বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো সাধারণ চুক্তি নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পবিত্র বিধান এবং পরিবার গঠনের মূল ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের বৈধ মাধ্যম হিসেবে আল্লাহ বিয়ের বিধান দিয়েছেন। দাম্পত্য জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা, প্রশান্তি এবং আত্মার তৃপ্তি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।' (সুরা রুম, আয়াত: ২১)। এছাড়া বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, 'বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।' (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)।

বিয়ের মাধ্যমে দুজন মানুষ অসংখ্য স্বপ্নের জাল বুনে একটি মধুময় সম্পর্ক গড়ে তোলে। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে শুরু হওয়া এই পথযাত্রায় মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত হয়। তবে কখনো কখনো কালবৈশাখী ঝড়ের মতো সংসারে বিচ্ছেদের কালো ছায়া নেমে আসে। বিচ্ছেদ বন্ধুত্বের হোক কিংবা বৈবাহিক বন্ধনের, তা সবসময়ই পীড়াদায়ক। সমাজবিজ্ঞানীরা বিচ্ছেদপ্রবণতা বাড়ার পেছনে ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বাস ও মূল্যবোধের চর্চা, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের হক সম্পর্কে সচেতনতা, বিনয়, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা, সন্দেহপ্রবণতা ত্যাগ করা, পর্দা রক্ষা করা, পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে মেলামেশা থেকে বিরত থাকা এবং যৌতুকবিহীন বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া—এসবই ধর্মীয় অনুশাসনের অন্তর্ভুক্ত। এসব মানা হয় না বলেই বিচ্ছেদের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে।

ইসলামে ডিভোর্স বা তালাককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল হচ্ছে তালাক।' (ইবনে মাজাহ: ২০১৮)। অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে নারী তার স্বামীর কাছে বিনা কারণে তালাক প্রার্থনা করে, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত হারাম।' (ইবনে মাজাহ: ২০৫৫)।

দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল, রাগ-অভিমান বা মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য প্রথমেই কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সন্দেহপ্রবণতা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসের ভিত গড়ে তোলা জরুরি। ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষায় শেষ পর্যন্ত প্রয়াসী হতে হবে। যদি মনোমালিন্য বড় আকার ধারণ করে, তবে পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৩৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশ নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহতায়ালা তাদের নেক নিয়ত ও সঠিক চেষ্টার বদৌলতে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন।

দাম্পত্য জীবন সুদৃঢ় রাখতে স্বামীকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রিয়নবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সফলতম স্বামী। তিনি নিয়মিত স্ত্রীদের প্রশংসা করতেন এবং ভালো কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, 'আমি রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে থেকে খাদিজা (রা.)-এর চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি বেশি ঈর্ষাপোষণ করিনি। কারণ রাসুল (সা.) প্রায়ই তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।' (বোখারি: ৫২২৯)। এছাড়া অনেক সময় মানুষ মনের বিষণ্ণতা দূর করতে অন্যের কাছে প্রিয়জনের সমালোচনা করে, যা সংসারে কলহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য, যারা অগ্র-পশ্চাতে দোষ বলে বেড়ায়।' (সুরা হুমাজাহ: ১)।

নবীজি (সা.) সমাজের নেতা হওয়া সত্ত্বেও ঘরের ভেতর স্ত্রীদের সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করতেন। হজরত আসওয়াদ (রহ.) বলেন, আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল নবীজি (সা.) ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বলেছিলেন, 'ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন।' (বোখারি: ৬৭৬)। অনেক পরিবারে স্ত্রী সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও স্বামীর মন পায় না, যা চরম অন্যায় ও জুলুম। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে সেই ভালো যে তার পরিবারের কাছে ভালো। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম।' (তিরমিজি: ৩৮৯৫)। নারীকে পুরুষের অনুগামী করে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই পুরুষ যেমন ব্যবহার করবে নারীও অনুরূপ ব্যবহারে অভ্যস্ত হবে। সংসারের পরিচালক হিসেবে পুরুষের ওপরই প্রধান দায়িত্ব অর্পিত। নবীজি (সা.) স্ত্রীদের হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতেন, তাদের নাম ধরে ডাকতেন এবং তাদের আবেগ ও চাহিদার প্রতি যত্নশীল ছিলেন, যা দাম্পত্য জীবনকে মধুময় করে তোলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো সাধারণ চুক্তি নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পবিত্র বিধান এবং পরিবার গঠনের মূল ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের বৈধ মাধ্যম হিসেবে আল্লাহ বিয়ের বিধান দিয়েছেন। দাম্পত্য জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা, প্রশান্তি এবং আত্মার তৃপ্তি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।' (সুরা রুম, আয়াত: ২১)। এছাড়া বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, 'বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।' (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)।

বিয়ের মাধ্যমে দুজন মানুষ অসংখ্য স্বপ্নের জাল বুনে একটি মধুময় সম্পর্ক গড়ে তোলে। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে শুরু হওয়া এই পথযাত্রায় মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত হয়। তবে কখনো কখনো কালবৈশাখী ঝড়ের মতো সংসারে বিচ্ছেদের কালো ছায়া নেমে আসে। বিচ্ছেদ বন্ধুত্বের হোক কিংবা বৈবাহিক বন্ধনের, তা সবসময়ই পীড়াদায়ক। সমাজবিজ্ঞানীরা বিচ্ছেদপ্রবণতা বাড়ার পেছনে ধর্মীয় অনুশাসনের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিশ্বাস ও মূল্যবোধের চর্চা, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের হক সম্পর্কে সচেতনতা, বিনয়, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা, সন্দেহপ্রবণতা ত্যাগ করা, পর্দা রক্ষা করা, পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে মেলামেশা থেকে বিরত থাকা এবং যৌতুকবিহীন বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া—এসবই ধর্মীয় অনুশাসনের অন্তর্ভুক্ত। এসব মানা হয় না বলেই বিচ্ছেদের মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে।

ইসলামে ডিভোর্স বা তালাককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল হচ্ছে তালাক।' (ইবনে মাজাহ: ২০১৮)। অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে নারী তার স্বামীর কাছে বিনা কারণে তালাক প্রার্থনা করে, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণ পর্যন্ত হারাম।' (ইবনে মাজাহ: ২০৫৫)।

দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল, রাগ-অভিমান বা মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য প্রথমেই কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সন্দেহপ্রবণতা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসের ভিত গড়ে তোলা জরুরি। ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষায় শেষ পর্যন্ত প্রয়াসী হতে হবে। যদি মনোমালিন্য বড় আকার ধারণ করে, তবে পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৩৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী দুই পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশ নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহতায়ালা তাদের নেক নিয়ত ও সঠিক চেষ্টার বদৌলতে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন।

দাম্পত্য জীবন সুদৃঢ় রাখতে স্বামীকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রিয়নবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সফলতম স্বামী। তিনি নিয়মিত স্ত্রীদের প্রশংসা করতেন এবং ভালো কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, 'আমি রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে থেকে খাদিজা (রা.)-এর চেয়ে অন্য কোনো স্ত্রীর প্রতি বেশি ঈর্ষাপোষণ করিনি। কারণ রাসুল (সা.) প্রায়ই তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন।' (বোখারি: ৫২২৯)। এছাড়া অনেক সময় মানুষ মনের বিষণ্ণতা দূর করতে অন্যের কাছে প্রিয়জনের সমালোচনা করে, যা সংসারে কলহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, 'ধ্বংস তাদের জন্য, যারা অগ্র-পশ্চাতে দোষ বলে বেড়ায়।' (সুরা হুমাজাহ: ১)।

নবীজি (সা.) সমাজের নেতা হওয়া সত্ত্বেও ঘরের ভেতর স্ত্রীদের সাংসারিক কাজে সহযোগিতা করতেন। হজরত আসওয়াদ (রহ.) বলেন, আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল নবীজি (সা.) ঘরে থাকা অবস্থায় কী করতেন? তিনি বলেছিলেন, 'ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিবারের কাজে সহায়তা করতেন।' (বোখারি: ৬৭৬)। অনেক পরিবারে স্ত্রী সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও স্বামীর মন পায় না, যা চরম অন্যায় ও জুলুম। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে সেই ভালো যে তার পরিবারের কাছে ভালো। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম।' (তিরমিজি: ৩৮৯৫)। নারীকে পুরুষের অনুগামী করে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই পুরুষ যেমন ব্যবহার করবে নারীও অনুরূপ ব্যবহারে অভ্যস্ত হবে। সংসারের পরিচালক হিসেবে পুরুষের ওপরই প্রধান দায়িত্ব অর্পিত। নবীজি (সা.) স্ত্রীদের হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসতেন, তাদের নাম ধরে ডাকতেন এবং তাদের আবেগ ও চাহিদার প্রতি যত্নশীল ছিলেন, যা দাম্পত্য জীবনকে মধুময় করে তোলার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।