খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: সাজেকের অবরোধ এক দিনের জন্য শিথিলের জবাবে পাল্টা কর্মসূচী হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা দীঘিনালা উপজেলা হতে টুরিজম স্পর্ট সাজেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির দিনব্যাপী অবরোধ শান্তিপুর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার নেন্সি বাজার সড়কে কঠোর অবরুদ্ধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার(০১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সড়কটিতে দীঘিনালা -খাগড়াছড়ি সড়কে কঠোর অবরুদ্ধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে এই অবরোধ পালিত হয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়ক ও দীঘিনালা সড়কে ১২ঘন্টার কঠোর অবরোধ শুরু করে শান্তিপুর্ন ভাবে শেষ হয়েছে।

আজ রোববার(০১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাজেক পর্যটন সড়ক থেকে দীঘিনালা সড়কে এই অবরোধ পালন করা হয়েছে। সকাল থেকেই দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে এই অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি, লংগদু এবং সাজেকের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে সারাদেশের।

অবরোধ চলাকালীন সময়ে পিকেটাররা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি, বাঁশ, ইট ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করেছেন। দীঘিনালা, বাঘাইহাট ১০নম্বর ও কাঁঠালতলী এলাকায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ঘোষিত এই অবরোধে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির দিনব্যাপী সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়ক ও দীঘিনালা সড়কে দিনব্যাপী কঠোর অবরোধ পালিত হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দিনব্যাপী অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ইউনিয়নে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দেশবিরোধী সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং পর্যটন শিল্পে বাধা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লাগাতার অবরোধে জিম্মি করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এবং সংবাদকর্মীদের যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত ছিল। অবরোধ ডাকা সংগঠনটি কোন দলের সমর্থক গোষ্ঠী তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ঘন্টায়মঅবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং এবং সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।

এর আগে শনিবার দুপুওে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সশস্ত্র গ্রুুপের সাথে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের( ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে উভয় পক্ষের কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছিলো।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছিল। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, এসব সশস্ত্র সদস্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে, বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রোববার(০১ নভেম্বর) এক দিনের জন্য সাজেক সড়কে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মাসব্যাপী ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চলাচলের জন্য যানবাহন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী দুই সংগঠনের নেতারা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকবে। পরদিন সোমবার(০২ নভেম্বর) থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

রোববার বাঘাইহাট বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। দোকানদাররা দীঘিনালা থেকে যেসব মালামাল নিয়ে এসেছেন সেগুলো বাঘাইহাট সেনা জোনে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হাট- বাজার মোটামুটি চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাচলং ও গঙ্গারাম এলাকার কলা ব্যবসায়ীরা যেসব কলা ক্রয় করেছেন সেগুলো নিতে পারছেন না বলেও খবর পাওয়া গেছে। সেটলাররা দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ির দিকে গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় তারা এ সমস্যায় পড়েছেন।

পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা আবারও গঙ্গারাম এলাকার ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত শনিবার তারা সেখানে এসে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়েছিল। পরে সেখান থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান থেকে এক কিলোমিটারের কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সন্তু গ্রুুপের সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর কোন যোগসাজশ রয়েছে কি-না তা নিয়ে এলাকাবাসী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উল্টো সাজেকবাসীর আন্দোলন বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে মাচলং এলাকা থেকে গঙ্গারাম এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য জেলার রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। টুরিজম ষ্পর্ট সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধ অব্যাহত রয়েছে কিন্তু যানবাহন চলাচল করছে না। এলকার খাদ্য সংকট ও কঠিন চীবরদান উপলক্ষে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ একদিন শিথিল থাকার কথা। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাচলং সেনা ক্যাম্প থেকে আমাকে পুলিশ ফোর্স পাঠাতে বলা হয়। দুর পাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি।

সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর এ হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বর্তমানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট পাহাড়ি জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে অবিলম্বে এ কৃত্রিম সংকট বন্ধে সরকারকে দ্রুুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। বিবৃতিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন-গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী,গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ,বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন।

সাজেক ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খুন, অপহরণ, হয়রানি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, গ্রামবাসীদের বেগার খাটানো, কথায় কথায় বাজার অবরোধ, সড়ক অবরোধ,জনগণের সম্পত্তি ধ্বংসসহ নানা সন্ত্রাসী ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এপর্যন্ত এইম এলাকায় তারা বহু নিরীহ মানুষ, চুক্তির সমর্থক গ্রামবাসীকে অপহরণ, খুন ও মারধর করেছে। তবে ইতোমধ্যে তারা বহু এলাকায় জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণায় ১৫ই অক্টোবর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

অপরদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)’র মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন, “মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে।”

অপর এক বিবৃতিতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা বিবৃতিতে বলেছেন, “সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রুুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে না নিয়ে, তাদের অত্যাচার ও সশস্ত্র সন্ত্রাস বন্ধ না করে, উল্টো নিরীহ সাজেকবাসীর উপর বিনা উস্কানিতে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এই হামলা সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ বিগেড’র ভাষ্যমতে, পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার। তবে ইউপিডিএফ সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির খবর সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। পার্বত্য রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)। এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাজেকে ভ্রমণরত অবস্থায় আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে ২০৩ব্রিগেড’র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইএসপিআরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা, পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্ধিসঢ়;নত হওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় আইএসপিআর।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)র মুখপাত্র অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে বলেন, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকাসহ কতিপয় সংবাদ মাধ্যমে বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি চলেছে বলে যে খবর প্রচার করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যায়িত করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। গত বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলে এমন খবরের সত্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মেলেনি। মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইউপিডিএফের অংগ্য মারমা আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর ববর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে সাজেকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে উক্ত এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সাজেক যাওয়ার বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো: জসিম বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছেন। যার কারণে খাগড়াছড়ি -রাংগামাটি-সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান। সাজেক ১০নম্বর ও ১৪কিলোমিটার এলাকায় আমাদের পিকেটিং চলছে।’

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব ঘটনার গত বুহষ্পতিবার দুপুরে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য জখম হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহর ছেড়ে যাচ্ছে এমন সময় সাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ ৬জন আহত হয়েছে। রাঙামাটির সাজেক সড়কের উজোবাজারে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পর্যটকবাহী যানবাহন পার করে দেওয়ার জন্য সড়কের ব্যারিকেড সরানোর আহ্বান জানালে অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অবরোধকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলেও সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দিঘীনালার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পার্বত্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’রাঙামাটির পার্বত্য জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, অবগত হয়েছি, আমলা চাচ্ছি যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম তারা ৫দফা দাবী দিয়েছে। আমরা তাদের সাথে বসব। এটি দৃশ্যমান না, ওদের সাথে বসতে চায়, আমরা সরকারের আলোচনা বিশ্বাসী। আমরা আশা করছি, অচিরেই তা সমাধান হবে।

প্রসঙ্গত, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) ‘সশস্ত্র সদস্যদের’ সরিয়ে নেয়াসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তৃতীয় দফায় রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডাকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন নামে স্থানীয় দুটি সংগঠন। তবে সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ ঘনিষ্ঠ। সাজেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগটি বরাবরই অসত্য বলে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস)। এ নিয়ে চার দফায় অবরোধ কর্মসূচির জেরে এখন থমথমে সাজেক উপত্যকা।

 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: সাজেকের অবরোধ এক দিনের জন্য শিথিলের জবাবে পাল্টা কর্মসূচী হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা দীঘিনালা উপজেলা হতে টুরিজম স্পর্ট সাজেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির দিনব্যাপী অবরোধ শান্তিপুর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার নেন্সি বাজার সড়কে কঠোর অবরুদ্ধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার(০১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সড়কটিতে দীঘিনালা -খাগড়াছড়ি সড়কে কঠোর অবরুদ্ধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে এই অবরোধ পালিত হয়েছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়ক ও দীঘিনালা সড়কে ১২ঘন্টার কঠোর অবরোধ শুরু করে শান্তিপুর্ন ভাবে শেষ হয়েছে।

আজ রোববার(০১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাজেক পর্যটন সড়ক থেকে দীঘিনালা সড়কে এই অবরোধ পালন করা হয়েছে। সকাল থেকেই দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কঠোরভাবে এই অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি, লংগদু এবং সাজেকের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে সারাদেশের।

অবরোধ চলাকালীন সময়ে পিকেটাররা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি, বাঁশ, ইট ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করেছেন। দীঘিনালা, বাঘাইহাট ১০নম্বর ও কাঁঠালতলী এলাকায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ঘোষিত এই অবরোধে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির দিনব্যাপী সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাজেক পর্যটন সড়ক ও দীঘিনালা সড়কে দিনব্যাপী কঠোর অবরোধ পালিত হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দিনব্যাপী অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ইউনিয়নে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর দেশবিরোধী সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং পর্যটন শিল্পে বাধা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লাগাতার অবরোধে জিম্মি করার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এবং সংবাদকর্মীদের যানবাহন এই অবরোধের আওতামুক্ত ছিল। অবরোধ ডাকা সংগঠনটি কোন দলের সমর্থক গোষ্ঠী তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ঘন্টায়মঅবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং এবং সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন।

এর আগে শনিবার দুপুওে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সশস্ত্র গ্রুুপের সাথে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের( ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের বন্ধুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে উভয় পক্ষের কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছিলো।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছিল। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, এসব সশস্ত্র সদস্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এতে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে, বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রোববার(০১ নভেম্বর) এক দিনের জন্য সাজেক সড়কে অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মাসব্যাপী ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চলাচলের জন্য যানবাহন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য আলোচনা সাপেক্ষে বিশেষ শিথিলতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী দুই সংগঠনের নেতারা। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিহার কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকবে। পরদিন সোমবার(০২ নভেম্বর) থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

রোববার বাঘাইহাট বাজারের সাপ্তাহিক হাটবার। দোকানদাররা দীঘিনালা থেকে যেসব মালামাল নিয়ে এসেছেন সেগুলো বাঘাইহাট সেনা জোনে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হাট- বাজার মোটামুটি চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাচলং ও গঙ্গারাম এলাকার কলা ব্যবসায়ীরা যেসব কলা ক্রয় করেছেন সেগুলো নিতে পারছেন না বলেও খবর পাওয়া গেছে। সেটলাররা দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ির দিকে গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় তারা এ সমস্যায় পড়েছেন।

পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা আবারও গঙ্গারাম এলাকার ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত শনিবার তারা সেখানে এসে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়েছিল। পরে সেখান থেকে কিছুটা দূরে সরে যায়। সেনাবাহিনীর একটি দল সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থান থেকে এক কিলোমিটারের কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সন্তু গ্রুুপের সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর কোন যোগসাজশ রয়েছে কি-না তা নিয়ে এলাকাবাসী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে উল্টো সাজেকবাসীর আন্দোলন বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে মাচলং এলাকা থেকে গঙ্গারাম এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

সাজেকের উজোবাজারে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য জেলার রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালনকালে সেনা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। টুরিজম ষ্পর্ট সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অবরোধ অব্যাহত রয়েছে কিন্তু যানবাহন চলাচল করছে না। এলকার খাদ্য সংকট ও কঠিন চীবরদান উপলক্ষে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ একদিন শিথিল থাকার কথা। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাচলং সেনা ক্যাম্প থেকে আমাকে পুলিশ ফোর্স পাঠাতে বলা হয়। দুর পাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি।

সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের ওপর এ হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বর্তমানে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট পাহাড়ি জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে অবিলম্বে এ কৃত্রিম সংকট বন্ধে সরকারকে দ্রুুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। বিবৃতিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন-গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট ও সভাপতি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকী,গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ,বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দীন।

সাজেক ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা খুন, অপহরণ, হয়রানি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, গ্রামবাসীদের বেগার খাটানো, কথায় কথায় বাজার অবরোধ, সড়ক অবরোধ,জনগণের সম্পত্তি ধ্বংসসহ নানা সন্ত্রাসী ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এপর্যন্ত এইম এলাকায় তারা বহু নিরীহ মানুষ, চুক্তির সমর্থক গ্রামবাসীকে অপহরণ, খুন ও মারধর করেছে। তবে ইতোমধ্যে তারা বহু এলাকায় জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।

অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণায় ১৫ই অক্টোবর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

অপরদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)’র মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেছেন, “মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে।”

অপর এক বিবৃতিতে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি উষাতন চাকমা বিবৃতিতে বলেছেন, “সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবি এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রুুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে না নিয়ে, তাদের অত্যাচার ও সশস্ত্র সন্ত্রাস বন্ধ না করে, উল্টো নিরীহ সাজেকবাসীর উপর বিনা উস্কানিতে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এই হামলা সন্ত্রাসীদের রক্ষার জন্যই করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ বিগেড’র ভাষ্যমতে, পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার। তবে ইউপিডিএফ সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির খবর সত্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। পার্বত্য রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ)। এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাজেকে ভ্রমণরত অবস্থায় আটকা পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দিতে ২০৩ব্রিগেড’র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আইএসপিআরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা, পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্ধিসঢ়;নত হওয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় আইএসপিআর।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)র মুখপাত্র অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে বলেন, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকাসহ কতিপয় সংবাদ মাধ্যমে বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি চলেছে বলে যে খবর প্রচার করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যায়িত করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। গত বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার জনগণের সাথে কথা বলে এমন খবরের সত্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ মেলেনি। মূলত পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ন্যায্য দাবিতে সাজেকবাসীর চলমান শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরা একতরফা বিভিন্ন দিকে গুলি বর্ষণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইউপিডিএফের অংগ্য মারমা আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের উপর ববর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে সাজেকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে উক্ত এলাকা থেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেওয়ার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সাজেক যাওয়ার বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো: জসিম বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছেন। যার কারণে খাগড়াছড়ি -রাংগামাটি-সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান। সাজেক ১০নম্বর ও ১৪কিলোমিটার এলাকায় আমাদের পিকেটিং চলছে।’

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব ঘটনার গত বুহষ্পতিবার দুপুরে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনীর তিন থেকে চারজন এবং পুলিশের দুই সদস্য জখম হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টার এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় অবরোধকারীদের হামলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহর ছেড়ে যাচ্ছে এমন সময় সাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় সেনা-পুলিশসহ ৬জন আহত হয়েছে। রাঙামাটির সাজেক সড়কের উজোবাজারে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পর্যটকবাহী যানবাহন পার করে দেওয়ার জন্য সড়কের ব্যারিকেড সরানোর আহ্বান জানালে অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে অবরোধকারীরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে দুপুর একটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ব্যাপক গুলিবিনিময় চলে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হলেও সাজেকে অবস্থানরত সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দিঘীনালার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পার্বত্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’রাঙামাটির পার্বত্য জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার(ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, রাঙামাটি সে রকম পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক সাধারন মানুষ চলাচল করছে। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, অবগত হয়েছি, আমলা চাচ্ছি যে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম তারা ৫দফা দাবী দিয়েছে। আমরা তাদের সাথে বসব। এটি দৃশ্যমান না, ওদের সাথে বসতে চায়, আমরা সরকারের আলোচনা বিশ্বাসী। আমরা আশা করছি, অচিরেই তা সমাধান হবে।

প্রসঙ্গত, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(পিসিজেএসএস) ‘সশস্ত্র সদস্যদের’ সরিয়ে নেয়াসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও তৃতীয় দফায় রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডাকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন নামে স্থানীয় দুটি সংগঠন। তবে সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ ঘনিষ্ঠ। সাজেকে জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগটি বরাবরই অসত্য বলে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(পিসিজেএসএস)। এ নিয়ে চার দফায় অবরোধ কর্মসূচির জেরে এখন থমথমে সাজেক উপত্যকা।