বিশেষ প্রতিবেদক: চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদী আর চট্টগ্রামের অন্যতম দুঃখ ছিল হালিশহর পোর্ট কানেক্টিং সড়ক। নিমতলা বিশ্বরোড থেকে শুরু করে অলংকার পর্যন্ত সড়কের ছিল বেহাল অবস্থা। সড়কের গর্ত আর কাদামাটিতে সড়কটি এক প্রকার নিশ্চিহ্ন হতে বসছিল। সড়কের সংস্কার কাজ এতোই ধীরগতিতে চলছিল একদিকে সংস্কার করে আসলে অন্যদিকে আবারো গর্ত হয়ে যাচ্ছিল।
বছরের পর বছর এমন ভাঙা সড়কে ধুলাবালি আর যানজটের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব নিয়ে বেশ রম্য রচনাও হতো। কেউ কেউ লিখতো ‘বিশ্বরোড দিয়ে গেলে সবাই যেনো শুকনো খাবার আর পানি নিয়ে যায়’
সড়কের পাশে দোকানগুলোর ব্যবসা বাণিজ্য ছিল এক প্রকার বন্ধ। দোকানের পাশে বড় বড় গর্ত নিয়ে নিয়মিত লোকসান গুনতো দোকানিরা। সামাজিকভাবে স্থানীয় লোকজন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল বলেও শোনা যেতো। সড়কের বেহাল দশায় বাইরের আত্মীয় স্বজন তো বাসায় আসতোই না, বছরের পর বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার বন্ধ থাকায় নতুন আত্মীয়তায়ও বাইরের লোকজনকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল।
এতোসব দুঃসংবাদ আর দুর্ভোগ এর খবর এখন হালিশহরের মানুষের কাছে কেবল স্মৃতি । নিমতলা বিশ্বরোড মোড় থেকে অলংকার মোড় সড়ক এখন চট্টগ্রামের অন্যান্য সব সড়কের চেয়েও মসৃণ সুন্দর। ডিভাইডারে লাগানো গাছগুলো লোহার গ্রিলের ঘেরাওয়ে বড় হয়ে উঠছে। এই গাছগুলো আরো বড় হলে চট্টগ্রামে নতুন তৈরি একটা দীর্ঘ সবুজ সড়ক পেতে যাচ্ছে নগরবাসী।
সরেজমিনে সড়কের দুইপাশে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাতে স্থানীয় নারী-পুরুষদের হাঁটতে বের হতে দেখা যায়। দোকানিদের বাণিজ্যেও এসেছে নতুন গতি। ভাঙা সড়ক সংস্কার হবে সেই আশায় অপেক্ষায় থাকা অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও এখন আবারো আসতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম ‘ব্র্যান্ড শপ’ গুলো।
ইয়েলো, আড়ং এর মতো অভিজাত বস্ত্রের আউটলেটের সাথে এবার বাহারি সব খাবারের নতুন নতুন রেস্টুরেন্টও পুরোদমে চালু হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী আলী রিয়াজ সত্যবাণী’র সাথে আলাপে বলেন, দীর্ঘদিন আমরা এই সড়কে ‘কিয়ামত’ এর কষ্ট পেয়েছি। আমাদের সুজন সাহেব (খোরশেদ আলম সুজন) এই সড়ককে খাদ থেকে সড়কে তুলেছিল বলেই সড়ক দ্রুত সংস্কার হয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘সিটি গভর্নেন্স প্রকল্পের’ আওতায় প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬৮ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
বেশ কয়েকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোয় দাতা সংস্থাও ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের হস্তক্ষেপে এবং বর্তমান চসিক মেয়র রেজাউল করিমও বেশ কয়েকবার নিজে এসে পরিদর্শন করার পর প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়। যেটি বর্তমানে হালিশহরের জনজীবনও বদলে দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।




