সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে গড়া ৩৫৬ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে সতর্ক সূচনা করলেও চাপ এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৮ রান। ফলে সফরকারীদের চেয়ে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ দল। দিন শেষে অপরাজিত ৩৭ রানের জুটিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম।
এর আগে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গু ১৩৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস করেন ৫১ রান। শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের বেশ কিছুক্ষণ ভোগান জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস। এই দুজন শেষ উইকেটে যোগ করেন মূল্যবান ৩৩ রান। শেষ পর্যন্ত ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা।
বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচে ৬টি উইকেট নেন তিনি, যা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়ার অর্জন। একই সঙ্গে প্রথম বাংলদেশি পেসার হিসেবে টেস্টে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন হাসান। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম খেলতে না পারায় ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। তবে তিনি বেশি দূর এগোতে পারেননি; মাত্র ৫ রান করে জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ১৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন।
মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া বাংলাদেশকে পথ দেখান তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। উইকেটে জমে গিয়ে দিনশেষে বাংলাদেশকে আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি তারা। হৃদয় ২৯ রান এবং মুশফিক ১৯ রান নিয়ে ক্রিজে অপরাজিত রয়েছেন। তৃতীয় দিনে এই অবিচ্ছিন্ন জুটির ওপর ভর করেই খেলায় ফেরার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।



