বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাসপাম্পে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোতাহের নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ভোরে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আবু তাহের ও আব্দু রহিম মারা যান। সর্বশেষ গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোতাহের। কয়েকদিন ধরে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা চললেও আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান।বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ছে অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রামে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য।
অনুমোদনহীন গ্যাসপাম্প, উঠেছে বড় প্রশ্ন এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্যাস পাম্পটির বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে পাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ কোনোটিই ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক ও পর্যটন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ গ্যাসপাম্প পরিচালনা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর রোববার (০১ মার্চ) রাতে থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী বিস্ফোরক এর সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন।
থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, গ্যাসপাম্পটির মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম (এন আলম) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস বা দাহ্য পদার্থ নিয়ে কাজ করা স্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
এদিকে নিহতদের পরিবার দ্রুত বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসপাম্প বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।




