নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার থেকে যেভাবে আসবে, সেভাবেই অবস্থা বুঝে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান। জাহাজটি যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনের বন্দরে আটকে রয়েছে আগ থেকে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান। এর আগে গত বুধবার রাতে রাশিয়ার রকেট হামলার শিকার হয় যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। এ ঘটনায় মো. হাদিসুর রহমান (৩৩) নামে একজন থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। তবে ২৮ জন নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হুসাইন।
ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সর্বশেষ রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। হামলায় জাহাজের নেভিগেশন গেট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে বাকিরা নিরাপদে জাহাজের ভেতরে অবস্থান করছেন। এ মুহূর্তে বাইরে কোনো নিরাপত্তা নেই। কেউ নিরাপত্তা দিচ্ছে না। এখনো সবাই জাহাজে আছেন। বাইরের চেয়ে জাহাজের ভেতরেই নাবিকরা বেশি নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে। জাহাজে তো পাওয়ার, জ্বালানি তেল, খাবার সবকিছুই ঠিক আছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার থেকে যেভাবে আসবে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে অবস্থা বুঝে। কোনো ধরনের সুযোগ এলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ। এরপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ জাহাজের ভেতরে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সবাইকে জাহাজে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জাহাজটিতে এক মাসের খাদ্য মজুত রয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পীযুষ দত্ত বলেন, জাহাজটিতে নাবিক ও ইঞ্জিনিয়ারসহ এখনো ২৮ জন অবস্থান করছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ মুহূর্তে জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যাওয়া নিরাপদ নয়। বাংলার সমৃদ্ধি নামের ওই জাহাজটি ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেখানে আটকে পড়ে। মাত্র কয়েকদিন আগে জাহাজের একজন নাবিক গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে দেশে ফিরে আসার জন্য তাদের তীব্র আকুতির কথা জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, হাদিসুরের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নে। হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে আনার আকুতি জানিয়েছে তার বাবা। তিনি বলেন, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে ইউক্রেন থেকে ওই জাহাজে থাকা নাবিকরা আমাদের ফোন করে বিষয়টি জানান। যেভাবেই হোক আমার ছেলের মরদেহ যেন দেখতে পারি। সরকার তার মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলে আমরা আশা করি।
হাদিসুরের চাচা বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান বলেন, আমার চাচাতো ভাই মাদরাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে হাদিসুর। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি থেকে লেখাপড়া শেষ করে ২০১৮ সাল থেকে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বির বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তারা ভালো আছেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে থাকাই ভালো। নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা আছে।




