দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় অপূর্ব সৌন্দর্যের পর্যটন কেন্দ্র পারকি সৈকতে এক বছর পর আবারও মৃত কচ্ছপের ঘটনা ধরা পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সৈকতের বালুচরে পড়ে থাকা কচ্ছপের মৃত্যু পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। মৃত কচ্ছপগুলো কয়েকদিন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন বালুচরের কচ্ছপগুলো অপসারণ করে মাটির নিচে চাপা দিয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় ও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর আলম জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সৈকতের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ১০–১২টি বড় কচ্ছপ মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সেসময় এসব মৃত কচ্ছপ কয়েক সপ্তাহ দুর্গন্ধ ছড়ালেও উপজেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় স্থাপনা কোনো ব্যবস্থা নেননি। একইভাবে, গত কয়েকদিন ধরে আবারও সৈকতের বালুচরে মৃত কচ্ছপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মৃত কচ্ছপের দুর্গন্ধে পর্যটকরা অস্বস্তি বোধ করেন।
চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে বেড়াতে আসা প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিন বলেন, পারকি সৈকতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে। ফলে মানুষ শহরের এত কাছেই থাকা সত্ত্বেও এই পর্যটন কেন্দ্রে না এসে পার্বত্য জেলা বা কঙবাজারে ছুটে যায়। তার মতে, সৈকতের বালুচর দখল করে বাইকারদের উৎপাত, নানা ময়লা আবর্জনা এবং পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকার কারণে এই পর্যটন কেন্দ্র দিন দিন পর্যটকের আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে সঠিক ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিতভাবে সমপ্রসারণ করলে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত খান আমু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সৈকতে এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত উত্তোলন এবং সাগরে বিভিন্ন কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কচ্ছপসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু বাড়ছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহিমিনা আকতার জানান, মৃত কচ্ছপগুলো শনিবার দুপুরে অপসারণ করে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছে।




