দি ক্রাইম ডেস্ক: ছাত্রলীগ করা যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও সেই অপরাধের আওতায় পড়েন—এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসান। তিনি বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা তিনি মানেন না।
এক ভিডিওবার্তায় মাহদী হাসান বলেন, ‘পূর্বে ছাত্রলীগ করার কারণে যদি একটা মানুষ অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তো আমাদের যে সকল মূল সমন্বয়কারী ভাইয়েরা ছিলেন, তাদের মাঝে সারজিস আলম ভাই; উনিও একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাহলে সারজিস আলম ভাই নিজেও অপরাধী।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু একজন না, আমি অসংখ্য মানুষকে এরকম দেখাতে পারবো। বর্তমানে হবিগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে একটা ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে—যারা নিরপরাধ মানুষ, কিন্তু তারা একটা সময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই যে ট্যাগিং-এর রাজনীতি; ডেভিল বলে, ডেভিল আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই জায়গা থেকে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমরা যারা নেতৃত্ব দিয়েছি, আমরা অন্তত এটা মানতে পারি না।’
এদিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তার আটকের প্রতিবাদে মাহদীর অনুসারীরা থানা ঘেরাও করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর তার নিজ বাসা থেকে মাহদীকে আটক করা হয়।
মাহদী হাসানের আটকের প্রতিবাদে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা। অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তারা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’—এমন স্লোগান দেন।
রাত সোয়া ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র–শ্রমিক–জনতাকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কার্যক্রম থেকে দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করার দাবিও জানান তিনি।
মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তার কথায় প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করে আজকের মতো অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। তবে রাতের মধ্যে মুক্তি না দেওয়া হলে আগামীকাল সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’—এমন বক্তব্যের সূত্র ধরে মাহদী হাসান আলোচনায় আসেন। ওই বক্তব্য ঘিরেই শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।




