নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) রাজস্ব খাতের কতেক কর্মচারী অথরাইজড বিভাগের নকশা অনুমোদনের ফরম বিক্রী বাবদ ২ হাজার ও কল্যাণ ফান্ডের ২০ টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে পূবালী ব্যাংকের ভুয়া সীল স্বাক্ষর জাল করে ৪ বছর যাবৎ কোটি কোটি টাকা আত্বসাৎ করেছে। এই কর্মচারীরা হলেন-ডেসপাস শাখায় অবৈধভাবে কর্মরত শাহদাৎ হোসেন ও অথরাইজড শাখার পিয়ন আবদুল হাই।
সূত্রে জানা গেছে, শাহদাৎ হোসেনের মূল পদবী দারোয়ান। সে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব সাইফুল ইসলামকে কৌশলে বশে নিয়ে সম্পূন্ন অন্যায়ভাবে ভারপ্রাপ্ত এলডিএ হিসাবে পারচেজ শাখায় পদায়ন হলেও সে তার মূল কর্মস্থলে না বসে ডেসপাস শাখায় কর্মরত থেকে এহেন দু’নম্বরী জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে হঠাৎ আঙ্গুলফুলে কলাগাছ বনে গেছে। তার এ অপকর্মের টাকা দিয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণসহ গাড়ি ও সম্প্রতি ১৬ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি ক্রয়ও করেন। পিয়ন আবদুল হাই সরকারী রাজস্ব হাতিয়ে নিয়ে তার ছেলেকে ৫০/৬০ লক্ষ টাকার নগদ ব্যাংক ব্যালেন্স দেখিয়ে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠায়। এ ছাড়াও নগদ ব্যাংক ব্যালেন্সসহ দেশের বাড়িতে বিপুল সম্পদ ক্রয় করেন।
সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ২০ মিনিটে বিমানবন্দর
আরো পড়ুনঃ https://thecrimebd.net/news/51561/
সুত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট অথরাইজড শাখা-১ এ নকশা অনুমোদনের জন্য জমা হওয়া প্রায় ৪৭টি বিসি কেইচ নথির মধ্যে ৪৬টি নথির ব্যাংকে জমা করা টাকার স্লিপ জাল। যারা এই নকশা অনুমোদনের জন্য টাকা দিয়েছে তারা এই জাল এবং ভুয়া সীল দেখে হতবাক হয়ে পড়ে। জমাদানকারীরা ওই দু’কর্মচারীকে মারমুখী আচরণ করলে ওই দিন তারা বেশ ক’জনকে টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য হয় এবং গঠনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্ঠা চালায়।
এ ব্যাপারে শাহদাৎ হোসেনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, আমি এই জাল জালিয়তি ও ব্যাংক সীল জাল করিনি বলে তিনি টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পিয়ন আবদুল হাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, কে বা কারা আমার হাতের লেখা নকল করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য জালজালিয়তি করে সরকারী রাজস্ব আত্বসাৎ করেছে। আপনি কেন গ্রাহকদেরকে টাকা ফেরৎ দিয়েছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সিডিএ সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, একই ভাবে ভূমি ব্যবহার ছাড় পত্রের জন্য জমা দেওয়া শত শত নথির ব্যাংক স্লিপ জাল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। এই শাখার ডেসপাস শাখায় কর্মরত মাহতাব, ডিসিটিপি আবু ঈশা আনচারীর ব্যক্তিগত পিএ সোহেল ও সেকসন অফিসার আশরাফি এই জালজালিয়তির সাথে সরাসরি জড়িত। মাহতাব ড্যাব প্রকল্প এর আওতায় কর্মরত রয়েছে।
সিডিএ’র সিবিএর কর্মকর্তারা দি ক্রাইমকে জানান, সরকারী রাজস্ব আত্বসাৎকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট তারা অনুরোধ জানিয়েছেন।
তারা আরো বলেন, এ ধরণের জঘন্য অপরাধ সিডিএর জম্মলগ্ন থেকে কখনো হয়নি। দুর্বল প্রশাসনের কারণে আজ আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।
তাদের সাথে আরো বেশ কয়েকজন বহিরাগত লোক সিন্ডিকেট করে এহেন অপকর্ম ও জালজালিয়াতিতে জড়িত রয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ। যাহা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।
ধারাবাহিক পর্ব-১



