ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের জেরে মিরপুর ও আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হন। পরে তাঁরা হামীম গ্রুপের কারখানার সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। শ্রমিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহম্মেদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল।
একইভাবে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এই আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকার শিল্পকারখানাগুলো কর্তৃপক্ষ ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে। মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।




