রাজিব শর্মা: দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার পরও দেশের অন্যতম ভোগ্যপন্যের আড়ত চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জে সরবরাহ বেড়েছে দেশীয় চাষের মুড়িকাটা পেঁয়াজ।পাশাপাশি দামও রয়েছে বেশ স্বস্তির পর্যায়ে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আড়তপর্যায়ে কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৪ থেকে ৫ টাকা। এছাড়া কমতির দিকে স্বস্তির পর্যায়ে রয়েছে আদা, দেশী রসুনের মতো পচনশীল মসলাজাত পন্যও।
মঙ্গলবার রাত ও আজ বুধবার চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে ট্রাকে ট্রাকে নামানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাষের মুড়ি-কাটা পেঁয়াজ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে আমদানি মসলাজাত পণ্য চীন ও ভারতের কেরালার আদা। এছাড়া সরবরাহও বেড়েছে দেশীয় চাষের রসুনের। পাশাপাশি কমতি রয়েছে দেশী রসুনের দামও। তবে কিছুটা বেড়েছে আমদানি রসুনের দাম।
আড়তদারেরা জানান, জানুয়ারিতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করলেও এবার পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে দেশীয় চাষের পেঁয়াজের। পাশাপাশি এসব চাষের পেঁয়াজের সরবরাহও বেশ বেড়েছে। এছাড়া রমজান হওয়ায় গত এক মাস ধরে চাহিদা রয়েছে অনেক কম। যার কারনে দাম কমতির দিকে।
গতকাল আড়ত পর্যায়ে সাইজ ও জাতভেদে দেশের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩৫ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশীয় চাষের পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫ টাকার বেশি। এছাড়া কমেছে আমদানি আদার দামও। গতকাল আমদানির আদা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১০৮ টাকা। এসব আদা গত এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। বলা যায় আদার দামও বেশ কমেছে। আর দেশের চাষের ছোট সাইজের রসুন বিক্রিও হয়েছে শুধু ৬০ টাকায়। পাশাপাশি বেড়েছে সরবরাহও। এসব রসুন আগে বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। মসলাজাত রঞ্জকে সৌখিনতায় চীনের রসুনের মার্কেট বরাবরই ছিল উর্ধ্বে, দেশীয় রসুনের চাহিদা ছিল অনেক কম। কিন্তু আমদানির রসুনের দাম কিছুটা বাড়তি থাকায় ক্রেতারা ঝুঁকছে দেশীয় রসুনের বাজারে। চীনের আমদানি রসুন বিক্রি হয়েছে ২০৮ টাকার বেশি।
চাক্তাই ব্যবসায় সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, আড়তে পর্যাপ্ত পচনশীল পেঁয়াজ, রসুন ও আদা রয়েছে। চাহিদা কম থাকায় দাম রয়েছে স্বস্তির পর্যায়ে।
খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, ‘আড়তে যে পরিমান চাষের পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ঐ পেঁয়াজ কেনার ক্রেতা নেই। এখন ২০ টাকায় কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তবুও ক্রেতারা কিনছে না। অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বাজার নিয়ে চিন্তিত। ব্যবসায়ীরা মনে করছিল, আমদানি বন্ধ থাকলে পেঁয়াজের দাম কমবে। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র।’
তথ্যমতে, প্রতি বছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫-৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। গত এক বছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আট লাখ মেট্রিক টন।




