দক্ষিণ লেবাননে পাহাড় ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দখল করা এলাকায় থাকা নিজেদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যেই এ অবকাঠামোগত তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। সড়ক তৈরির পাশাপাশি ওই ভূখণ্ডে একাধিক স্থাপনা ও পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলের আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহর এলাকায় এই নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে মারুন আল-রাস শহরটি সীমান্ত সংলগ্ন ইসরাইলি বসতি আভিভিমের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের যেসব স্থানে ইসরাইল সড়ক বানাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব। এই পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে লেবাননের জাতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি রক্ষা বাহিনী (ইউনিফিল) মোতায়েন রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২০ ও ২১ অক্টোবরের ওই আলোচনার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর এই নতুন পরিকাঠামো গড়ার খবর সামনে এল। টাম্পার সেই বৈঠক থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য সমঝোতা বা যৌথ বিবৃতি আসেনি, তবে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়। লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো বহাল রয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে স্বাক্ষরিত এক কাঠামোগত চুক্তিতে কথা ছিল—দখল করা লেবাননি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরাইল। বিপরীতে সেই এলাকাগুলোতে লেবাননের সরকারি সেনা মোতায়েন করা হবে এবং স্থানীয় সশস্ত্র দলগুলোকে নিরস্ত্র করা হবে। তবে সেই প্রস্তাবিত প্রক্রিয়ার মধ্যেও ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযান ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে কমপক্ষে ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।




