কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার কারাবন্দী স্বামীকে দেখতে এসে অসহায়ত্ব দেখিয়ে কারাগারের পাশে শ্রমজীবী পরিবারে মানবিক আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারী। ভাত খেয়ে বিশ্রাম নেন, দুদিন পর স্বামী জেল থেকে বের হচ্ছে বলে রাত-দিন মিলে দুদিন অবস্থানের পর নিজের জন্য পান কিনতে যাবার কথা বলে বের হন ওই নারী। এসময় নাস্তা কিনে দেওয়ার আবদারে বাড়ির চার বছর বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে অপহরণ করেন।
তবে পুলিশি তৎপরতার মুখে রংবাহার নামের রোহিঙ্গা ওই নারীর শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার (৫ জুন) নিয়ে যাবার চারদিন পর অপহৃত শিশুটিকে রোববার সন্ধ্যার পর মহেশখালীর বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলী থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। এসময় অভিযুক্ত রোহিঙ্গা রংবাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রংবাহার উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, গত বুধবার কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসেন রংবাহার। দুপুরের দিকে কারাগারের দেয়ালের বাইরে চলাচলের পথের পাশে বসে থাকেন তিনি। এসময় পথ দিয়ে যাবার কালে স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন নামে একজনকে তিনি দাঁড় করিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার কথা বলেন। এতে দরিদ্র সাদ্দাম তার বউ সুমিকে কল করে রংবাহারকে নিয়ে যেতে বলেন। সুমি তাকে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করান। ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রংবাহার। সন্ধ্যায় রাতযাপনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করলে কারাগারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম ও স্ত্রী সুমি তাকে মানবিক আশ্রয় দেন।
পরিবারটির অভিযোগ, আশ্রয় নেয়ার সময় নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন রংবাহার।
পরিবারের দাবি, আশ্রয় নেওয়ার দুদিন পর নিজের জন্য পান কেনা ও নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে ৫ জুন সাদ্দামের চার বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন রংবাহার। এরপর শিশুকে নিয়ে দীর্ঘ সময় না ফেরায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রংবাহার গাড়িতে এবং বাচ্চাটির কান্না করছিল। বাসায় না এসে কোথায় যাওয়া হচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলে, তোমার বাচ্চা পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
পরিবারের অসচ্ছলতা ও তাকে মানবিকতা দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করলে রংবাহার বলেন, এত কথা শুনতে চাই না- টাকা না পেলে শিশুটিকে মেরে ফেলা হবে। একপর্যায়ে তিন কিস্তিতে অপহরণকারীদের দেওয়া নাম্বারে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। কিন্তু শিশুটিকে ফেরত দেয়নি তারা।
শিশুটির মা সুমি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মানবিক কারণে আমরা ওই নারীকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি, সে পরিকল্পিতভাবেই আমাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ। মানবতা দেখাতে গিয়ে জনমের শিক্ষা হয়েছে। কেউ ভুল করে অপরিচিত কাউকে বাসায় ঠাঁই দিবেন না, শিশু সন্তানদের কারো সঙ্গে দিবেন না।
এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে ধরে ফেলা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করে বলেন, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাংবাদিকরা মোবাইলে যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তি অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওই নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।




