চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথ অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ হারাতে পারেন। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি আবেদনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে, যেখানে আবেদনের শেষ সময় আগামী ১০ ডিসেম্বর।
গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন দুই লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন এক লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সর্বমোট চার লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী এই সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষর করা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণ চলবে এবং ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পরীক্ষা আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশনা প্রয়োজন, কারণ বিদ্যমান বিধিমালায় এর সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সূচি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের শেষ সময় ২৫ নভেম্বর, অথচ সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ আবেদন শেষ হওয়ার ৩৬ দিন পর ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর আইবিএ ইউনিটের মাধ্যমে। এরপর ১২ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, ১৯ ডিসেম্বর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান, ২২ ডিসেম্বর চারুকলা এবং ২৬ ডিসেম্বর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে ১২ নভেম্বর, শেষ হবে ২৭ নভেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ৮, ৯ ও ১৬ জানুয়ারি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে আবেদন ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ১০ ডিসেম্বর শেষ হবে, যেখানে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ১ জানুয়ারি। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও ১৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২৯ জানুয়ারি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ১০ থেকে ২১ জানুয়ারি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি, বুয়েটে ১৬ জানুয়ারি এবং রুয়েটে ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি এবং সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছের পরীক্ষা ১৯, ২০ ও ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষা ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর এবং কুয়েটের পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের আবেদনের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আল-আমিন জানিয়েছেন, এটি একটি নতুন পদ্ধতি হওয়ায় ভর্তি কমিটির সভায় আলোচনার মাধ্যমে প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সম্পূরক (সাপ্লিমেন্টারি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করার সুযোগ হারাতে পারেন। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন শেষ হবে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে। অথচ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন শুরু হবে ১১ নভেম্বর, চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। অন্যদিকে সম্পূরক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ আবেদন শেষ হওয়ার ৩৬ দিন পর ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।




