জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক আসামির অব্যাহতি পাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ক্ষমতায় না থাকা সত্ত্বেও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার অব্যাহতি পাওয়া প্রমাণ করে যে বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসিকিউটর তামীম উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের হত্যার পর লাশ গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তবে বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ায় সব আসামিই যে প্রকৃত অপরাধী নন বা সব অভিযোগ যে সত্য নয়, সেই বাস্তবতা এখন পুলিশের পেশাদার তদন্ত প্রতিবেদনে ফুটে উঠছে। যথাযথ প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক।
তদন্ত প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ‘দ্বিচারিতা’ তুলে ধরে তামীম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করা হলে এক পক্ষ সমালোচনা করে, আবার অব্যাহতি পেলে অন্য পক্ষ তাকে স্বাগত জানায়—এটি এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাসহ যাদের যেসব মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে, সেটা যেমন মেনে নেয়া হয়েছে; তেমনি যেসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোকে সত্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। কারণ উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে যেমন জড়ানো হচ্ছে না, তেমনি তথ্য-প্রমাণ মিললেই কেবল অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার কারণেই ভিত্তিহীন বা মিথ্যা অভিযোগগুলো তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
তামীম আরও বলেন, অতীতে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায়শই ঢালাও প্রতিবেদন দাখিল করা হতো, যা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক প্রশংসনীয়। প্রমাণ না থাকলে শেখ হাসিনা তো বটেই, যে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিরই মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার এই চর্চাকে আইনের সঠিক প্রয়োগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।




