রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মারুফ ওরফে দুখু মিয়া নামের এক কারখানাশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গতমঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রাণঘাতী গুলিটি কার অস্ত্র থেকে ছুড়ে মারা হয়েছিল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার দাবি করলেও, কার গুলিতে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

নিহত মারুফের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল তৈরির কারখানায় কাজ করতেন ২৪ বছর বয়সী মারুফ। প্রতিদিনের মতো সেদিন বিকেল পাঁচটায় কাজ শেষে বাসায় ফেরেন তিনি। জামাকাপড় বদলে বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ঘরে আসেন। স্ত্রী মীম আক্তার রুনাকে ‘তাড়াতাড়ি রান্না করো, অনেক ক্ষুধা লেগেছে। আমি আসছি’ বলে বের হন তিনি। এরপরই বাইরে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে দূর থেকে ঘটনা দেখতে যান। সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় এক বছর চার মাস আগে বিয়ে করা মারুফের কোনো সন্তান নেই। তাঁর বাবা আবদুর রশিদ আগেই মারা গেছেন; মা সেলিনা বেগম বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।

যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ওয়াসা গেটসংলগ্ন সিটি পল্লি, যা স্থানীয়ভাবে আউটফল বা তেলেগু কলোনি নামেও পরিচিত। এলাকার সরু ও ভাঙাচোরা অলিগলির ভেতরে থাকা পরিত্যক্ত চারতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের যাতায়াত ছিল। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, এলাকাটিতে গাড়ি নিয়ে ঢোকা কঠিন হওয়ায় হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে সাদা পোশাকে চার সদস্যের একটি দল তথ্য সংগ্রহ ও রেকির জন্য সেখানে যায়। সেখানে মাদকদ্রব্য দেখতে পেয়ে তাঁরা চারজনকে আটক করেন এবং তাঁদের মধ্যে তিনজনকে হাতকড়া পরান। তাদের কাছ থেকে ২৪৫টি ইয়াবা ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করা হয়।

এসআরবি কর্মকর্তার দাবি, হাতকড়া পরানোর পর আটক ব্যক্তিরা চিৎকার শুরু করলে চারপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে এসআরবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা প্রথমে গুলি বর্ষণ করে এবং সদস্যদের মারধর করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দুজন সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এসআরবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। অধিনায়কের দাবি, হামলাকারীদের দিক থেকেও ছয় থেকে আটটি গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থলে কয়টি গুলির খোসা পাওয়া গেছে বা কার গুলিতে মারুফ মারা গেছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসআরবি মুখপাত্রও জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

ঘটনার পর উদ্ধার ও মামলার এজাহার নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অসংগতি। নিহতের মা সেলিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল। অন্যদিকে পুলিশের মতে, গুলির গতিপথ ছিল গলার দিক থেকে শরীরের নিচের অংশ পর্যন্ত। তবে মামলার এজাহারে মারুফের ডান কাঁধে গুলি লাগার কথা বলা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্তদের গুলিতেই মারুফ মারা গেছেন। কিন্তু মা সেলিনা বেগমের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে থানায় গিয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত বসে থাকার পর একটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়, যার ভেতরে কী লেখা ছিল তা তিনি জানেন না। এই বিষয়ে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় হত্যা, মাদক এবং বাহিনীর ওপর হামলা সংক্রান্ত মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হত্যা মামলাটি আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো ধলপুর সিটি পল্লিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের নামে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন নিহত মারুফের বোন রোকসানা আক্তার। তবে পুলিশ জানায়, যৌথ অভিযানে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের যাচাই-বাছাই শেষে নির্দোষদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেখানে ১২০টি ঘর নির্মাণের একটি প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছিল। উপকমিশনার বলেন, ‘এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর বস্তিটি উচ্ছেদ করার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।’ এদিকে এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে হাতকড়া পরানোর সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দুজন সদস্যের গুলি ছোড়ার তথ্য মিলেছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মারুফ ওরফে দুখু মিয়া নামের এক কারখানাশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গতমঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রাণঘাতী গুলিটি কার অস্ত্র থেকে ছুড়ে মারা হয়েছিল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছোড়ার দাবি করলেও, কার গুলিতে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

নিহত মারুফের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল তৈরির কারখানায় কাজ করতেন ২৪ বছর বয়সী মারুফ। প্রতিদিনের মতো সেদিন বিকেল পাঁচটায় কাজ শেষে বাসায় ফেরেন তিনি। জামাকাপড় বদলে বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার ঘরে আসেন। স্ত্রী মীম আক্তার রুনাকে ‘তাড়াতাড়ি রান্না করো, অনেক ক্ষুধা লেগেছে। আমি আসছি’ বলে বের হন তিনি। এরপরই বাইরে গোলাগুলির শব্দ পেয়ে দূর থেকে ঘটনা দেখতে যান। সেখানেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় এক বছর চার মাস আগে বিয়ে করা মারুফের কোনো সন্তান নেই। তাঁর বাবা আবদুর রশিদ আগেই মারা গেছেন; মা সেলিনা বেগম বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।

যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর ওয়াসা গেটসংলগ্ন সিটি পল্লি, যা স্থানীয়ভাবে আউটফল বা তেলেগু কলোনি নামেও পরিচিত। এলাকার সরু ও ভাঙাচোরা অলিগলির ভেতরে থাকা পরিত্যক্ত চারতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবীদের যাতায়াত ছিল। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানান, এলাকাটিতে গাড়ি নিয়ে ঢোকা কঠিন হওয়ায় হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে সাদা পোশাকে চার সদস্যের একটি দল তথ্য সংগ্রহ ও রেকির জন্য সেখানে যায়। সেখানে মাদকদ্রব্য দেখতে পেয়ে তাঁরা চারজনকে আটক করেন এবং তাঁদের মধ্যে তিনজনকে হাতকড়া পরান। তাদের কাছ থেকে ২৪৫টি ইয়াবা ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করা হয়।

এসআরবি কর্মকর্তার দাবি, হাতকড়া পরানোর পর আটক ব্যক্তিরা চিৎকার শুরু করলে চারপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো হয়ে এসআরবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা প্রথমে গুলি বর্ষণ করে এবং সদস্যদের মারধর করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে দুজন সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এসআরবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে আকাশের দিকে চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। অধিনায়কের দাবি, হামলাকারীদের দিক থেকেও ছয় থেকে আটটি গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থলে কয়টি গুলির খোসা পাওয়া গেছে বা কার গুলিতে মারুফ মারা গেছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসআরবি মুখপাত্রও জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

ঘটনার পর উদ্ধার ও মামলার এজাহার নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা অসংগতি। নিহতের মা সেলিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল। অন্যদিকে পুলিশের মতে, গুলির গতিপথ ছিল গলার দিক থেকে শরীরের নিচের অংশ পর্যন্ত। তবে মামলার এজাহারে মারুফের ডান কাঁধে গুলি লাগার কথা বলা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্তদের গুলিতেই মারুফ মারা গেছেন। কিন্তু মা সেলিনা বেগমের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে থানায় গিয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত বসে থাকার পর একটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়, যার ভেতরে কী লেখা ছিল তা তিনি জানেন না। এই বিষয়ে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় হত্যা, মাদক এবং বাহিনীর ওপর হামলা সংক্রান্ত মোট তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হত্যা মামলাটি আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো ধলপুর সিটি পল্লিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযানের নামে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন নিহত মারুফের বোন রোকসানা আক্তার। তবে পুলিশ জানায়, যৌথ অভিযানে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের যাচাই-বাছাই শেষে নির্দোষদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেখানে ১২০টি ঘর নির্মাণের একটি প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছিল। উপকমিশনার বলেন, ‘এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর বস্তিটি উচ্ছেদ করার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।’ এদিকে এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে হাতকড়া পরানোর সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দুজন সদস্যের গুলি ছোড়ার তথ্য মিলেছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।