নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারের আর্থিক ক্ষতি, শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হলেন চট্টগ্রাম মহানগরের কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের ৩ শিক্ষক। তারা হলেন- স্কুল শাখার ইসলাম ধর্মের শিক্ষক আহমেদ উল্লাহ কুতুবী ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদা মোখতার তানজিন এবং কলেজ শাখার প্রভাষিকা লুৎফুন্নেসা সিকদার।

বিভিন্ন তথ্য- উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক আহমেদ উল্লাহ বিগত ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সাল পর্যন্ত কুতুবদিয়া মডেল হাই স্কুলে আহমেদ উল্লাহ নামে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন তাঁর ইনডেক্স নম্বর ছিল ১০২৮১১৪। স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে স্কুল সভাপতির আবেদনের প্রেক্ষিতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বাতিল হয়ে যায় তাঁর নিয়োগ। পরবর্তীতে তিনি নগরীর সারাদিনের স্কুলে চাকরি গ্রহণ করেন। এতে এমপিও চলমান না থাকায় ইনডেক্স নম্বরও বিলুপ্তি হয়। তারপর কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখায় প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে তিনি যথানিয়মে চাকরি গ্রহণ করেন।

জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাকালীন সময়ে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য ফাইল প্রস্তুত করে মাউশি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ফাইল ফেরৎ পাঠানো হয়।

মাউশির একটি প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মাউশির স্মারক নং-৩এম-১৯৮-ম/২০১৩/৮৩৩১/৪ তারিখ ০৯/০৮/২০১৫ তারিখের এমপিওভুক্তকরণ পত্রে ক্রমিক নং-১এ আবেদন অনুমোদন না হওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয় ১৩/১১/২০১১ তারিখের পরে অনুমোদিত শাখার বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় আবেদন ফেরৎ পাঠানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যাত হলেও সম্প্রতি আহমেদ উল্লাহ কুতুবী নামে ইনডেক্স নম্বর-এন ৫৬৮৭১৫৬৭ ধারণ করে নতুনভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। একই ব্যক্তি কী কারণে ২টি ইনডেক্স নাম্বার পেলেন এবং দীর্ঘ ১৫ বছর পর কোন যাদুর ছোঁয়ায় এমপিওভুক্ত হলেন তা তদন্তে দাবি খোদ প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের।

এদিকে কলেজ শাখার সহকর্মীদের দাবি, সানজিদা মোখতার তানজিন এবং লুৎফুন্নেসা সিকদার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৎকালীন মাউশি, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান ড. গোলাম মাওলা, মাউশির সিনিয়র কর্মকর্তা প্রফেসর মোশাররফ হোসেন এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় এমপিওভুক্তি হয়েছেন। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পরিচালনা কমিটির সভার কার্যবিবরণী পাল্টিয়ে তাঁরা দু’জন শিক্ষক নিয়োগকালীন সময় শিক্ষক নিবন্ধন পাশ না করেই এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

অভিযোগ আছে, কলেজ শাখা চালু করার পূর্বে দৈনিক আজাদীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তাতে শর্ত ছিল শিক্ষক নিবন্ধন আবশ্যক। অন্যান্য আবেদনকারীরা যথারীতি শিক্ষক নিবন্ধন পাশের সনদ জমা দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এ দু’জন আবেদনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে শুধুমাত্র খণ্ডকালীন প্রভাষিকা হয়ে কিছুদিনের জন্য নিয়োগ পান। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তির আট বছর পর এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হলে পূর্বের পরিচালনা কমিটির রেখে যাওয়া সভার কার্যবিবরণী পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেন গভর্নিং বডির সভাপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।

অভিযুক্তদের নানা ফাঁকফোকর জানিয়ে দেন মাউশিতে ১৬ বছর ধরে কর্মরত অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন। তাঁরা রেজ্যুলেশন খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে এবং কিছু অংশে পূর্বের সিদ্ধান্ত বদল করে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেন। মাউশির সিনিয়র কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করে ফাইল পাঠানো হয় মাউশি কার্যালয়ে। সভার মূল কার্যবিবরণীতে অনেক উলট-পালট হলেও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান ড. গোলাম মওলা তা দৃষ্টিতে না এনে এড়িয়ে যান। এ ছাড়া এমপিওভুক্তির জন্য যে দুটি কমিটি করা হয়েছিল তারাও গোপন আঁতাত করে কোন কিছু বাছ-বিচার না করেই ফাইল অনুমোদন দেন।

শিক্ষক নিবন্ধন পাশ না করে কেন নিয়োগ পরীক্ষা দিলেন জানতে চাইলে সানজিদা মোখতার বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি আবেদন করেছি। তিনিসহ ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হওয়ায় নিয়োগ পেয়েছে। তার নিয়োগ বৈধ। তার এনটিআরসিএ সনদ ২০১৩ সালের।

এ ব্যাপারে লুৎফুরন্নেছা সিকদার মোবাইলে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। প্রতিবেদককে স্কুলে এসে বক্তব্য নিতে বলেন। অপরদিকে আহমেদ উল্লাহ কুতুবী ২টি ইনডেক্স নাম্বারের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে জানান।

বিষয়টি স্বীকার করে সাবেক অধ্যক্ষ ও তৎকালীন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যে তিনজন এমপিওভুক্ত হয়েছেন তারা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে নিয়োগ প্রাপ্ত। তিনি ২০২১ সালে চলে আসার পর কিভাবে তারা এমপিও ভূক্ত হন জানেন না। এ ব্যাপারে তিনি তদন্তের দাবি করেন।

অভিজ্ঞমহল বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে ঘাঁপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য দমাতে না পারলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হয়ে যাবে। প্রকৃত অর্থে শিক্ষক যদি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষকতা করেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে না। অবিলম্বে ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির বীজ উৎঘাটন করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিনিধি: সরকারের আর্থিক ক্ষতি, শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হলেন চট্টগ্রাম মহানগরের কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের ৩ শিক্ষক। তারা হলেন- স্কুল শাখার ইসলাম ধর্মের শিক্ষক আহমেদ উল্লাহ কুতুবী ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানজিদা মোখতার তানজিন এবং কলেজ শাখার প্রভাষিকা লুৎফুন্নেসা সিকদার।

বিভিন্ন তথ্য- উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক আহমেদ উল্লাহ বিগত ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ সাল পর্যন্ত কুতুবদিয়া মডেল হাই স্কুলে আহমেদ উল্লাহ নামে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন তাঁর ইনডেক্স নম্বর ছিল ১০২৮১১৪। স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে স্কুল সভাপতির আবেদনের প্রেক্ষিতে নৈতিক স্খলনের দায়ে বাতিল হয়ে যায় তাঁর নিয়োগ। পরবর্তীতে তিনি নগরীর সারাদিনের স্কুলে চাকরি গ্রহণ করেন। এতে এমপিও চলমান না থাকায় ইনডেক্স নম্বরও বিলুপ্তি হয়। তারপর কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখায় প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে তিনি যথানিয়মে চাকরি গ্রহণ করেন।

জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাকালীন সময়ে এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য ফাইল প্রস্তুত করে মাউশি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ফাইল ফেরৎ পাঠানো হয়।

মাউশির একটি প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মাউশির স্মারক নং-৩এম-১৯৮-ম/২০১৩/৮৩৩১/৪ তারিখ ০৯/০৮/২০১৫ তারিখের এমপিওভুক্তকরণ পত্রে ক্রমিক নং-১এ আবেদন অনুমোদন না হওয়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয় ১৩/১১/২০১১ তারিখের পরে অনুমোদিত শাখার বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় আবেদন ফেরৎ পাঠানো হয়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যাত হলেও সম্প্রতি আহমেদ উল্লাহ কুতুবী নামে ইনডেক্স নম্বর-এন ৫৬৮৭১৫৬৭ ধারণ করে নতুনভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। একই ব্যক্তি কী কারণে ২টি ইনডেক্স নাম্বার পেলেন এবং দীর্ঘ ১৫ বছর পর কোন যাদুর ছোঁয়ায় এমপিওভুক্ত হলেন তা তদন্তে দাবি খোদ প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের।

এদিকে কলেজ শাখার সহকর্মীদের দাবি, সানজিদা মোখতার তানজিন এবং লুৎফুন্নেসা সিকদার জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৎকালীন মাউশি, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান ড. গোলাম মাওলা, মাউশির সিনিয়র কর্মকর্তা প্রফেসর মোশাররফ হোসেন এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় এমপিওভুক্তি হয়েছেন। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পরিচালনা কমিটির সভার কার্যবিবরণী পাল্টিয়ে তাঁরা দু’জন শিক্ষক নিয়োগকালীন সময় শিক্ষক নিবন্ধন পাশ না করেই এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

অভিযোগ আছে, কলেজ শাখা চালু করার পূর্বে দৈনিক আজাদীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তাতে শর্ত ছিল শিক্ষক নিবন্ধন আবশ্যক। অন্যান্য আবেদনকারীরা যথারীতি শিক্ষক নিবন্ধন পাশের সনদ জমা দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু এ দু’জন আবেদনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশে শুধুমাত্র খণ্ডকালীন প্রভাষিকা হয়ে কিছুদিনের জন্য নিয়োগ পান। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তির আট বছর পর এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হলে পূর্বের পরিচালনা কমিটির রেখে যাওয়া সভার কার্যবিবরণী পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেন গভর্নিং বডির সভাপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ।

অভিযুক্তদের নানা ফাঁকফোকর জানিয়ে দেন মাউশিতে ১৬ বছর ধরে কর্মরত অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন। তাঁরা রেজ্যুলেশন খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে এবং কিছু অংশে পূর্বের সিদ্ধান্ত বদল করে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেন। মাউশির সিনিয়র কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের পরামর্শে প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করে ফাইল পাঠানো হয় মাউশি কার্যালয়ে। সভার মূল কার্যবিবরণীতে অনেক উলট-পালট হলেও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প্রধান ড. গোলাম মওলা তা দৃষ্টিতে না এনে এড়িয়ে যান। এ ছাড়া এমপিওভুক্তির জন্য যে দুটি কমিটি করা হয়েছিল তারাও গোপন আঁতাত করে কোন কিছু বাছ-বিচার না করেই ফাইল অনুমোদন দেন।

শিক্ষক নিবন্ধন পাশ না করে কেন নিয়োগ পরীক্ষা দিলেন জানতে চাইলে সানজিদা মোখতার বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি আবেদন করেছি। তিনিসহ ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম হওয়ায় নিয়োগ পেয়েছে। তার নিয়োগ বৈধ। তার এনটিআরসিএ সনদ ২০১৩ সালের।

এ ব্যাপারে লুৎফুরন্নেছা সিকদার মোবাইলে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। প্রতিবেদককে স্কুলে এসে বক্তব্য নিতে বলেন। অপরদিকে আহমেদ উল্লাহ কুতুবী ২টি ইনডেক্স নাম্বারের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে জানান।

বিষয়টি স্বীকার করে সাবেক অধ্যক্ষ ও তৎকালীন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, যে তিনজন এমপিওভুক্ত হয়েছেন তারা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বেতনে নিয়োগ প্রাপ্ত। তিনি ২০২১ সালে চলে আসার পর কিভাবে তারা এমপিও ভূক্ত হন জানেন না। এ ব্যাপারে তিনি তদন্তের দাবি করেন।

অভিজ্ঞমহল বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে ঘাঁপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য দমাতে না পারলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা কলুষিত হয়ে যাবে। প্রকৃত অর্থে শিক্ষক যদি দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষকতা করেন তাহলে প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে না। অবিলম্বে ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির বীজ উৎঘাটন করা জরুরি।