫৩টি আসন রয়েছে; আর ডেমোক্র্যাটদের হাতে আছে ৪৫টি আসন, যেখানে দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর তাঁদের সমর্থন জোগাচ্ছেন। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮টি এবং সিনেটে ৫১টি আসনের প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসাব মতে, মূল লড়াই কেন্দ্রীভূত রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে রোববার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জনমত জরিপ ডেমোক্রেটিক পার্টির শিবিরে আশার সঞ্চার করেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ৫৩ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে আছেন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ শতাংশ। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের (৪৩ শতাংশ) চেয়ে ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে সামনে রয়েছেন। অর্থাৎ এই দুই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা যথাক্রমে ১১ ও ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন।

জরিপ অনুযায়ী, মেইন অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের চেয়ে ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ওহাইও এবং কানসাস—উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেছেন। তবে আলাস্কায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট এবং আইওয়ায় ১ পয়েন্ট। শেষোক্ত দুটি অঙ্গরাজ্যের এই ব্যবধান জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটিসীমার (মার্জিন অব এরর) ভেতরে থাকায় সেখানে মূল লড়াই কার্যত সমানে সমান। ফলে সাতটি অঙ্গরাজ্যের সব কটিতেই জয় সুনিশ্চিত—এমন কথা এখনই বলা না গেলেও ডেমোক্র্যাটরা কোনো রাজ্যেই পিছিয়ে নেই, যা দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

জরিপের এই ইতিবাচক তথ্যের মাঝেই মিশিগান থেকে এসেছে ডেমোক্র্যাটদের জন্য চরম অস্বস্তিকর এক রাজনৈতিক নাটক। ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বাছাইপর্বে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়া কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স রোববার প্রকাশ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে দেখা করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে দেওয়া এই রাজনৈতিক উপহার লুফে নিতে দেরি করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান পার্টিতে স্বাগত জানানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

এই রাজনৈতিক বিভাজনের পেছনে প্রধান কারণ ইসরায়েল ও গাজা সংঘাত নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের দীর্ঘদিনের নীতিগত মতপার্থক্য। স্টিভেন্স ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে আল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচক। বাছাইপর্বে তাঁদের দুজনের লড়াইয়েও এই বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। সম্প্রতি বাইরে থেকে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিতর্কিত বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে চড়াও হয়, যেখানে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সম্পর্ক দাবি করা হয়েছিল। স্টিভেন্স সেই বিজ্ঞাপনকে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আখ্যা দিয়ে আল-সাইয়েদকে তার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। আল-সাইয়েদের প্রচার শিবির অবশ্য বিজ্ঞাপনটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে এবং আল-সাইয়েদ বিজ্ঞাপনের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও সরাসরি কোনো নিন্দা জানাতে রাজি হননি।

পরিকল্পনা ছিল, রোববার ডেট্রয়েটের গির্জায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে স্টিভেন্স ও আল-সাইয়েদ যৌথভাবে উপস্থিত হয়ে দলীয় ঐক্যের বার্তা দেবেন। কিন্তু সেই আয়োজন শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায়। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ডেবি ডিঙ্গেল জানান, অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল প্রচারের মূল বিষয়গুলো থেকে ভোটারদের নজর সরিয়ে দিচ্ছিল বলেই তিনি স্টিভেন্সকে অনুষ্ঠানে না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ফলে কেবল একটি অনুষ্ঠান বাতিলের খবর দিয়ে স্টিভেন্সের দলছুট সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করা কঠিন, কারণ এর পেছনে রয়েছে গভীর ও দীর্ঘদিনের নীতিগত দ্বন্দ্বে যুক্ত থাকা বিভিন্ন উপাদান।

স্টিভেন্সের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা। মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কার্টিস হার্টেল অভিযোগ করে বলেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমে স্টিভেন্স মূলত নিজের নৈতিক মূল্যবোধকেই বিসর্জন দিয়েছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার আল-সাইয়েদের প্রতি দলের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এমনকি স্টিভেন্সের দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফসহ তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মীরাও দলের মনোনীত প্রার্থী আল-সাইয়েদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে স্টিভেন্সের দলবিরোধী অবস্থানের কারণে উল্টো ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভেন্সের সমর্থনের খবর প্রকাশের পর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে আল-সাইয়েদের প্রচার তহবিল ১২ লাখ ডলার নতুন চাঁদা সংগ্রহ করেছে। এই অর্থসংগ্রহ ভোটের চূড়ান্ত ফলের কোনো নিশ্চয়তা না দিলেও এটি নির্দেশ করে যে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

মিশিগানের এই নাটকীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলে আসনটি শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের হাতছাড়া হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাছাইপর্বে স্টিভেন্সকে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একাংশ তাঁর এই আহ্বানে প্রভাবিত হতে পারেন, বিশেষ করে যারা ইসরায়েল নীতি নিয়ে আল-সাইয়েদের অবস্থান নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ভোটের শেষ মুহূর্তে যখন ডেমোক্র্যাটদের মনোযোগ দেওয়ার কথা ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়ভার ও ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতার ওপর, তখন তাদের বাধ্য হয়ে দলের ভেতরের কোন্দলের ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে। জরিপের ফল আশার আলো দেখালেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামলে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসাই এখন ডেমোক্র্যাটদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।