দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরের প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন উন্নয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়বে এবং চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে।
তিনি গতকাল শনিবার নগরের মোজাফফর নগরে মীর্জা খাল পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, দখল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মেয়র বলেন, খাল নগরের প্রাণপ্রবাহ। খাল দখল করে কেউ পার পাবে না। যেসব স্থানে অবৈধভাবে দখল করা হয় সেগুলোর অনেকগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলোও চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, খাল–নালায় ময়লা ফেলা জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। যেখানে–সেখানে বর্জ্য ফেললে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং জলাবদ্ধতা ফিরে আসবে।
ডা. শাহাদাত জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে গুরুত্বারোপ করে বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অস্থায়ী বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় আর নয়, চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থায়ী সমাধানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের মাধ্যমে ৩৬টি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা খালগুলোর সংস্কার ও খননের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে বাকি খালগুলো খনন ও পুনঃসংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে আগের তুলনায় শহরে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে। তবে কিছু এলাকায় চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বিষয়টি বুঝতে আমি নিজেই পানিতে নেমে নালা পরিষ্কার করেছি, সমস্যার উৎস খুঁজেছি। পরিষ্কারের পরও যখন পানি উঠেছে, তখন স্পষ্ট হয়েছে, এটি টেম্পোরারি সমাধানে সম্ভব নয়, এখানে পারমানেন্ট সলিউশন প্রয়োজন।




