দি ক্রাইম ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড ও পটিয়া আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাছাইকালে এই পাঁচ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হকসহ ৩৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। অপরদিকে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন এই আসনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। যাচাই–বাছাই শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ১০ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হকসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসন : চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বাছাইকালে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বৈধ অপর প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌল্লা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদ্দৌলা। এই আসনে শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. নুরুর রশীদ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাইকালে স্বাক্ষরযুক্ত ভোটার তালিকার ভোটারদের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসন : চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়।

গতকাল শনিবার দুপুরে এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান। হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একইদিন যাচাই–বাছাইয়ের সময় চট্টগ্রাম–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্রের সাথে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত যে তালিকা দাখিল করেছেন তার মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে দশজনের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের সই (স্বাক্ষরের) করার সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্রও একই অভিযোগে বাতিল করা হয়। ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইকালে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. হেদায়েত উল্যাহ্‌ আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম–৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সাথে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সাথে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিতে হয়, সেখানে গরমিল পাওয়ায় এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের কাছে ঢাকা নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মহাসচিবের যে স্বাক্ষরের নমুনা দেওয়া হয়েছে সেখানে জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীর স্বাক্ষর আছে। কিন্তু আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর রুহুল আমিন হওলাদারের। এই কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসন : চট্টগ্রাম–৬ রাউজান সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা ছাড়াও এ আসনে আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার।

গতকাল শনিবার যাচাই–বাছাই শেষে বিএনপির দুই প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণত কোনো দল একজনকে প্রার্থী করে থাকে। তবে চট্টগ্রাম–৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রয়েছে, হয়তো এর আগেই একজন প্রত্যাহার করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই দিনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেন। আইন অনুযায়ী প্রথমটি বাছাই করে গ্রহণ করা হয়েছে। পরেরটি আর বাছাই করা হয়নি।

মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। দলের সিদ্ধান্ত যাই হোক, মাঠ আমি ছাড়ছি না। দল একজনকে তুলে ধরে, তবে মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক কারণে কাউকে সান্ত্বনা দিতে হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, রাউজানে সহিংসতাগুলো হচ্ছে চাঁদাবাজি, বালু ব্যবসা ইত্যাদি কারণে। এমন না যে দলের দুই পক্ষ, তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এসব হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসন : চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে মোট ৯ প্রার্থীর মধ্যে গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিমসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। বৈধ ঘোষিত অন্য ৪ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাশেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল্লাহ আল হারুন এবং খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম। এই আসনে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমানের সমর্থনকারীর স্বাক্ষর নাই, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য নাই, ফরম ২০ ও ২১ নাই এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকার নামা না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দিনের দলের মনোনয়ন সঠিক নাই এবং অঙ্গীকারনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়ার দলের মনোনয়ন সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসন : চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে মোট ১১ প্রার্থীর মধ্যে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এম ইয়াকুব আলীসহ চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মো. পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু তালেব হেলালী ও জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপির দায়ে এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রের সত্যতা না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদ তার মনোনয়নপত্রের ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত যে তালিকা দাখিল করেছেন এই তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে সরজমিনে যাচাইকালে উক্ত ভোটারদের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাখাওয়াত হোসাইনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয় গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হবে আজ ৪ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

দি ক্রাইম ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড ও পটিয়া আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাছাইকালে এই পাঁচ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হকসহ ৩৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। অপরদিকে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান, চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করেন এই আসনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। যাচাই–বাছাই শেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ১০ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীসহ ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং বিএনপির বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হকসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসন : চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বাছাইকালে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বৈধ অপর প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌল্লা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদ্দৌলা। এই আসনে শুধুমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুর রশীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. নুরুর রশীদ মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাইকালে স্বাক্ষরযুক্ত ভোটার তালিকার ভোটারদের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসন : চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়।

গতকাল শনিবার দুপুরে এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান। হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একইদিন যাচাই–বাছাইয়ের সময় চট্টগ্রাম–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্রের সাথে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত যে তালিকা দাখিল করেছেন তার মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে দশজনের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের সই (স্বাক্ষরের) করার সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের মনোনয়নপত্রও একই অভিযোগে বাতিল করা হয়। ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইকালে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. হেদায়েত উল্যাহ্‌ আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম–৫ আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার মনোনয়নপত্রের সাথে দলীয় যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সেখানকার স্বাক্ষরের সাথে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে গরমিল রয়েছে। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিতে হয়, সেখানে গরমিল পাওয়ায় এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের কাছে ঢাকা নির্বাচন কমিশন থেকে জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মহাসচিবের যে স্বাক্ষরের নমুনা দেওয়া হয়েছে সেখানে জি এম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারীর স্বাক্ষর আছে। কিন্তু আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষর রুহুল আমিন হওলাদারের। এই কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসন : চট্টগ্রাম–৬ রাউজান সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির দুই প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা ছাড়াও এ আসনে আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার।

গতকাল শনিবার যাচাই–বাছাই শেষে বিএনপির দুই প্রার্থীসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণত কোনো দল একজনকে প্রার্থী করে থাকে। তবে চট্টগ্রাম–৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রয়েছে, হয়তো এর আগেই একজন প্রত্যাহার করবেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই দিনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেন। আইন অনুযায়ী প্রথমটি বাছাই করে গ্রহণ করা হয়েছে। পরেরটি আর বাছাই করা হয়নি।

মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। দলের সিদ্ধান্ত যাই হোক, মাঠ আমি ছাড়ছি না। দল একজনকে তুলে ধরে, তবে মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক কারণে কাউকে সান্ত্বনা দিতে হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, রাউজানে সহিংসতাগুলো হচ্ছে চাঁদাবাজি, বালু ব্যবসা ইত্যাদি কারণে। এমন না যে দলের দুই পক্ষ, তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এসব হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসন : চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে মোট ৯ প্রার্থীর মধ্যে গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিমসহ ৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার। বৈধ ঘোষিত অন্য ৪ প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাশেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল্লাহ আল হারুন এবং খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম। এই আসনে ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমানের সমর্থনকারীর স্বাক্ষর নাই, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য নাই, ফরম ২০ ও ২১ নাই এবং ব্যক্তিগত অঙ্গীকার নামা না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দিনের দলের মনোনয়ন সঠিক নাই এবং অঙ্গীকারনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়ার দলের মনোনয়ন সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসন : চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনে মোট ১১ প্রার্থীর মধ্যে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) এম ইয়াকুব আলীসহ চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ ৭ জনের মনোনয়নপত্র। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মো. পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আবু তালেব হেলালী ও জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপির দায়ে এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রের সত্যতা না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত আহমেদ তার মনোনয়নপত্রের ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত যে তালিকা দাখিল করেছেন এই তালিকা থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে সরজমিনে যাচাইকালে উক্ত ভোটারদের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শাখাওয়াত হোসাইনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয় গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হবে আজ ৪ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।