আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুরসহ ১০টি নিত্যপণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকায় থাকা ১০টি নিত্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, গম, আটা, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর। অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র স্থাপনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এলসি মার্জিন হলো ব্যবসায়ী বা আমদানিকারককে ঋণপত্র খোলার সময় ব্যাংকে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা সিকিউরিটি। এই মার্জিন হার কম থাকলে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মূলধনের ওপর চাপ কমে, যা ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকদের সহজে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দেয়। এর ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিপরীতে, ১০০ শতাংশ বা উচ্চ হারে মার্জিন থাকলে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ব্যাংকে আটকে যায়, যা আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রতিবছর রমজান মাসে ইফতার ও সাহ্রির আয়োজনে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা ও খেজুরের মতো পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও করপোরেট ইফতার পার্টি এবং ভোক্তাদের রমজানের শুরুতেই পণ্য কিনে ঘরে রাখার প্রবণতা বাজারে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত চাহিদার চাপ সৃষ্টি করে। এই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।




