প্রদীপ দাশ ,কক্সবাজার: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দানপত্র দলিল সম্পাদনে উৎসে কর নেওয়ার সরকারি বিধান নেই। অথচ কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হয়।

গত সোমবার সেখানে গিয়েছিলেন সদর উপজেলার ঝিলংজার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম। সম্প্রতি কেনা এক জমির জন্য তাঁর কাছ থেকে এই টাকা আদায় করেছেন এক মুহুরি। এমনকি তিনি অফিস খরচ বাবদ আদায় করেন আরও এক শতাংশ টাকা। ওই টাকা না দিলে আইনি জটিলতা দেখিয়ে দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখারও হুমকি দেওয়া হয় আরিফুলকে। জমি কেনাবেচা, মালিকানা বদলের প্রয়োজনে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সাধারণ মানুষের কাছে এ কার্যালয়টি যেন ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের হাটে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নানা কারণেই এক জমির মালিক বহুবার বদল হয়। কেনা সূত্রে, উত্তরাধিকার সূত্রে; দানসূত্রে বদল হয় জমির দলিল। এই বদল করতে গিয়ে পদে পদে টাকার খেলা চলে এখানে। রেজিস্ট্রি অফিসে গেলেই সেবাপ্রার্থীদের সামনে পিয়ন, উমেদার, নকলনবিশ এমনকি সাব-রেজিস্ট্রারও ভয়ংকর রূপে দেখা দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, শতাংশের হিসাব কষে ঘুষ নেন সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান। না দিলে কাজ তো হবেই না, উল্টো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। অবশেষে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েই কাজ করাতে হয় তাদের।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকার নির্ধারিত ফি আদায়ের তালিকা টানানোর কথা থাকলেও কক্সবাজারের এই কার্যালয়ে তা মানা হয় না। সরকারি তালিকায় বিভিন্ন প্রকৃতির দলিলের মধ্যে সাফ-কবলা, হেবা ঘোষণাপত্র, দানপত্র ও বন্ধকী দলিল সম্পাদনের জন্য পৃথক ফি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশকার, মুহুরিদের সিন্ডিকেট দলিল সম্পাদনে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। প্রতিটি দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে দলিলে উল্লিখিত জমির মূল্যের ওপর এক শতাংশ টাকা দিতেই হয়।

কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, মাসখানেক আগে একটি বণ্টননামা দলিল করতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে ‘খরচ’ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ এই দলিল সম্পাদনের সরকারি ফি মাত্র ১০০ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান সরকারি ফির কয়েকগুণ বণ্টননামার দলিলে সরকারি ফি ১০০, দিতে হয় লক্ষাধিক টাকা হেবা দলিলের ফি এক হাজার, গুনতে হয় ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। হেবা দলিল সম্পাদনার সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার টাকা। অথচ তিনি আদায় করেন ৫০ হাজার টাকার বেশি। বণ্টননামা দলিলের সরকারি ফি ১০০ টাকা হলেও নেন লাখের ওপর। একটি সাফ-কবলা দলিল সম্পাদনে সরকারি ফি জমির মোট মূল্যের ওপর প্রতি লাখে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এখানে আদায় করা হয় লাখে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এর ওপর অফিসকে দিতে হয় জমির মোট মূল্যের আরও ১ শতাংশ। দলিলের নকল তুলতে গেলে বছরপ্রতি সরকারি ফি মাত্র ২০ টাকা। অথচ এখানে আদায় করা হয় চার হাজার টাকা।

দলিল লেখকদের দেওয়া তথ্যমতে, সাফ-কবলা দলিলের সরকারি নির্ধারিত সাড়ে ৭ শতাংশ। অথচ দেড় শতাংশ ফি সাব-রেজিস্ট্রারকে ও অফিস খরচ হিসেবে দিতে হয়। ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দলিলে সরকারি ফি আসে দেড় লাখ টাকা। কিন্তু ওই দলিল করতে খরচ হচ্ছে অন্তত ২ লাখ টাকা। প্রতিদিন এখানে এমন দলিল হচ্ছে অন্তত ৬০-৭০টি। সেই হিসাবে দিনে অন্তত ৪-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রার।

তারা আরও জানিয়েছেন, দলিল লিখে সাব-রেজিস্ট্রারের হাতে দেওয়ার আগে অফিস সহকারী দলিলটি যাচাই করেন। এ সময় তাঁকে ২০০ টাকা দিতে হয়। কাগজপত্রে টুকটাক ত্রুটি থাকলেই টাকার অঙ্ক বাড়ে। তখন অফিস সহকারীর সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। আবার দলিল সম্পন্ন হলে দলিলদাতা যে কাগজে টিপসই দেন, সেখানেও ১০০ টাকা দিতে হয়।

প্রশ্ন করলে কক্সবাজার সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা এখানে নেওয়া হয় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে ঘুষের অন্যতম হাট হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। এখানে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করলে সরকারি সেবা যেমন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বাড়বে।

প্রদীপ দাশ ,কক্সবাজার: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দানপত্র দলিল সম্পাদনে উৎসে কর নেওয়ার সরকারি বিধান নেই। অথচ কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হয়।

গত সোমবার সেখানে গিয়েছিলেন সদর উপজেলার ঝিলংজার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম। সম্প্রতি কেনা এক জমির জন্য তাঁর কাছ থেকে এই টাকা আদায় করেছেন এক মুহুরি। এমনকি তিনি অফিস খরচ বাবদ আদায় করেন আরও এক শতাংশ টাকা। ওই টাকা না দিলে আইনি জটিলতা দেখিয়ে দলিল সম্পাদন বন্ধ রাখারও হুমকি দেওয়া হয় আরিফুলকে। জমি কেনাবেচা, মালিকানা বদলের প্রয়োজনে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আসা সাধারণ মানুষের কাছে এ কার্যালয়টি যেন ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের হাটে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নানা কারণেই এক জমির মালিক বহুবার বদল হয়। কেনা সূত্রে, উত্তরাধিকার সূত্রে; দানসূত্রে বদল হয় জমির দলিল। এই বদল করতে গিয়ে পদে পদে টাকার খেলা চলে এখানে। রেজিস্ট্রি অফিসে গেলেই সেবাপ্রার্থীদের সামনে পিয়ন, উমেদার, নকলনবিশ এমনকি সাব-রেজিস্ট্রারও ভয়ংকর রূপে দেখা দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, শতাংশের হিসাব কষে ঘুষ নেন সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান। না দিলে কাজ তো হবেই না, উল্টো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। অবশেষে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েই কাজ করাতে হয় তাদের।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকার নির্ধারিত ফি আদায়ের তালিকা টানানোর কথা থাকলেও কক্সবাজারের এই কার্যালয়ে তা মানা হয় না। সরকারি তালিকায় বিভিন্ন প্রকৃতির দলিলের মধ্যে সাফ-কবলা, হেবা ঘোষণাপত্র, দানপত্র ও বন্ধকী দলিল সম্পাদনের জন্য পৃথক ফি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশকার, মুহুরিদের সিন্ডিকেট দলিল সম্পাদনে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। প্রতিটি দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে দলিলে উল্লিখিত জমির মূল্যের ওপর এক শতাংশ টাকা দিতেই হয়।

কক্সবাজার শহরের বাহারছড়ার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, মাসখানেক আগে একটি বণ্টননামা দলিল করতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে ‘খরচ’ হিসেবে আদায় করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ এই দলিল সম্পাদনের সরকারি ফি মাত্র ১০০ টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান সরকারি ফির কয়েকগুণ বণ্টননামার দলিলে সরকারি ফি ১০০, দিতে হয় লক্ষাধিক টাকা হেবা দলিলের ফি এক হাজার, গুনতে হয় ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন। হেবা দলিল সম্পাদনার সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার টাকা। অথচ তিনি আদায় করেন ৫০ হাজার টাকার বেশি। বণ্টননামা দলিলের সরকারি ফি ১০০ টাকা হলেও নেন লাখের ওপর। একটি সাফ-কবলা দলিল সম্পাদনে সরকারি ফি জমির মোট মূল্যের ওপর প্রতি লাখে সাড়ে ৭ হাজার টাকা। এখানে আদায় করা হয় লাখে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এর ওপর অফিসকে দিতে হয় জমির মোট মূল্যের আরও ১ শতাংশ। দলিলের নকল তুলতে গেলে বছরপ্রতি সরকারি ফি মাত্র ২০ টাকা। অথচ এখানে আদায় করা হয় চার হাজার টাকা।

দলিল লেখকদের দেওয়া তথ্যমতে, সাফ-কবলা দলিলের সরকারি নির্ধারিত সাড়ে ৭ শতাংশ। অথচ দেড় শতাংশ ফি সাব-রেজিস্ট্রারকে ও অফিস খরচ হিসেবে দিতে হয়। ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দলিলে সরকারি ফি আসে দেড় লাখ টাকা। কিন্তু ওই দলিল করতে খরচ হচ্ছে অন্তত ২ লাখ টাকা। প্রতিদিন এখানে এমন দলিল হচ্ছে অন্তত ৬০-৭০টি। সেই হিসাবে দিনে অন্তত ৪-৫ লাখ টাকা নিচ্ছেন সাব-রেজিস্ট্রার।

তারা আরও জানিয়েছেন, দলিল লিখে সাব-রেজিস্ট্রারের হাতে দেওয়ার আগে অফিস সহকারী দলিলটি যাচাই করেন। এ সময় তাঁকে ২০০ টাকা দিতে হয়। কাগজপত্রে টুকটাক ত্রুটি থাকলেই টাকার অঙ্ক বাড়ে। তখন অফিস সহকারীর সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। আবার দলিল সম্পন্ন হলে দলিলদাতা যে কাগজে টিপসই দেন, সেখানেও ১০০ টাকা দিতে হয়।

প্রশ্ন করলে কক্সবাজার সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো টাকা এখানে নেওয়া হয় না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, সরকারি অফিসগুলোর মধ্যে ঘুষের অন্যতম হাট হচ্ছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। এখানে ঘুষ দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করলে সরকারি সেবা যেমন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বাড়বে।